Connect with us

অনুষ্ঠান

সেবা-সম্মান-সংহতি, সার্থক ‘স্পর্শ’-এর মূল মন্ত্র

special guests in the programme

কলকাতা: খুন, ধর্ষণ, গণপিটুনি, রাজনৈতিক হানাহানি, জাতপাত-ধর্ম নিয়ে সংঘাত, পরিবেশ দূষণ, পৃথিবী ক্রমশ জলশূন্য হয়ে যাওয়া, নিজেদের ধ্বংস ত্বরান্বিত করা – চারিদিকে মন খারাপ করা খবর। আর এত খারাপ খবরের ভিড়ে হারিয়ে যায় ভালো খবরগুলো। কথায় বলে না, খারাপ খবর অতি দ্রুত পৌঁছে যায়। আর ভালো খবর সৃষ্টির কারণ যাঁরা, তাঁরা যদি প্রচারের আড়ালে বিচরণ করেন তা হলে তো সেই খবর পাওয়া আরও দুষ্কর হয়ে ওঠে।

তবে রয়েছে ‘স্পর্শ’। যাঁরা ভালো খবর সৃষ্টির কারণ হয়েও পাদপ্রদীপের আলো থেকে দূরে থাকেন, বা দূরে থাকতে পছন্দ করেন, তাঁদের খুঁজে আনে ‘স্পর্শ’। আর শুধু খুঁজেই আনে না, তাঁদের সম্মানিত করে ধন্য হয়।

প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা।

এই মানুষগুলো, সংগঠনগুলো লড়ে যাচ্ছেন সমাজকে আরও সুন্দর করার জন্য, সমাজকে আর একটু এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আর এই ইতিবাচক প্রয়াস বা উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের এগিয়ে আসতে দেখে ভরসা জাগে সমাজের – তা হলে এখনও সব কিছু ফুরিয়ে যায়নি।

এ রকমই এক গুচ্ছ লড়াকু, ব্যতিক্রমী মানুষ আর সংগঠনকে সম্মানিত করা হল ‘স্পর্শ’-এর অনুষ্ঠানে। কলকাতা সাক্ষী থাকল এক বিরল সমাবেশের।

বক্তৃতা করছেন ‘স্পর্শ’-এর সভাপতি সুজিত চক্রবর্তী।

শনিবার সন্ধ্যায় মধ্য কলকাতার সুবর্ণবণিক সমাজ হলে তাদের ষষ্ঠ বর্ষপূর্তির ‘হর্ষ’ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্পর্শ’। এই মঞ্চেই সম্মান জানানো হল সমাজের বেশ কিছু যোদ্ধাকে। এঁদের মধ্যে সব বয়সের যোদ্ধাই ছিলেন – একেবারে কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত।

তালিকায় আছেন ২১ বছরের সায়নী দাস, যিনি সম্প্রতি ৩৩ কিমি দীর্ঘ ক্যাটালিনা প্রণালী ১৩ ঘণ্টার  সাঁতরে পার হয়েছেন। এই সায়নীই বছর দুয়েক আগে ইংলিশ চ্যানেল জয়ী হন। রয়েছেন এভারেস্টজয়ী শেখ সাহাবুদ্দিন। সম্মানিত করা হল কালনার পাঁচ টাকা ভিজিটের ডাক্তার গৌরাঙ্গ গোস্বামীকে, যাঁর নেশাই হল রোগী দেখা, যত রাতই হোক, তাঁর চেম্বার থেকে কেউই ফিরে যান না। তালিকায় রয়েছেন প্রসেনজিৎ গোস্বামী যিনি ৩৭ বছর ধরে অবলা অসহায় মৃত্যুমুখী পথপশুদের জীবনদানের মতো সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্মানিত করা হল দমদমের ‘গাছ-দাদু’ পার্থসারথি গাঙ্গুলিকে, যিনি প্রতিবেশীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে তাতে গাছ লাগিয়ে তাঁর অঞ্চলের সবুজায়ন করছেন।

কিংবা দিলীপ কুমার করণের কথাই ধরা যাক। সমাজের একেবারে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ছেলেমেয়েরা কী ভাবে বেপথু হয়ে গিয়ে সমাজবিরোধী তৈরি হয়, তা নানা ভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ওই সব শিশুদের ভোকাট্টা জীবনে আলো দেখানোর জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগণায় গড়েছেন সূর্যনগর আনন্দমন আশ্রম। একাধিক শিশু-কিশোর, প্রাপ্তবয়স্ক নারীপুরুষ, প্রতিবন্ধী মানুষের ঠিকানা এই আশ্রম। শুধু বাসস্থানই নয়, অন্ন বস্ত্রের ব্যবস্থাও করেছে এই প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে গড়া হয়েছে একটি স্কুল। ‘স্পর্শ’ সম্মানিত করল দিলীপবাবুকে।

গাছই এখন এই পৃথিবীর সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার মুল ওষুধ। সে কথা মনে রেখেই ‘স্পর্শ’-এর তরফে প্রত্যেক অতিথিকে দেওয়া হল চারাগাছ।

‘স্পর্শ’ সম্মানিত করল মহম্মদ জালালুদ্দিন গাজীকে। দারিদ্র্যের জন্য স্কুলে যাওয়া হয়নি। তার বদলে কিশোর বয়স থেকে রিকশার প্যাডেলে পা। রিকশা থেকে ট্যাক্সি। কিন্তু স্বপ্নটা বরাবরই দেখতেন। স্কুলে যেতে না পারার দুঃখটা ভুলতে চেয়েছেন দুঃস্থ শিশুদের স্কুল গড়ে। যে স্কুল শুরু হয়েছিল ১৬ জন ছাত্র আর ২ জন শিক্ষক দিয়ে, সেই স্কুল আজ দাঁড়িয়ে আছে ৫ বিঘা জমির ওপর ৪০০ ছাত্রছাত্রী আর ১৬ জন শিক্ষক নিয়ে।

নামে আর কাজে এত মিল দেখা যায় না। বিখ্যাত ফুডচেনে কর্মরত পথিকৃৎ সাহা খাবারের বাতিল অর্ডারে পথশিশুদের পেট ভরাচ্ছেন। আজ তাঁর নাম হয়েছে রোলকাকু। অথবা সায়ন চক্রবর্তীর কথাই ধরা যাক। তিনিও বিখ্যাত এক ফুডচেনে কর্মরত। প্রতি দিন যে খাবার উদ্বৃত্ত হয় রাতে সেই খাবার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পথবাসীদের খাইয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। ‘স্পর্শ’ সম্মানিত করল এঁদেরও।    

‘স্পর্শ’ এ দিন আর যাদের সম্মানিত করল তাদের মধ্যে রয়েছে ‘স্বপ্নের কারখানা’, ‘পদক্ষেপ’ (ব্যারাকপুর), ‘পদক্ষেপ’ (কলকাতা), ‘প্রয়াস’ এবং ‘রামধনু’। দরিদ্রদের জন্য কম্বল, সোয়েটার, ইত্যাদি নিয়ে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায় ‘স্বপ্নের কারখানা’। জমি কেনা হয়ে গিয়েছে, এ বার তারা স্কুল গড়বে দুস্থদের জন্য। ‘পদক্ষেপ’ (ব্যারাকপুর) পৌঁছে যাচ্ছে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে দুস্থ শিশুদের জন্য শিক্ষার সামগ্রী নিয়ে। শুধু তা-ই নয়, সরবরাহ করেছে খাবার, পোশাকও। সুন্দরবন থেকে পুরুলিয়া – রাজ্যের প্রত্যন্ত সব জায়গায় পোশাক-আশাক, খাবারদাবার, কম্বল, মুসুরি ডাল, স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে দরিদ্র মানুষদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ‘পদক্ষেপ’ (কলকাতা)। ঠিক এ ভাবেই শয়ে শয়ে দরিদ্র মানুষের কাছে নতুন জামা, আর খাবার নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ‘প্রয়াস’। আর হালিশহরের ৭৫ জন যুবককে নিয়ে গড়া ‘রামধনু’ গড়েছে হেঁশেল, যার সাহায্যে সেই সংস্থা রোজ ১০০ জন নিরন্ন মানুষকে অন্ন জোগাচ্ছে। এ বার তার লক্ষ্য ১২৫ জনের অন্নের ব্যবস্থা করা।

অনাথ শিশু-কিশোরকিশোরীদের হাতে ‘স্পর্শ’-এর তরফে তুলে দেওয়া হল পুজোর পোশাক।

কিন্তু ‘স্পর্শ’ নিজে বসে থাকে না। তার কাজ যে শুধু সমাজকে যে বা যাঁরা অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসছেন তাঁদের সম্মানিত করা তা নয়, তারা নিজেরাও নিয়ত সমাজসেবায় মেতে আছে। নানা ভাবে নিয়মিত সাহায্য করে যাচ্ছে রামকৃষ্ণ অনাথ ভাণ্ডারকে। এ বার তারা অনাথ ভাণ্ডার-এর শিশু-কিশোরকিশোরীদের জন্য পূজার পোশাক কিনে দিয়েছে। আর সেই কাজ করতে ‘স্পর্শ’কে সাহায্য করেছে ১৩ বছরের পূর্ণাশা। সমাজের জন্য যে কিছু করা উচিত, সেই বোধ তার মধ্যে এখনই চারিত হয়ে গিয়েছে। তাই টিফিনের পয়সা জমিয়ে সেই অর্থ ‘স্পর্শ’-এর হাতে তুলে দিয়েছে ক্লাস এইটের ছাত্রী পূর্ণাশা চট্টোপাধ্যায়।   

আরও পড়ুন: প্রকাশিত হল স্বামী সম্বুদ্ধানন্দের কথায় ও সুরে শান্তনু রায়চৌধুরীর সিডি ‘পূজাঞ্জলি’

এ দিন বিশেষ অতিথি হিসাবে ‘স্পর্শ’-এর এই ক্রিয়াকর্মের সাক্ষী থাকলেন রামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠের স্বামী আত্মবোধানন্দ, বেঙ্গল অর্গান ডোনেশন সোসাইটির (বিওডিএস) চেয়ারম্যান ডা. সৌরভ কোলে, ডা. শুভাশিস গুহ, ডা. সুজিত কুমার ব্রহ্মচারী, কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার বুদ্ধদেব মুখার্জি প্রমুখ। প্রধান অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক শম্ভু সেন। এ ছাড়াও মঞ্চে ছিলেন ‘স্পর্শ’-এর সভাপতি সুজিত চক্রবর্তী, কার্যকরী সভাপতি রঞ্জন সিনহা, মুখ্য উপদেষ্টা কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের ওসি শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, চিফ মেন্টর রাজেশ চন্দ্র এবং সংস্থার দুই উপদেষ্টা রোহিত কুমার ইউ. শুক্লা ও রবীন্দ্রনাথ মল্লিক।

‘স্পর্শ’-এর এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানালেন প্রত্যেক অতিথিই। তাঁরা কামনা করলেন, এ ভাবেই আরও এগিয়ে যাক ‘স্পর্শ’। সমাজের আরও অন্দরে, আরও অন্তরে পৌঁছে যাক তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সমস্ত অতিথিকে বরণ করেন ‘স্পর্শ’-এর সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন প্রজ্ঞা মুখোপাধ্যায় ও সাম্য কার্ফা। ‘স্পর্শ’-এর মূল মন্ত্র সেবা, সম্মান, সংহতি। এ দিনের অনুষ্ঠান তারই জাজ্বল্য প্রমাণ।

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

অনুষ্ঠান

শুক্রবার শুরু হচ্ছে ‘বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন’-এর সপ্তাহব্যাপী কবিপ্রণাম

খবর অনলাইন ডেস্ক: রাত পেরিয়ে ভোর হলেই পঁচিশে বৈশাখ, বিশ্বকবির ১৬০তম জন্মদিন। প্রতি বছরের মতো এ বারও কথা ছিল হই হই করে রবীন্দ্রজয়ন্তী উৎসব পালন করার। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক ছোঁয়াচে ভাইরাস সব রুটিন বদলে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে আজ সারা বিশ্ব ঘরবন্দি, বাঙালিও তার ব্যতিক্রম নয়।

তা বলে বাঙালির প্রিয় কবির জন্মদিন পালন তো আর থেমে থাকতে পারে না। নাই বা হল প্রকাশ্যে জন্মদিন-উৎসব আয়োজন করা? ঘরে বসে গান গেয়ে, আবৃত্তি করে, নৃত্যের তালে তালে পা মিলিয়ে কবিকে জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাতে অসুবিধা কোথায়? বিশেষ করে প্রযুক্তির সুবিধা যখন রয়েছে।

মোহন সিং খাংগুরা

তাই পঁচিশে বৈশাখে ধুমধাম করে প্রকাশ্য অনুষ্ঠান হবে না ঠিকই, তবে প্রত্যেকেই ঘরবন্দি অবস্থাতেই তাঁদের নিজের মতো করে রবি-কবিকে স্মরণ করবেন। ব্যতিক্রম নয় ‘বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন’ও। তাদের উদ্যোগে পঁচিশে বৈশাখ, শুক্রবার থেকে শুরু করে এক সপ্তাহ ধরে চলবে কবিগুরুর প্রতি তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ।           

‘বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন’ তাদের পঁচিশ বছর পূর্তিবর্ষে পরিকল্পনা করেছিল সারা বছর ধরে নানা ধরনের সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান করার। তাতে বর্তমান ছাত্রীদের সঙ্গে যোগ দিতেন প্রাক্তনীরা এবং সকলের পরিবারবর্গ। কিন্তু করোনাভাইরাসের জেরে এই পরিকল্পনা বানচাল। নতুন করে চিন্তাভাবনা চলল। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়েছে ঘরে বসেই কবির জন্মদিন পালন করা হবে।

প্রথমে ঠিক ছিল, ঘরে বসেই রেকর্ডিং করে আর নৃত্যাঙ্গনের কিছু পুরোনো অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্যে মিশেল করে অনুষ্ঠান পরিবেশন করার। এই অনুষ্ঠানে শোনা ও দেখা যেত ছাত্র-ছাত্রীদের নাচ, গান আর আবৃত্তি। এই পরিবেশনা সীমাবদ্ধ থাকত বাগুইআটির আঙিনায়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বৃহত্তর রূপ নিয়েছে। ‘বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন’-এর কবিপ্রণামে যোগ দিচ্ছেন কলকাতা, শান্তিনিকেতন, মুম্বই, বাংলাদেশ, এমনকি সুদূর লন্ডনের বিশিষ্ট শিল্পীরা। পচিঁশে বৈশাখ শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠান চলবে সপ্তাহব্যাপী,  সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে|

সপ্তাহব্যাপী এই কবিপ্রণামে থাকছেন সংগীতশিল্পী মোহন সিং খাংগুরা ও তাঁর পরিবার, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ইন্দ্রাণী সেন, শ্রাবণী সেন, মনোজ মুরলী নায়ার, মনীষা মুরলী নায়ার, সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। থাকছেন নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায়, মালবিকা সেন, কৌশিক চক্রবর্তী, মধুমিতা বসু, শুভময় সেন, চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত ও তাঁর পরিবার, সুদেষ্ণা সান্যাল রুদ্র, জয়িতা বিশ্বাস, কাজল গুপ্ত ও অন্যরা| থাকছেন বাচিকশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। এ ছাড়াও রয়েছেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।

শ্রাবণী সেন।

অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শান্তিনিকেতন থেকে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (সংগীত ভবন), ত্রিপুরা থেকে মনীষা পাল চৌধুরী, মুম্বই থেকে শুভ্রজিৎ রায়, ঢাকা থেকে গোলাম হায়দার ও মিজানুর রহমান তাসলিম, চট্টগ্রাম থেকে এহতেশামুল হক, সাবিনা ইয়াসমিন সাথী ও কৃষ্ণেন্দু দে, লন্ডন থেকে স্যান্ডি ম্যান চক্রবর্তী। এ ছাড়া থাকবেন যন্ত্রসংগীতে বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী  এবং ঢাকিসম্রাট গোকুল দাস, গোপাল দাস ও অন্যরা|

এই অনুষ্ঠান সফল করার জন্য ‘বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন’-এর পক্ষ থেকে সকলের সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়েছে।                            

Continue Reading

অনুষ্ঠান

মোহিনী-মায়ায় ঋদ্ধ দুই সন্ধ্যা

পাপিয়া মিত্র

বেহালা শরৎ সদনের সামনে লম্বা লাইন। সকলের চোখে-মুখে একই উদ্বিগ্নতা – বসার জায়গা মিলবে তো? সম্প্রতি ‘মোহিনী চৌধুরী জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি’ আয়োজন করেছিল এক শ্রদ্ধাঞ্জলি-সন্ধ্যা। চলল পর পর দু’ দিন। পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহের ধারে ধারে শ্রোতাদের ভিড়, তাঁরা শুনছেন গীতিকার, কবি, ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ১৯তম স্থানাধিকারী এক ছাত্র-যুবকের কথা। তাঁকে নিয়ে আলোচনায় রত কবীর সুমন, তাঁর কথনে শ্রোতারা আবিষ্ট। নানা বয়সের শ্রোতার মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল প্রেক্ষাগৃহ, মোহিনী চৌধুরীর এক পরিবারের স্বজন হিসাবে। সেই আনন্দ ধরে রাখতে না পেরে এক সময়ে সুমন বলেই ফেললেন দর্শক আসনের আলো জ্বালিয়ে দিতে।

মঞ্চে বসে আছেন প্রধান অতিথি কবীর সুমন, কল্যাণ সেন বরাট, মোহিনী-কন্যা মিতালি সেন এবং পুত্রদ্বয় ভবিষ্যৎ ও দিগ্বিজয় চৌধুরী, পরিমল ভট্টাচার্য, দীপঙ্কর আচার্য ও সমগ্র অনুষ্ঠানের ‘হাল’ শিল্পী শুভেন্দু মাইতি। শরীর অসুস্থ থাকায় তৃতীয় পুত্র দেবদূত মঞ্চে উঠতে পারেননি। সঙ্গে ছিল পৌত্র উৎসব এবং মোহিনী-পরিবারের অন্য সদস্যরা। নানা কথার ছলে কবীর সুমনের আলোচনা এগিয়ে চলল এবং উপসংহারে দাঁড়াল – যে তিন জন কবি-গীতিকার না লিখলে তিনিও গীতিকার হতেন না, তাঁদের মধ্যে অন্যতম মোহিনী চৌধুরী।

স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ।

এক কথায় আলোচনা ছিল খুবই ঘরোয়া। প্রসঙ্গক্রমে উঠে এল মোহিনী চৌধুরীর বহু অপ্রকাশিত কবিতার কথা। দুই সুরকার-শিল্পী কল্যাণ সেন বরাট ও কবীর সুমন আবেদন জানালেন, কিছু কবিতা তাঁদের দেওয়া হলে তাঁরা সুর করে নবীন প্রজন্মকে দিয়ে গাওয়াবেন। উত্তম প্রস্তাব। মোহিনী চৌধুরীকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন শুভেন্দু মাইতি। বক্তৃতা দিলেন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু দাশ। উদ্‌বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্মারক ও স্মারক-গ্রন্থ দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

‘মোহিনী চৌধুরী’ স্মরণানুষ্ঠান পর পর দু’ দিন এক মোহিনী জালে জড়িয়ে ফেলেছিল। প্রথম দিনে মঞ্চ ও শ্রোতা-দর্শকরা যেমন এক সঙ্গে ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ গেয়েছিলেন, তেমনই পরের দিন গীতিকারকে নিয়ে তথ্যচিত্র দেখার জন্য ভিড় জমেছিল অনেক আগে থেকেই। বাঙালি বুঝিয়ে দিয়েছিল, আজও তাঁকে তারা ভোলেনি।

ভোলা যাবে কী করে? মনে করা যাক ১৯৩৭-প্রথম রেকর্ডিং-এর কথা – কুসুম গোস্বামীর কণ্ঠে ‘রাজকুমারী ওলো, নয়নপাতা খোলো’। সেটি প্রকাশিত হল ১৯৪৩-এ। তাতে কী এসে গেল? কবির খাতায়-কলমে তখন এক বৈশাখী ঝড় উঠেছে। লিখে চলেছেন সেই সব কালজয়ী লেখনী। বেহালার মাটিকে ধন্য করে, পুজোর আকাশে-বাতাসে সজোরে ধাক্কা দিল ‘পৃথিবী আমারে চায়’-এর মতো গান। চল্লিশের দশকে এমন দৃপ্ত লেখনীতে সুর দিলেন কমল দাশগুপ্ত এবং কণ্ঠ দিলেন পড়শি সত্য চৌধুরী। কেউ ভাবল প্রেমের গান, কেউ ভাবল জাগরণের। আধুনিক কবিতার সুর-সমুদ্রে ঢেউ উঠল সফেন – ‘জেগে আছি কারাগারে’, ‘আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়’, ‘আজি কাশ্মীর হতে কন্যাকুমারী’, ‘হায় আমারও যে ঘর ছিল’, ‘তুমি যদি বলো ভালোবাসা দিতে জান না’, ‘জয় হবে, হবে জয়’, ‘শতেক বরষ পরে’ ইত্যাদি। নানা কবিতা, কবিতা থেকে গান।

সংগীত পরিবেশনা। নেতৃত্বে কল্যাণ সেন বরাট।

সে দিন যে সব শিল্পী মন কেড়েছিলেন, বরং বলা ভালো আন্তরিক ভাবে যাঁরা গেয়েছিলেন, তাঁদের মনের গভীরতা থেকেই যে শ্রদ্ধা উঠে এসেছিল কণ্ঠে তা বলাই বাহুল্য – গাইলেন মনোময় ভট্টাচার্য, শম্পা কুণ্ডু, অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈকত মিত্র, গৌতম ঘোষাল, সুস্মিতা গোস্বামী। আরও অনেক শিল্পীর পরিবেশনাও ছিল যথাযথ। সম্মেলক গান ছিল ‘ক্যালকাটা কয়্যার’, ‘উঠোন’ ও ‘পান্থপাদপ’-এর। চৈতালি হালদারের আবৃত্তি মন কাড়ে। শুভেন্দু মাইতির কণ্ঠে ‘জেগে আছি কারাগারে’ গানটি শুনে মন চলে গিয়েছিল চল্লিশের দশকের সেই সময়ে। মোহিনী চৌধুরীর কবিতা গান হয়েছিল মানুষের মনে মনে। দু’ দিনের অনুষ্ঠানে মনে হল যেন সেই সব গান প্রস্ফুটিত হল সকলের কাছে।

যে সব যন্ত্রানুষঙ্গী শিল্পী না থাকলে সে দিনের আসর জমে উঠত না, তাঁরা হলেন তবলায় শিল্পী দীপঙ্কর আচার্য, জগন দাস (গিটার), দীপজ্যোতি আচার্য (বেহালা), মনোজ রথ (অক্টোপ্যাড) ও উত্তম মুখোপাধ্যায় (কি বোর্ড)। কথায় ও সুরে যাঁরা মৈত্রীবন্ধন করেছিলেন সেই দুই সঞ্চালক হলেন কৌশিক সেন ও অলোক রায়ঘটক।

এই অনুষ্ঠান দু’ দিনেই শেষ নয়। সারা বছর ধরে চলবে মোহিনী চৌধুরী জন্মশতবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি। জেলা থেকেও ডাক এসেছে, জানালেন অনুষ্ঠানের সমাপ্তি-ঘোষক ও কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি বেণু চট্টোপাধ্যায়। শারীরিক অসুস্থতার জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি কমিটির সভাপতি শিল্পী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ছবি: সংগৃহীত             

Continue Reading

অনুষ্ঠান

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথি উৎসব পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার ছিল ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৮৫তম জন্মতিথি। সকাল থেকেই তাঁর জন্মভিটে হুগলির কামারপুকুর, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সদর দফতর বেলুড় মঠ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঠাকুরের জন্মতিথি উৎসব পালন করা হয়।

ছবি: রাজীব বসু।

এ দিন নবান্নে শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।  

কামারপুকুরে

এ দিন কামারপুকুরে ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়। আরামবাগ মহকুমার পাশাপাশি বাইরের জেলাগুলি থেকেও প্রচুর ভক্ত ঠাকুরের জন্মস্থান দেখতে আসেন। কাকভোরে মঙ্গলারতি দিয়ে উৎসবের শুরু। তার পর মঠচত্বর থেকে মহারাজদের নেতৃত্বে যথারীতি প্রভারফেরি বের হয়। প্রভাতফেরিতে মঠের মহারাজরা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও ভক্তরা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যোগ দেন। বর্ণাঢ্য ওই শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার দু’পাশে ব্যাপক ভিড় হয়। তার পর রীতি মেনে মঠ চত্বরে ভক্তিগীতি, কীর্তন, বাউল গান প্রভৃতি অনুষ্ঠান হয়।

সারা দিন ধরেই নানা অনুষ্ঠান চলে। সন্ধ্যায় বসে ঠাকুরের প্রিয় যাত্রার আসর। এ দিন ঠাকুরের ভোগপ্রসাদ গ্রহণ করতে অগণিত মানুষ ভিড় করেন। মঠসংলগ্ন একটি জায়গায় সর্বসাধারণের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।

বেলুড় মঠে

পূজার্চনা থেকে শুরু করে সানাই বাদন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মসভার মাধ্যমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৮৫তম জন্মতিথি পালিত হল বেলুড় মঠে। মঙ্গলবার ভোর থেকেই মঠ চত্বরে ভিড় করেছিলেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারে যজ্ঞ। ছবি: শ্রয়ণ সেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারে

দমদম চিড়িয়া মোড়ের কাছে সমর সরণিতে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারের মূল কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভক্তকুলের ভিড়। ভোরে মঙ্গলারতির মাধ্যমে শুরু হয় দিন। তার পরে চলেছে পূজার্চনা, যজ্ঞাদি। আশ্রমের আচার্য স্বামী সম্বুদ্ধানন্দের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের মহারাজরা পূজার্চনায় যোগ দেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আশ্রমের ভক্তবৃন্দ প্রসাদ গ্রহণ করেন।

Continue Reading
Advertisement
রাজ্য1 hour ago

নতুন সংক্রমণ কিছুটা কম, রাজ্যে করোনামুক্ত হলেন ১৫ হাজার

প্রযুক্তি1 hour ago

নতুন অ্যাপ ‘সেল্‌ফ স্ক্যান’ নিয়ে এল রাজ্য সরকার! এর কাজ কী?

বিনোদন3 hours ago

সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু-রহস্যে থানায় বয়ান রেকর্ডের পর নি‌ঃশব্দেই বেরিয়ে এলেন সঞ্জয়লীলা বনশালী

ক্রিকেট3 hours ago

ওপেনার সচিন তেন্ডুলকরের গোপন রহস্য ফাঁস করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

কেনাকাটা4 hours ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

দার্জিলিং4 hours ago

‘বিশ্বাস ছিল এই লড়াই জিতব’, করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরলেন অশোক ভট্টাচার্য

বিদেশ4 hours ago

মার্কিন পথে কুয়েতও, কর্মহীন হয়ে দেশছাড়া হতে পারেন ৮ লক্ষ ভারতীয়

currency
শিল্প-বাণিজ্য4 hours ago

পিপিএফের ৯টি নিয়ম, যা জেনে রাখা ভালো

কেনাকাটা

কেনাকাটা4 hours ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা1 day ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা6 days ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

smartphone smartphone
কেনাকাটা1 week ago

লকডাউনের মধ্যে ফোন খারাপ? রইল ৫ হাজারের মধ্যে স্মার্টফোনের হদিশ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ঘরে বসে যতটা কাজ সারা যায় ততটাই ভালো। তাই মোবাইল ফোন খারাপ...

নজরে