Connect with us

নাটক

হেমন্তের বুকঝিম করা সন্ধেয় এক নাটক, এক জীবন

মধুমন্তী চট্টোপাধ্যায়[/caption] নামী প্রযোজনার লোভ সামলে বহুদিন পর এমন নাটক দেখতে যাওয়া, যার নাম ছাপার অক্ষরে দেখিনি। শুনেছিলাম মাত্র একজন পরিচিতের কাছেই। নামটা মনে ছিল,মনে রাখার মতো বলেই। সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে একুশ শতকের প্রযোজনা ‘বুকঝিম এক ভালোবাসা’। নির্দেশনায় শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়। অভিনয়েও শ্রমণই এবং প্রায় একক অভিনয়। নাটক চলাকালীন ভাবতে বারবার লজ্জা হয়েছে, গত একবছর ধরে শহরে এমন একটা নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে, অথচ আমরা জানিনা, জানার তাড়নাটাও বড়ো কম। আবার প্রচারের আলোয় থাকা নাটক নিয়ে এই আমাদেরই কত মাতামাতি। বুক ভরা গান আর ভালবাসা দিয়ে তৈরি মনসুর বয়াতির জীবনের কথাই বলেছে এই নাটক। ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে তার বয়াতি যাপন। জীবনটাও নদীর মতোই। মনসুরের গলা স্বাধীন, গান স্বাধীন, তাঁর পথ স্বাধীন। মন, গলা, আর প্রাণের চেয়েও প্রিয় সারিন্দা এক সুরে না বাজলে গাইবে কী ভাবে মনসুর? সুরের ওপর কারো হুকুম চলেনি কোনোদিন। চাঁদ সুলতানা আর মনসুর বয়াতির ভালবাসাবাসি মানতে পারেনি চাঁদের জমিদার ভাই মহব্বত জঙ্গ। মৃত্যু বরং মিলিয়ে দিয়েছে ওদের। ৫০০ বছর আগের, ব্রহ্মপুত্রকে যখন যমুনা বলে ডাকেনি কেউ, সেই সময়কার কোনও এক মনসুর বয়াতির জীবনগাথা শুনতে গিয়ে মনে হল, সেই কবে থেকে চিনি তাঁকে, তাঁর সুরকে, শিল্পীমনকে। এ জীবন তো চিরকালীন। বিষয়ের গভীরে সমকাল খোঁজার প্রাণপণ চেষ্টা তো কই, করতে হল না একবারও। ২ ঘণ্টার নাটকের চলন ভারী সহজ। এক একটা গান যেন নাটকের এক একটা চরিত্র। যন্ত্র নয়, মনসুরের যন্ত্রণা থেকে উঠে আসা সুর মন ভারী করেছে প্রতিবার। দরদ ঢেলে বড়ো আদর করে আবহ রচনা করেছেন শুভদীপ গুহ। বুকঝিম এক ভালোবাসা এমন এক উপস্থাপনা, যেখানে সংলাপ, অভিনয়, সুর, আলো মঞ্চ কেউ কারোর থেকে আলাদা নয়। একসাথে সবাই মিলে যেন বেধে রেখেছে বয়াতির আপসহীন বেঁচে থাকার কাহিনীকে। আর শ্রমণ? টানা ১০০ মিনিট মঞ্চের ওপর মনসুরের বয়াতি জীবন ফুটিয়ে তুলতে যা যা করলেন শ্রমণ, তাকে অভিনয় বলে না। ওটা একটা লড়াই। যে লড়াই লড়েছে মনসুর। লড়েছেন শামসুল হক। এবং আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে লড়ছেন শ্রমণ আর তাঁর দল। প্রতি সংলাপ উচ্চারণে, অভিব্যাক্তিতে, মঞ্চ উপস্থিতিতে তরুণ পরিচালক-অভিনেতা মনে করিয়ে দিলেন ভুলতে বসা সেই কথাটা- থিয়েটার একটা বিশ্বাসের নাম। চাঁদ আর তাঁর ভালোবাসার মনসুর ভেসে যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের জলে। দূর থেকে ভেসে আসে, “…এই পানি যায়, ভেসে যায়…ডুবে যায় দরিয়ায়”। কী করুণ সে সুর। “… স্রোতের টানে ভাসে গান ও গায়ক, প্রেম ও বিচ্ছেদ, মৃত্যু ও মিলন ভাসে, ভেসে যায়, খরস্রোতে সকলই তো দরিয়ার দিকে ভেসে যায়।” মঞ্চের এদিকে তখন বুকঝিম করা সারি সারি মন।]]>

নাটক

বাঁকুড়ার আকুই গ্রামে অনুষ্ঠিত হল তিনদিনব্যাপী নাট্যোৎসব

ইন্দ্রাণী সেন,বাঁকুড়া: তিনদিনব্যাপী আঠারোতম নাট্যোৎসবের সমাপ্তি হল বাঁকুড়ার ইন্দাসের আকুই গ্রামে। শুরু হয়েছিল শুক্রবার, শেষ হল রবিবার।

শুক্রবার স্থানীয় হাইস্কুল মাঠ-সংলগ্ন প্রয়াত হরিসাধন ঘোষাল ও সুনীতিদেবী স্মৃতিমঞ্চে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। নাট্যমঞ্চটি উৎসর্গ করা হয়েছিল আকুই সংস্কৃতি সমিতির সদ্যপ্রয়াত সদস্য সুনীল ভট্টাচার্যের নামে। নাট্যোৎসবের প্রথম দিনে তাঁকে স্মরণ করা হয়।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করছেন সমিতির সভাপতি রমাপ্রসাদ সেন।

২৮ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনে মোট পাঁচটি নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার পাশাপাশি ব্লক, জেলা ও রাজ্যে সংশ্লিষ্ট সমিতির কৃতী শিল্পীদের সন্মাননা প্রদান করা হয়। উপস্থিত বিশিষ্ট জনদের সমিতির পক্ষ থেকে স্মারক সন্মাননা প্রদান করা হয়।

সংস্থার সম্পাদক তুহিন দলুই জানান, নাট্যোৎসবের প্রথম দিনে নদিয়ার শান্তিপুর সংস্কৃতির ‘রক্ত উপাখ্যান’, দ্বিতীয় দিনে আকুই সংস্কৃতি সমিতির ‘বারাব্বাস’, উত্তর চব্বিশ পরগনা ইচ্ছাপুর আলেয়ার ‘৬:১’ এবং তৃতীয় তথা শেষ দিনে আকুই সংস্কৃতি সমিতির ‘অমল তিয়াস’ ও বীরভূম আননের ‘মহাজ্ঞানী’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। নাটকের পাশাপাশি তিন দিনই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং নাটকবিষয়ক আলোচনাসভাও বসে।

উল্লেখ্য, ইন্দাস এলাকার সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে মুখ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে আকুই সংস্কৃতি সমিতি। রাজ্যে ছাত্র-যুব উৎসবে জেলা স্তরে নাটক প্রতিযোগিতায় সেরার সেরা সন্মান এদের ঝুলিতে। শ্রেষ্ঠ নির্দেশনা, অভিনেতা ও অভিনেত্রী এবং সেরা শিশুশিল্পীর সম্মান অর্জন করেছেন এই সমিতির সদস্যরা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে থেকেও এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নাট্যোৎসব চালিয়ে এসে এই সমিতি রাজ্যে স্তরে বিশেষ ভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত।

আরও পড়ুন: প্রভাস এবং দীপিকাকে জুটি বাঁধতে দেখা যাবে রুপালি পর্দায়

সংস্থার সভাপতি রমাপ্রসাদ সেন বলেন, “এই বছর আমরা আমাদের অত্যন্ত প্রিয় বিশিষ্ট নট ও নাট্যকার সুনীল ভট্টাচার্যকে হারিয়েছি। এক প্রতিকূল পরিবেশে সমিতির সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নাট্যোৎসব সম্পন্ন হল।

Continue Reading

নাটক

‘রথের রশি’ ও ‘ভারত এক খোঁজ’ দুটি অঙ্গন নাটক বিচ্ছেদের প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দেয়

বিজ্ঞান আবিষ্কারের ধারা চলতে থাকে – প্রয়োজন ও সত্যের উৎস সন্ধানের মানসিক খিদে থেকে। সেখানে গবেষণার সময় মানুষ থাকার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মানুষ তার ফলভোগ করে।

ছোটন দত্ত গুপ্ত

বিজ্ঞান আবিষ্কারের ধারা চলতে থাকে – প্রয়োজন ও সত্যের উৎস সন্ধানের মানসিক খিদে থেকে। সেখানে গবেষণার সময় মানুষ থাকার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মানুষ তার ফলভোগ করে। সেখানে মানুষ আবিষ্কারের মননের চর্চার সাথে একাত্ম হয় না। কিন্তু শিল্পচর্চার মূল ভিত্তি হল সমাজের মানোন্নয়ন, সুস্থ সমাজ ও মানুষের মধ্যে সম্পর্কের শিকড় একাত্ম করে আগামী সুন্দর পৃথিবীর দিকে এগিয়ে যাওয়া।

নাটক তারই শাখা হয়ে, মানুষের কাছে যাবার শক্তিশালী মাধ্যম হয়। মানুষের কাছে কী নিয়ে যাবো? কী ভাবে যাবো? তা ব্যক্তি মানুষ বা দলের ওপর নির্ভর করে।
প্লেটোর ছাত্র অ্যারিস্টটল পছন্দ করতেন অনুকারী(Mimetic)নাটক। নীতিমূলক(Didactic) নাটক আবার প্লেটোর পছন্দ। নীতিমূলক নাটক এসকাইলাসের ‘Euomenides’ পেটের ভাইস – এর ‘Vietnam –Diskurs’ গোটা পৃথিবীর থিয়েটারের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময় জার্মানির হিটলার শাসনের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ব্রেখট আরো বেশি করে দর্শকের সঙ্গে সংযোগের প্রয়োজন অনুভব করলেন। প্রসেনিয়াম মঞ্চ থেকেই নাটক থামিয়ে- দর্শকদের নাট্যভাবনার সঙ্গে যুক্ত হতে বলেছেন। বাস্তববাদী এই নাট্য প্রযোজকদের তাগিদেই তৈরী হল ‘ফোর্থ ওয়াল থিয়েটার’। জনগণকে বাদ দিয়ে থিয়েটার হয় না।

তাই, আজকের ভারতবর্ষে এই সময় খুব জরুরি হয়ে পড়েছে অঙ্গন নাটক, পথ নাটক, অন্তরঙ্গ থিয়েটার, সাইকো নাটক (অভিনেতা সাইকেলে করে কয়লার শ্রমিকের বাড়ি গিয়ে নাটক করে আসেন) । যা মানুষে মানুষে সম্পর্ক তৈরি করবে। যেখানে অভিনেতা ও দর্শকদের মধ্যে দেওয়াল থাকবে না। একাত্ম হয়ে মিলেমিশে একাকার হবে। ‘সাহিত্যিকা’(শান্তিনিকেতন) সংস্থার ‘রথের রশি’ ও ‘ভারত এক খোঁজ’ দুটি অঙ্গন নাটকের বিষয়, আঙ্গিক ও আভিনয়; এই অস্থির সময়ে ভরসা ও সাহস দেয়। বিচ্ছেদের প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রথের রশি’ ঘরোয়া পরিবেশে অঙ্গন আঙ্গিকে একক অভিনয় ও পরিচালনা করেন দীপ্র মজুমদার। যা দেখার মতো। রথের রশি নাটকের বিভিন্ন চরিত্র দীপ্র যেভাবে রপ্ত ও প্রয়োগ করেছেন তা শেখার মতো। প্লেটো বলেছেন, অভিনেতা নিজের দেহ ত্যাগ করে অন্যের দেহে প্রবেশ করে। অন্যব্যক্তির ব্যক্তিত্ব লাভ করে। দীপ্র একই নাটকে প্লেটো’র মন্তব্য বাস্তবায়িত করেছে। সত্যি তো মহাকালের রশি কেউ টানছে না। যে বন্ধনে টানবে তা আজ বিভ্রান্ত করে দিচ্ছে আমাদের ব্যবস্থা, এই সময়। মহাকাল তো থমকে।

‘রথের রশি’ নাটকে বিভিন্ন দীপ্র মজুমদার

‘ভারত এক খোঁজ’ নাটক আরো সহজ সরল উপস্থাপনা। বিষয় তো ভীষণ প্রাসঙ্গিক ও জ্বলন্ত । কবি জয়দেব বসুর কবিতা অবলম্বনে এই নাটক। যা বর্তমান ভারতবর্ষের আয়না। যে রাষ্ট্র খেতে দেয় না সে ছলে-বলে-কৌশলে ধর্মের নামে বিভেদ ঘটায়, হত্যা করে নিজের সিংহাসন মজবুত করার জন্য। যৌনপল্লীর বেড়ে ওঠা একজন মানুষ সে জন্মভূমির খোঁজে যায়। যার মধ্যে দিয়ে আমরা বাস্তবকে সামনে দেখতে পাই। কী ভাবে বিভেদের মদতদাতা রাষ্ট্র মানুষে মানুষে হিংসা বাঁধায়। ‘ভারত এক খোঁজ’ নাটকে মূল চরিত্রে সৌমেন সেনগুপ্তকেও আমি প্লেটোর বক্তব্যের বাস্তব রূপ বলব। সৌমেনের গানও বেশ। পাঠকের অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে কিন্তু জানেন তো একটা দল মানসিকভাবে চর্চা করলে প্রত্যেক সদস্যই এই কাজটি করতে পারেন। কমিউন হলেই তা সম্ভব। এরকম বহু অজানা নাটকের দল আছে যাদের মধ্যে এরকম পারফর্মার পাবেন। তাঁদের খুঁজতে হবে। ‘ভারত এক খোঁজ’ নাটকে সৌমেন ছাড়াও আরো চারজন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যে অভিনয় করেছেন তারাও কিন্তু সমান দক্ষ।

দুটো প্রযোজনার- বিষয়ক নির্বাচন, মিউজিক, পোশাক, গানের ব্যবহার ও অভিনয়ে পরিমিতি বোধ আছে পরিচালকের। ‘রথের রশি’র মিউজিকে কোথাও খামতি মনে হলেও ‘ভারত এক খোঁজ’ এ ঠিকই আছে। তবে ‘রথের রশি’ নাটকে রাবীন্দ্রিক ফর্মে নৃত্য ব্যবহার, কিছুটা হলেও নাট্য-টোনের বলিষ্ঠতা হারিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বলেই এই নৃত্যফর্ম ব্যবহার করতেই হবে, শিল্পে এরকম বাধ্য-বাধকতা ভাবনায় থাকলে তা মহাকালের রথের চাকার গতি শ্লথ করে।

Continue Reading

নাটক

নাবালিকা বিবাহ-বিরোধী নাটক ‘রাধারানি’, ‘বিদূষক’-এর সার্থক প্রযোজনা

A scene from Radharani,

নিজস্ব প্রতিনিধি: নাবালিকাদের বিয়ের ব্যাপারটা কি শুধুই গ্রামের সমস্যা? নাকি, শহর কলকাতারও? মনে হতেই পারে, মহানগরীতে এ সমস্যাটা বোধ হয় তেমন নেই। কিন্তু খাস কলকাতারই একটা স্কুলে কাজ করতে গিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতা এক নাট্যদলের।

পূর্ব কলকাতা বিদূষক নাট্যমণ্ডলী যখন ঠিক করে যে তারা তাদের এলাকার স্কুলগুলোর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কাজ করবে, তখন কিন্তু নাবালিকা বিবাহের ব্যাপারটা তাঁদের ভাবনার ধারেকাছেও ছিল না, বলছেন দলের সেক্রেটারি অরূপ খাঁড়া। কিন্তু পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা শান্তি সংঘ বিদ্যায়তনের বালিকা বিভাগে যখন তাঁরা তাঁদের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন, সেখান থেকেই উঠে এল নাবালিকা বিবাহের সমস্যাটার কথা। স্কুলের একটু উঁচু ক্লাসের মেয়েদের মধ্যে নাকি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা প্রবল। প্রধান কারণ, বাপের বাড়ি দুর্বিষহ। বিয়ের পর বেশির ভাগ মেয়েই পড়াশুনো ছেড়ে দেয়।

নাটক মঞ্চস্থ করার পরে।

তাই নাট্যদলের তরফে প্রস্তাবটা পেয়ে বিষয় বাছতে এক মুহূর্তও সময় নেননি স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা সুস্মিতা মণ্ডল। মেয়েদের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয় পেয়ে নাটক লিখতে দেরি করেননি ‘বিদূষক’-এর রাজা বিশ্বাসও। স্কুলের গরমের ছুটির সময়েই লেখা হয়ে যায় নাটক ‘রাধারানি’, যেখানে গানে গানে বলা হচ্ছে ক্লাস টেনের এক মেয়ের গল্প।

শহরের এক খালের ধারে থাকে সেই মেয়ে — রাধারানি, যার প্রেমে পড়ে পাশের পাড়ার শ্যাম। মদ্যপ বাপের অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে ঘর ছাড়ে রাধা, পালিয়ে বিয়ে করে শ্যামকে। তার পর? তার পর সেই একই কাহিনি — ‘নতুন করে বলি শোনো, পুরান ঘটনা’; প্রচলিত লোকগানের এই চিরপরিচিত সুরেই চলতে থাকে রাধার গল্প, তার মায়েরই মতো, পরিত্রাণহীন।

মেক আপে ব্যস্ত শিল্পী।

প্রধানশিক্ষিকা সুস্মিতাদেবী বলছেন, নাটক দেখে একটু হলেও যদি সচেতন হয় তাঁর ছাত্রীরা, তা হলেই তাঁদের উদ্যোগ সফল হবে। একই মত অপর দুই শিক্ষিকা সুদক্ষিণা চক্রবর্তী ও তপতী সর্দারের, যাঁরা এই নাটকটি নির্মাণের সহায়তাকারী।

সচেতন তারা অবশ্যই, বলছে শান্তি সংঘ স্কুলের রূপা সর্দার, বর্ণালী দলুই, সায়নী মণ্ডল, প্রিয়াঙ্কা পাণ্ডে, পায়েল সর্দার, অঞ্জলি মণ্ডল, টিনা বেরা, রিনি ঘোষ, যুথিকা গায়েনের মতো মেয়েরা, যারা এই নাটকের কুশীলব। মাস তিনেকের রিহার্সালে তাদের সঙ্গে ছিল দিয়া দাস, প্রিয়া দাস, তনয়া পাণ্ডে, পায়েল বিশ্বাস। এদের অনেকেরই পারফরমেন্স বেশ সম্ভামনাময়, বললেন নাটকের নির্দেশক অরূপ খাঁড়া। নাটকের প্রযোজনায় সহকারী সায়ন্তন মিত্র ও স্বাধীনা চক্রবর্তী এবং প্রচারসজ্জায় নীতীশ সরকার।

ছাত্রীদের অবশ্য বক্তব্য — সবই তো বুঝলাম, কিন্তু বিয়ের বিকল্পটা কী? গরিব ঘরের মেয়েদের জন্য স্বনির্ভরতার উপায়গুলো কী?

আরও পড়ুন: একগুচ্ছ শারদ পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হল বসিরহাট লিটল ম্যাগাজিন ফোরামের পথচলা

প্রশ্নের উত্তরে, স্কুলেরই শরণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেষ হচ্ছে নাবালিকা বিবাহ-বিরোধী নাটক ‘রাধারানি’। মেয়েদের অন্যান্য স্কুলেও বিনামূল্যে নাটকটির শো করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, জানাচ্ছে বিদূষক নাট্যমণ্ডলী।

Continue Reading
Advertisement

রবিবারের খবর অনলাইন

কেনাকাটা

things things
কেনাকাটা3 days ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা6 days ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা2 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা2 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা2 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

laptop laptop
কেনাকাটা3 weeks ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

কেনাকাটা3 weeks ago

হ্যান্ডওয়াশ কিনবেন? নামী ব্র্যান্ডগুলিতে ৩৮% ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর সঙ্গে লড়াই এখনও জারি আছে। তাই অবশ্যই চাই মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ।...

কেনাকাটা4 weeks ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা4 weeks ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

নজরে

Click To Expand