ইউটিউবে মুক্তি পেল কাশ্মীরের অস্থিরতা নিয়ে শ্রুতি আলেখ্য ‘নো সলিউশন’

0
nosolution
নো সলিউশন

স্মিতা দাস

যুদ্ধ শূন্য করে দিচ্ছে কত মায়ের কোল। অথচ এই ‘যুদ্ধ’, সে কিন্তু থেমে নেই। বিভিন্ন অজুহাতে চলছেই তার বিজয় উৎসব। কিন্তু যারা যুদ্ধে যাচ্ছে তারা কীসের টানে যুদ্ধে যায়। তারা কি আদৌ যুদ্ধ চায়। কী পায় সে যুদ্ধে গিয়ে? এমনই সব প্রশ্ন অনুরণিত হয়ে চলেছে মুহূর্মুহু যুদ্ধের আবহে। কাশ্মীরের অস্থিরতা সেই প্রশ্ন সেই আকুতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেমনই কিছু প্রশ্ন, হারিয়ে যাওয়া ফিরে পাওয়া স্মৃতি, সমাধান খোঁজার আকুলতা এই সব নিয়ে তৈরি একটি শ্রুতি আলেখ্য। নাম ‘নো সলিউশন’।

এমপি বিড়লা তারামণ্ডলে মুক্তি পেল এই শ্রুতি আলেখ্যটি। শ্রুতি আলেখ্যটি পাঠ করেছেন টলিউডের দুই উজ্জ্বল তারকা কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ও অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। ‘নো সলিউশনে’র রচনা ও পরিচালনায় রয়েছেন অময় দেব রায়। শ্রুতি আলেখ্যটিতে রয়েছে বিষয় উপযোগী চারটি গান। গানগুলি গেয়েছেন স্বরলিপি দাশগুপ্ত ও সৈকত মুখোপাধ্যায়।

কী থেকে এমন একটি ভাবনা নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন অময়? অময়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ‘নো সলিউশন’ একটি সীমান্ত পারের গল্প। এর আগে তিনি আরও একটি সীমান্তের গল্প নিয়ে শ্রুতি আলেখ্য করেছিলেন। তার নাম ছিল ‘সি ইউ’। এটি ছিল পূর্বসীমান্তের গল্প। সেই কাজ করার সময়, তা ছাড়া পরের কাজের স্ক্রিপ্ট কী হবে এমন চিন্তাভাবনা যখন চলছে সেই সময়ই দেশজুড়ে ভুয়ো যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়। কাশ্মীর সমস্যাটি জিইয়ে ওঠে। এই সমস্যাটি স্বাধীনতার পর বার বার উঠে আসছে। কিন্তু কোনো সমাধান মেলেনি আজও। তাই তখনই এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কাজ করার কথা মনস্থ করেন।

তিনি বলেন, গল্পে দুইটি চরিত্র রয়েছে, সুভাষদা ও মঞ্জু। এদের মধ্যে পাড়া তুতো বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময় মঞ্জু তার সুভাষদাকে কবিতা শোনাত। এর পর সুভাষ আর্মি জয়েন করে। সিয়াচেন যায়। সেখান থেকে নওসেরায় যায়। যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায় তাদের মধ্যে। বহুদিন পর মঞ্জুকে ফেসবুকে খুঁজে পায় সুভাষ। তার পর ফোন করে। ফোনে পুরনো স্মৃতি রোমন্থন তো হয়ই, উঠে আসে আরও কিছু বিষয়। সেই কথোপকথনেই প্রশ্ন ও প্রতিপ্রশ্নের মধ্যে দিয়ে কাশ্মীর সমস্যা, বুরহান ওয়ানির কথাও উঠে আসে। কথা হয় এর সমাধান কী? তাই নিয়েও। স্মৃতির গলি বেয়ে আসে উইলফ্রেড ওয়েনের কথাও। এক সময় মঞ্জু তাকে ওয়েনের কবিতাও শোনাত। সেই সূত্র ধরে একটি কবিতা পাঠও আছে। কবিতাটি পাঠ করেছেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়।

অময় বলেন, কমলেশ্বর ও অনন্যা কাজটি করতে শুধু রাজি হন তাই নয়, কাজটি খুব মন দিয়ে দায়িত্ব নিয়ে করেছেনও। ছোটো কাজ হওয়া সত্ত্বেও খুব গুরুত্ব দিয়েছেন সাংঘাতিক রিসার্চ ওয়ার্ক করেছেন দুই জনেই। নির্দেশনার কাজে তাঁদের অনেক অবদান আছে।

অময় বলেন, ছোটো চ্যানেল, কিন্তু কাজটি খুব মন দিয়ে করেছেন সকলে মিলে। তাই তাঁদের লক্ষ্য মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

আরও – অমর পাল স্মরণে লোকগানের জমজমাট আসর নবম সহজিয়া উৎসবে

কাজটি প্রায় ২০ মিনিটের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোটা আলেখ্যটি স্ক্রিনে দেখানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে কমলেশ্বর, অনন্যা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত চিত্র সমালোচক অধ্যাপক ক্রিটিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। এ দিনের অনুষ্ঠানে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এটি খুবই সাহসী একটি পদক্ষেপ। গোটা দেশজুড়ে যা চলছে তাতে এই ধরনের কাজ হওয়া উচিত ছিল। এটি অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য ও সময়োপযোগী। সকলে যেন এটি শোনেন এবং বিষয়টি নিয়ে সরব হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here