smita das
স্মিতা দাস

“সমাজে এরা মূলত ব্রাত্য, নিজের সমাজ-পরিবার-আত্মীয়স্বজনই তাদের মেনে নিতে পারে না। এরা বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ একা হয়ে যাচ্ছে। সেই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। চলার পথে এদের সঙ্গে নিতে হবে। ভালোবেসে হাত ধরতে হবে এই সব শিশুদের।”

সল্টলেক দৃষ্টি সেন্টারের ১৪ বছরের উদযাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পর্কে এ কথা বললেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সুস্মিতা নাগ।

সমাজ যাদের দূরে সরিয়ে রাখছে তাদের নিয়েই কাজ করছে ‘দৃষ্টি’। ‘দৃষ্টি’তে রয়েছে মূলত এডিএইচডি অর্থাৎ অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসওর্ডার-এ আক্রান্ত শিশুরা।

সল্টলেকের এফসি গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে এ দিন উপস্থিত ছিল এই রোগে আক্রান্ত বেশ কিছু শিশু। অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে, গান পরিবেশন করে, আব্রত্তি করে, গিটার বাজিয়ে তারা সকলকে আনন্দ দেয়।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের উপল সেনগুপ্ত, নৃত্যশিল্পী টিটো রক (সৌরভ), লোকসংগীতশিল্পী সুপ্রিয়।

দৃষ্টির কর্ণধার সুস্মিতা নাগ

‘দৃষ্টি’র ছাত্র এডিএইচডি-এ আক্রান্ত সুমন মালিকের মা লিপিকা মালিক বলেন, শিশুর মধ্যে বেশ কিছু সমস্যা যেমন অতিরিক্ত চঞ্চলতা, ধৈর্যহীনতা কাজ করত – সেগুলি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

অন্য এক ছাত্র অদৃরাজ দেব অধিকারীর মা প্রতিমা দেব অধিকারী বলেন, আগে তাঁরা নিজেরাও বিষয়টি সম্বন্ধে অজ্ঞাত ছিলেন। ছেলে কথা শুনছে না, জেদ করছে দেখে রেগে যেতেন। কিন্তু পরে বুঝেছেন এটি একটি অন্য রকমের রোগ। রাগ করে সমস্যা কমানো যাবে না। এখানে এসে সেই সমস্যার সমাধান করতে শিখছেন।

সুস্মিতা বলেন, রুটিন মাফিক চালানো, বুঝিয়ে বলা, সকলের মধ্যে থাকা, মাথা ঘামিয়ে কিছু করা বা বিশেষ কোনো কাজ বা মাথা খাটানোর কোনো খেলার দিকে এগিয়ে দেওয়া – এমন কিছু ছোটো ছোটো ব্যাপার আছে যেগুলি সাধারণ ভাবে করা যায় সেগুলিই হল মূলত এই রোগের ওষুধ। অভিভাবকদেরও মেনে চলতে হয় তাদের কিছু সাধারণ নিয়ম।

drishti
সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে শিল্পী উপল সেনগুপ্তকে

শিল্পী উপল সেনগুপ্ত বলেন, সমাজের কাজই হল যারা পিছিয়ে আছে তাদের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পায়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলতে সাহায্য করা। তেমনই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হাত বাড়াতে হবে এই প্রতিবন্ধী শিশুদের দিকে। মানুষের কাজ শুধু বড়ো হওয়া নয়। এক জন বড়ো মনের মানুষ হওয়া। আর তার পরিচয় পাওয়া যায় এই ধরনের কিছু কিছু কাজেই। এই শিশুদের সঙ্গে থাকতে পেরে খুবই খুশি তিনি।

আরও পড়ুন সৃজনের পালটা পরিসর তৈরির লড়াইকে শক্তিশালী করতে শহরে জনতার সাহিত্য উৎসব

গায়ক সুপ্রিয় বলেন, এই শিশুদের সঙ্গে কাজ করতে ওদের শেখাতে খুব ভালো লাগে। এদের মধ্যেও শেখার ইচ্ছা খুবই। সেই বিষয়ে দৃষ্টির প্রচেষ্টাও নিরলস।

Drishti
টিটো রকের সঙ্গে নাচে মত্ত শিশুরা

টিটো রক সৌরভ বলেন, এখানে মূলত আসা এই বিশেষ শিশুদের জন্যই। মানুষের ভালোবাসাটাই, ধৈর্য ধরে থাকাটাই সবাইকে আরও উৎসাহিত করবে।

দৃষ্টির কর্ণধার বলেন, ২০০৪ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এই সংস্থা কাজ করছে এই ধরনের শিশুদের একটি সুস্থ জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে। বড়ো হয়ে যাতে নিজেরটা নিজেই জোগাড় করতে পারে, কোনো একটি নির্দিষ্ট পেশায় ঢুকতে পারে তেমনই প্রচেষ্টা ‘দৃষ্টির’। এক একজন শিশুর পছন্দ এক একটি বিষয়, জোর দিতে হবে সেই সব দিকেই। তা সে আঁকা, নাচ, গান যা-ই হোক। সেই পছন্দের জগতেই থাকবে তাদের মুক্তির আলো, ভবিষ্যতের উন্নতি।

drishti
প্রতিবন্ধী শিশুদের হাতে তৈরি সামগ্রী

তিনি বলেন, প্রতিবার ১৩ তারিখটিকেই বেছে নেওয়া হয় এই অনুষ্ঠানের জন্য। কারণ, পরের দিন ১৪ তারিখ। ভালোবাসার দিন। সেই দিন যাতে সকলের কাছে বিষয়টি বা বলা ভালো আবেদনটি পৌঁছে যায় সেই উদ্দেশ্যই নিয়েই এই দিনটি বেছে নেওয়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here