নাবালিকা বিবাহ-বিরোধী নাটক ‘রাধারানি’, ‘বিদূষক’-এর সার্থক প্রযোজনা

0
A scene from Radharani,
'রাধারনি'-র একটি দৃশ্যে।

নিজস্ব প্রতিনিধি: নাবালিকাদের বিয়ের ব্যাপারটা কি শুধুই গ্রামের সমস্যা? নাকি, শহর কলকাতারও? মনে হতেই পারে, মহানগরীতে এ সমস্যাটা বোধ হয় তেমন নেই। কিন্তু খাস কলকাতারই একটা স্কুলে কাজ করতে গিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতা এক নাট্যদলের।

পূর্ব কলকাতা বিদূষক নাট্যমণ্ডলী যখন ঠিক করে যে তারা তাদের এলাকার স্কুলগুলোর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কাজ করবে, তখন কিন্তু নাবালিকা বিবাহের ব্যাপারটা তাঁদের ভাবনার ধারেকাছেও ছিল না, বলছেন দলের সেক্রেটারি অরূপ খাঁড়া। কিন্তু পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা শান্তি সংঘ বিদ্যায়তনের বালিকা বিভাগে যখন তাঁরা তাঁদের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন, সেখান থেকেই উঠে এল নাবালিকা বিবাহের সমস্যাটার কথা। স্কুলের একটু উঁচু ক্লাসের মেয়েদের মধ্যে নাকি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা প্রবল। প্রধান কারণ, বাপের বাড়ি দুর্বিষহ। বিয়ের পর বেশির ভাগ মেয়েই পড়াশুনো ছেড়ে দেয়।

নাটক মঞ্চস্থ করার পরে।

তাই নাট্যদলের তরফে প্রস্তাবটা পেয়ে বিষয় বাছতে এক মুহূর্তও সময় নেননি স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা সুস্মিতা মণ্ডল। মেয়েদের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয় পেয়ে নাটক লিখতে দেরি করেননি ‘বিদূষক’-এর রাজা বিশ্বাসও। স্কুলের গরমের ছুটির সময়েই লেখা হয়ে যায় নাটক ‘রাধারানি’, যেখানে গানে গানে বলা হচ্ছে ক্লাস টেনের এক মেয়ের গল্প।

শহরের এক খালের ধারে থাকে সেই মেয়ে — রাধারানি, যার প্রেমে পড়ে পাশের পাড়ার শ্যাম। মদ্যপ বাপের অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে ঘর ছাড়ে রাধা, পালিয়ে বিয়ে করে শ্যামকে। তার পর? তার পর সেই একই কাহিনি — ‘নতুন করে বলি শোনো, পুরান ঘটনা’; প্রচলিত লোকগানের এই চিরপরিচিত সুরেই চলতে থাকে রাধার গল্প, তার মায়েরই মতো, পরিত্রাণহীন।

মেক আপে ব্যস্ত শিল্পী।

প্রধানশিক্ষিকা সুস্মিতাদেবী বলছেন, নাটক দেখে একটু হলেও যদি সচেতন হয় তাঁর ছাত্রীরা, তা হলেই তাঁদের উদ্যোগ সফল হবে। একই মত অপর দুই শিক্ষিকা সুদক্ষিণা চক্রবর্তী ও তপতী সর্দারের, যাঁরা এই নাটকটি নির্মাণের সহায়তাকারী।

সচেতন তারা অবশ্যই, বলছে শান্তি সংঘ স্কুলের রূপা সর্দার, বর্ণালী দলুই, সায়নী মণ্ডল, প্রিয়াঙ্কা পাণ্ডে, পায়েল সর্দার, অঞ্জলি মণ্ডল, টিনা বেরা, রিনি ঘোষ, যুথিকা গায়েনের মতো মেয়েরা, যারা এই নাটকের কুশীলব। মাস তিনেকের রিহার্সালে তাদের সঙ্গে ছিল দিয়া দাস, প্রিয়া দাস, তনয়া পাণ্ডে, পায়েল বিশ্বাস। এদের অনেকেরই পারফরমেন্স বেশ সম্ভামনাময়, বললেন নাটকের নির্দেশক অরূপ খাঁড়া। নাটকের প্রযোজনায় সহকারী সায়ন্তন মিত্র ও স্বাধীনা চক্রবর্তী এবং প্রচারসজ্জায় নীতীশ সরকার।

ছাত্রীদের অবশ্য বক্তব্য — সবই তো বুঝলাম, কিন্তু বিয়ের বিকল্পটা কী? গরিব ঘরের মেয়েদের জন্য স্বনির্ভরতার উপায়গুলো কী?

আরও পড়ুন: একগুচ্ছ শারদ পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হল বসিরহাট লিটল ম্যাগাজিন ফোরামের পথচলা

প্রশ্নের উত্তরে, স্কুলেরই শরণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেষ হচ্ছে নাবালিকা বিবাহ-বিরোধী নাটক ‘রাধারানি’। মেয়েদের অন্যান্য স্কুলেও বিনামূল্যে নাটকটির শো করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, জানাচ্ছে বিদূষক নাট্যমণ্ডলী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.