স্মিতা দাস

একটি নির্দিষ্ট পরিসীমার মধ্যে ছবি আঁকা যায় নইলে নয়, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেছি আমরা, তা অনেক দিনই হল। এখন পথও চিত্রকলার ক্যানভাস। সে ক্ষেত্রে অনেকেই বলতে পারেন আলপনা তো মাটিতেই দেওয়া হয়ে আসছে বহু যুগ ধরে, এ আর নতুন কী? তা ঠিক। তবে একটি গোটা গ্রাম ছবি আঁকার ক্যানভাস! এ তো সহজ কথা নয়। তবে তাই সত্যি। ঝাড়গ্রামের একটি গ্রাম, নাম ‘খোয়াব গাঁ’। সেখানে গোটা গ্রামটাই ছবি আঁকার রং দেওয়ার ক্যানভাস।

জীব বৈচিত্রের পট

যাইহোক, সেই খোয়াব গাঁয়েই ললিত কলা অ্যকাডেমির সঙ্গে চালচিত্র অ্যকাডেমির সহযোগিতায় আরও একটি চিত্র প্রদর্শনী তথা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ছয় জন পটুয়া। তাঁরা হলেন মানু চিত্রকর, স্বর্ণ চিত্রকর, বাহাদুর চিত্রকর, দুখু শ্যাম চিত্রকর, মন্টু চিত্রকর, সানুয়ার চিত্রকর।

বিদ্যাসাগরের পট

উদ্বোধনের দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ললিতকলা অ্যকাডেমির কলকাতা রিজিওন্যাল সেন্টারের সেক্রেটরি বিপিন বিহারী মার্থা। উপস্থিত ছিলেন তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক মহুয়া মল্লিক-সহ এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও প্রধান শিক্ষক তাপস খান। বিষয়টিতে আরও উন্নতির আশা প্রকাশ করেন তাঁরা। এই ধরনের কাজে তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। অনুষ্ঠানে দুখু শ্যাম চিত্রকরকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়।

গান্ধীর পট
পড়ুন – খোয়াবগাঁ, গ্রাম নয়, ক্যানভাস
দুর্গাপট

পাঁচ দিনের এই কর্মশালায় প্রথম চারদিন এই ছ’জন চিত্রকর ছবি এঁকেছেন। এই ছবিগুলিতে প্রাধান্য পেয়েছিল গান্ধীজির দেড়’শ বছর ও বিদ্যাসাগরের ২০০ বছরের বিষয়টি। এ ছাড়াও ছিল দুর্গাপট, মনসামঙ্গলের পট, কৃষ্ণলীলা, ছিল জীব বৈচিত্র বাঘ সংরক্ষণ, সম্প্রীতি নিয়ে পটও।

মনসাপট

শেষ দিনটিতে গ্রামের ছোটোদের ছবি আঁকার পাঠ দেওয়া হয়। শেখানো হয় প্রাকৃতিক বা ভেসজ রং তৈরির পদ্ধতি, পট আঁকা, পটের গান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here