দর্শকশূন্য প্রেক্ষাগৃহে কলকাতায় থিয়েটার অলিম্পিকস

0
সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়

পৃথিবীর সব থেকে বড় নাট্যোৎসব হচ্ছে এখন ভারতবর্ষে। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, পাটনা, বেনারস-সহ মোট ১৭টি শহরে। ভারত সহ মোট তিরিশটি দেশের নাট্যপ্রদর্শনীর আয়োজনে পরিপূর্ণ এই উৎসব। ১৭ ফেব্রুয়ারি এই থিয়েটার অলিম্পিকসের উদ্বোধন হয়েছে দিল্লিতে, কলকাতা পর্বের সূচনা হল ২৭ ফেব্রুয়ারি জিডি বিড়লা সভাঘরে, বিশিষ্ট নাট্যজনদের উপস্থিতিতে শূন্য প্রেক্ষাগৃহে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও দর্শক আসনে উপস্থিতির সংখ্যা আগের মতোই ছিল। যথেষ্ট প্রচারের অভাব না সাংগঠনিক সমস্যা, এই নিয়ে কথা বলারও কেউ উপস্থিত নেই উদ্যোক্তাদের তরফে। সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকারের উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয়ের আয়োজনে প্রায় বিবর্ণ ভাবে হয়ে চলেছে এই আন্তর্জাতিক উৎসবের কলকাতা পর্ব- জিডি বিড়লা সভাঘর এবং পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রেক্ষাগৃহ এবং মুক্তমঞ্চে।

দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলে পরিচিত কলকাতার মুখ পুড়ছে বিভিন্ন প্রদেশ ও বিদেশ থেকে আগত অতিথি এবং শিল্পীদের সামনে।

বাংলা নাটকের এই ‘রমরমা’র যুগে কলকাতাবাসীর নাট্য উদাসীনতা শহরে আগত অভিনয় শিল্পীদের হতাশ করার জন্য যথেষ্ট, এ কথা বলাই বাহুল্য। তা সত্ত্বেও অভিনয় ও উপস্থাপনার উৎকর্ষে চমক দিল ট্রেনার আর্ট অ্যাসোসিয়েশন, মণিপুর। পরিচালক জয় মইসনম ও তাঁর দলবল পরিবেশন করল ‘দ্য জার্নি অফ সরো’।

ভারতীয় কৃষকদের দুর্দশা, জন্ম থকে মৃত্যু পর্যন্ত যে যন্ত্রণা- তা উপস্থাপিত হল এই ‘সাইকো ফিজিক্যাল’ অভিনয়ে। শরীরের ভাষা সঙ্গে সঙ্গীতের তাল ও বাদ্যই এই অভিনয়ের প্রধান সম্পদ। অভিনেতার শরীর, শরীরের চলন, ছন্দ সব মিলেমিশে গড়ে উঠল এক অপূর্ব নাট্যভাষা। লিখিত শব্দ খুব কম। দু’ একটা কবিতা যা রচনা করেছেন তরুণ নাট্যকার মোহন জোশী, হৃদয় স্পর্শ করে যায়। জয় মইসনম ও তাঁর তরুণ নাট্যদল দীর্ঘ নাট্যযাত্রা অতিক্রমের স্বপ্ন দেখিয়ে গেল কলকাতাকে। তাই কলকাতাবাসীকে অনুরোধ ঘরে না থেকে প্রেক্ষাগৃহে আসুন, আলোচিত নাটকের শেষ কথা ছিল – ‘খুলি হাওয়া জিনেওয়ালো নে……. বন্ধ কামরো কর লি হ্যায় আত্মহত্যা’।

ছবিগুলি ‘দ্য জার্নি অফ সরো’ নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here