ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের ৪৩তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান, পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ

0
Calcutta Journalists Club
ক্লাবের ৪৩তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন (বাঁ দিক থেকে) রাজ্যের মন্ত্রী রথীন ঘোষ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিমাই চন্দ্র সাহা এবং বিশিষ্ট উদ্যোগপতি ঋত্বিক দাস।

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেখতে দেখতে ৪৩ বছরটা কেটে গেল। কলকাতার সাংবাদিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাব ৪৩ বছর পূর্ণ করল। কলকাতার অন্যতম পুরোনো এই সাংবাদিক-সংগঠনের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী রথীন ঘোষ।

গত মঙ্গলবার ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের ৪৩তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি তাঁর ভাষণে জার্নালিস্টস ক্লাবের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের প্রশংসা করে। তিনি জানান, ক্লাবের প্রয়োজনে তিনি তাঁর সাধ্যমতো করবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিমাই চন্দ্র সাহা এবং বিশিষ্ট উদ্যোগপতি ব্লু চিপ প্রজেক্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঋত্বিক দাস। যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়, উপাচার্য ড. সাহা তাঁর ভাষণে তার উল্লেখ করেন। এবং সাংবাদিকদের কাজের এবং তার পাশাপাশি ক্লাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা।

ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের বিভিন্ন উদ্যোগে সব সময় পাশে থাকেন ঋত্বিকবাবু। তিনি সব সময় ক্লাবের প্রতি তাঁর সাহায্যের হাত যথাসাধ্য বাড়িয়ে দেন। ক্লাবের গ্রন্থাগারটি নতুন করে ঢেলে সাজার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহের কথা তিনি তাঁর ভাষণে প্রকাশ করেন।

গত প্রায় দু’ বছর ধরে কোভিড অতিমারিতে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। এই পরিস্থিতিতে গত বছর ক্লাবের কোনো বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়নি। কোভিড দূর হয়নি, তবে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই ক্লাব এ বছর ৪৩তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিশিষ্ট অতিথিদের দিয়ে প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। স্বাগত ভাষণ দেন ক্লাবের সভাপতি প্রান্তিক সেন। কী ভাবে ক্লাবের জন্ম হল তা অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে জানান তিনি। সভাপতি তাঁর ভাষণে ক্লাবের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের উল্লেখ করেন। ক্লাবের বিভিন্ন উদ্যোগে যাঁরা পাশে থাকেন তাঁদের ধন্যবাদ জানান সাধারণ সম্পাদক ইমন কল্যাণ সেন। এঁরা ছাড়াও সে দিন অনুষ্ঠান-মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের দুই সহ-সভাপতি রাহুল গোস্বামী ও পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী, কোষাধ্যক্ষ সাধনা দাস বসু এবং দুই সহকারী সম্পাদক সঞ্জয় হাজরা ও অভিজিৎ ভট্টাচার্য।

উৎসব সংখ্যা ‘সাংবাদিক’-এর মোড়ক উন্মোচন।

ক্লাবের মুখপত্র ‘সাংবাদিক’ বছরে তিনটি করে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতির কারণে গত বছর ‘সাংবাদিক’-এর একটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। এ বছরেও ‘সাংবাদিক’-এর একটিই সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে সেই ‘উৎসব সংখ্যা’র মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী রথীন ঘোষ।

বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারীকে সন্তোষকুমার ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারীকে ড. স্মরজিৎ দত্ত স্মৃতি পুরস্কার, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারীকে নিরঞ্জন সেনগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারীকে বরুণ সেনগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার, রাজ্যের কোনো উদীয়মান খেলোয়াড়কে অমিত চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার এবং কোনো প্রবীণ সাংবাদিককে দক্ষিণারঞ্জন বসু স্মৃতি পুরস্কার।

এ ছাড়াও যে সব ক্লাব সদস্যের ছেলেমেয়ে বা নাতি-নাতনি উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় ভালো ফল করে, তাদের দেওয়া হয় ক্লাবের প্রয়াত প্রাক্তন সভাপতি হিমাংশু চট্টোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত স্মৃতি পুরস্কার এবং যারা মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় ভালো ফল করে, তাদের দেওয়া হয় ক্লাবের প্রয়াত প্রাক্তন সদস্য অভীক বসুর নামাঙ্কিত স্মৃতি পুরস্কার।

নন্দলাল ভট্টাচার্যকে ‘দক্ষিণারঞ্জন বসু স্মৃতি পুরস্কার ২০২০’ প্রদান করছেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমন কল্যাণ সেন (বাঁ দিকে)। শঙ্করনাথ ভট্টাচার্যকে ‘দক্ষিণারঞ্জন বসু স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯’ প্রদান করছেন ক্লাবের সভাপতি প্রান্তিক সেন।

ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য এবং প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন সভাপতি শঙ্করনাথ ভট্টাচার্যকে ২০২০ সালের দক্ষিণারঞ্জন বসু স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০২১ সালের দক্ষিণারঞ্জন বসু স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হয় ক্লাবের আরও এক প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য এবং প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নন্দলাল ভট্টাচার্যকে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় ২০১৯ সালে প্রথম হন দেবারতি মুখার্জি এবং ২০২০ সালে প্রথম হন সৃষ্টি ঘোষ। তাঁরা পেলেন সন্তোষকুমার ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় ২০১৯ সালে প্রথম হন অম্বিকা ঘোষ এবং ২০২০ সালে সৌম্যজিৎ সরকার। তাঁরা পেলেন ড. স্মরজিৎ দত্ত স্মৃতি পুরস্কার। ঈপ্সিতা ব্যানার্জি ও স্বর্ণালী তালুকদার পেলেন নিরঞ্জন সেনগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার। এঁরা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় ২০১৯ ও ২০২০ সালে প্রথম হন। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৌরভ রায় এবং দীপান্বিতা দাস পেলেন বরুণ সেনগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার। এঁরা ২০১৯ ও ২০২০ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম হন।

২০২০ সালের অমিত চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হল উদীয়মান ভলিবল খেলোয়াড় জয়ন্ত মণ্ডলকে এবং ২০২১ সালের অমিত চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হল উদীয়মান অ্যাথলিট (হাইজাম্প) উচ্ছল রায়কে।

পৌরিক চক্রবর্তীকে বিশেষ সংবর্ধনা জানাচ্ছেন ক্লাবের সহ-সভাপতি রাহুল গোস্বামী।

অনুষ্ঠানে ৭ বছরের শিশু পৌরিক চক্রবর্তীকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়। শরীর না নাড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ জলে ভেসে থেকে অনন্য নজির গড়েছে পৌরিক। তার এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসাবে নাম উঠেছে ‘ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল ‘সারেগামা’ খ্যাত গায়ক গুরজিৎ সিং শেঠির সংগীত পরিবেশন। সকলের প্রিয় তরুণ গুরজিৎ ইতিমধ্যেই ভক্তিগীতি গেয়ে বেশ খ্যাতিমান হয়েছেন। তবে শুধু ভক্তিগীতি নয়, তিনি যে সব ধরনের গানেই দক্ষ তার প্রমাণ তিনি সে দিন রাখলেন।

সংগীত পরিবেশন করছেন গুরজিৎ।

গুরজিৎ শুরু করলেন পান্নালাল ভট্টাচার্যের গাওয়া বিখ্যাত শ্যামাসংগীত ‘মায়ের পায়ে জবা হয়ে উঠনা ফুটে মন’ দিয়ে। প্রথম গানেই তিনি শ্রোতা-দর্শকদের মজিয়ে দিলেন। তার পরে ধরলেন ‘হরে কৃষ্ণ নাম দিল প্রিয় বলরাম’। ভক্তিগীতি ছাড়াও তিনি বাংলা হিন্দি এমনকি পঞ্জাবি আধুনিক গানও পরিবেশন করলেন। মান্না দের ‘এ মেরি জোহরা জাবি’, ‘জীবনে কী পাব না’ থেকে শুরু করে কুমার শানুর গানও। গাইলেন সেই প্রচলিত লোকগীতি ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো, আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে’। ঘণ্টাদেড়েকের পরিবেশনায় আরও বেশ কিছু গান গেয়ে শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা সৃষ্টি করলেন গুরজিৎ।

গুরজিৎ-এর গান দিয়েই শেষ হল ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের ৪৩তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান।

আরও পড়তে পারেন

বিদূষক নাট্য মণ্ডলীর ‘লাজো’, যেন ফিল্টার ছাড়াই পরতে পরতে গল্প খুলে যাওয়ার ম্যাজিক

ছন্দবন্ধনের ২৫তম পর্বে অনন্য নিবেদন ‘নহ মাতা নহ কন্যা’

অষ্টম বর্ষপূর্তির হর্ষ অনুষ্ঠানে ‘স্পর্শ’-এর সার্থক পরশ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন