আন্তর্জাতিক আর্ট ফেস্টিভ্যালে বিচারকের ভূমিকায় বঙ্গতনয়া স্বাতী ঘোষ

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আর্ট ফেস্টিভ্যালে বিচারক হিসাবে আমন্ত্রণ পেলেন বঙ্গতনয়া স্বাতী ঘোষ (Swati Ghosh)। ইন্টারন্যাশনাল কালচার অ্যান্ড আর্ট ফেডারেশন ও ‌‌ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামের যৌথ আয়োজনে চলবে এই প্রদর্শনী। সেই মঞ্চে প্রথম মহিলা এবং একমাত্র বাঙালি হিসাবে জায়গা করে নিলেন স্বাতী। কিন্তু এক বছর আগে ছবিটা ছিল অন্যরকম। আজ এই সাফল্যের পথ চলা শুরু তখনই।

করোনার জেরে দীর্ঘ লকডাউন, এই কঠিন পরিস্থিতি অনেকের জীবনে অভিশাপ হলেও অনেকের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তেমনই বঙ্গতনয়া স্বাতী ঘোষের কাহিনিও অনেকটাই এই রকম। স্বামীর কর্মসূত্রে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান স্বাতী, কিন্তু অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায় ৷

Shyamsundar

লকডাউনের জেরে বন্ধ হতে থাকে দেশে ফেরার বিমান। ফলে দেশে ফেরা হয় না। স্বাতী একদিন জানতে পারেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ন্যাশনাল আর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে অঙ্কণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ৷ স্বাতী প্রতিযোগিতায় ছবি আঁকেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ জন শিল্পীর আঁকা ছবিগুলির মধ্যে সেরার সেরা শিরোপা ছিনিয়ে নেয় স্বাতীর আঁকা ছবিটিই। দক্ষিণ কোরিয়ায় ন্যাশনাল আর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে অন্যতম সেরা চিত্রশিল্পী হিসাবে পুরস্কার পেয়েছিলেন। যা জায়গা পায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি মিউজিয়ামে৷ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজের শিল্প দক্ষতায় নজর কেড়েছেন সকলের। বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছে এই বঙ্গতনয়া।

গত সাত বছর ধরে এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আইসিএএফ সংস্থা। যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলার কর্মশালা প্রদর্শন হয়ে থাকে। চলতি বছরে ফ্রেব্ররুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই অনুষ্ঠান।

আইসিএএফের এই প্রদর্শনীতে ইতিমধ্যেই গোটা পৃথিবীর একাধিক দেশ থেকে প্রায় ২৬০টি কাজ এসে পৌঁছেছে। সেই কাজগুলি প্রদর্শিত হবে চলতি বছর সেপ্টেম্বরের প্রদর্শনীতে। একাধিক বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করার জন্য বিভিন্ন দেশের আর্টিস্টদের নিয়ে ১৪ জনের একটি বিচারকমণ্ডলী থাকবে। যার অন্যতম সদস্য হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে কলকাতার স্বাতীকে।

এ ছাড়াও প্যাসিফিক (আইসিওএম) থেকে তাঁকে কালচারাল অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত করা হয়েছে। এই সংস্থা ইউনেসকো’র সঙ্গে কাজ করে। সাংস্কৃতিক, সামাজিক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে এই সংস্থা। এশিয়া মহাদেশের ভারত, বাংলাদেশ-সহ ২৪টি দেশ এই সংস্থার সদস্য।

স্বাতীর কথায়, তাঁদের পরিবারের আধ্যাত্মিক গুরু যোগীরাজ শক্তিকিঙ্কর লাহা রায় তাঁর সকল অনুপ্রেণার উৎস ৷ পাশাপাশি বাবা পার্থসারথী রায় চৌধুরি, মা পর্ণা রায়চৌধুরী এবং স্বামী প্রসেনজিৎ ঘোষের ও তাঁর বোনের কাছ থেকেও বরাবরই নিজের কাজের জন্য উৎসাহ এবং সাহায্য পেয়েছেন তিনি।

স্বাতী জানান, ছোটো থেকে তাঁর আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল। তাঁর বড়ো হয়ে ওঠা কানপুরে হলেও, পরবর্তীকালে কলকাতায় এলে শিল্পী শিবা দে ও সুহিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আঁকার প্রশিক্ষণ নেন। এ ছাড়াও তিনি সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ডে ছবি আঁকা শেখেন। এ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়ায় তাঁর শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: বাংলা সংগীতজগতের চার কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন