স্মিতা দাস

আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর।

চার দিকে পলাশের গন্ধ, বাতাসে হিমেল পরশ। সকালে আকাশের মুখ ভার ছিল, বৃষ্টিও নেমেছিল কোথাও কোথাও, তবু বাগদেবীর আরাধনায় তেমন কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি। আর প্রতি বারের মতোই সরস্বতী পুজোর এই বিশেষ দিনে বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গনের আয়োজনের কোনো পরিবর্তন হয়নি।  তারা আয়োজন করেছিল ‘অনন্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’। এই সান্ধ্য আসর বসেছিল দমদম নাগেরবাজারের অজিতেশ মঞ্চে।

ফেলে আসা স্মৃতিকে আরও একবার তাজা করতেই এমন একটি বিশেষ দিনে এমন  একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন। সমবেত কণ্ঠে ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’ গান ও তার সঙ্গে সমবেত নৃত্যের মধ্যে দিয়ে সূচনা করা হয় এ দিনের অনুষ্ঠানের।

শুধু যে নিজেদের ছেলেবেলার স্মৃতিকে তাজা করতে এই আয়োজন তা বললে অসম্পূর্ণ বলা হয়।  ছোটোদের কাছে সরস্বতী পুজোর প্রকৃত আনন্দ তুলে ধরাও বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গনের অন্যতম প্রচেষ্টা। ২৫ বছর আগে ছোট্টো আকারে শুরু হয়েছিল বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন।

প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জয়িতা বিশ্বাস বলেন, এখন তা ধীরে ধীরে মহীরুহে পরিণত হয়েছে। এখন গান নৃত্য অঙ্কন আবৃত্তি – সব মিলিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন। শুধুমাত্র ভারতীয় সংস্কৃতিকেই ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। ছোটো থেকে বড়ো সব বয়সের ছাত্র-ছাত্রী তো রয়েইছে, সঙ্গে রয়েছেন তাঁদের মায়েরাও।

তিনি বলেন, অভিভাবকরা সরস্বতী পুজোর ব্যস্ততার মধ্যেও মিলিত হয়েছেন, সন্ধেটাকে অন্য রকম করে সাজিয়ে তোলার জন্য, সুন্দর করে তোলার জন্য।

তিনি বলেন, তাঁরা ছোটোবেলায় যে সরস্বতী পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে পারতেন, আজকালকার ইংরাজি মাধ্যম স্কুলে পড়া শিশুরা তো আর সে ভাবে এই সরস্বতী পুজোর আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পায় না। তাই এই প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করে আজকের শিশুদের মধ্যে সেই সরস্বতী পুজোর আমেজ আবেশকে ফিরিয়ে দেওয়ার। সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ছোটো বেলাটাকেও ফিরিয়ে আনার।

এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। দক্ষিণ দমদম পুরসভার পুর প্রতিনিধি কস্তুরী চৌধুরীর স্বামী রাজীব চৌধুরী। পূর্ণেন্দু বসু বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গনের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান। তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

এই দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ভরতনাট্যম ও কুচিপুড়ি নৃত্যশিল্পী অভিনেত্রী মালবিকা সেন, নৃত্যশিল্পী কৌশিক চক্রবর্তী এবং বিশিষ্ট উদ্যোগপতি ও সুরকার শিলাদিত্য চৌধুরী। তাঁদের সকলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মালবিকা সেন বলেন, বাঙালিরা, যাঁরা যে কোনো শিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাছে সরস্বতী পুজোটা একটি বিশেষ দিন। এই দিন বই খাতা সব কিছু দেবীর পায়ে নিবেদন করা হয়। পুজো করা হয়। কিন্তু বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন যে ভাবে নাচ গান সব কিছুর মধ্যে দিয়ে দেবীর আরাধনা করছে তার থেকে বড়ো পুজো বা বড়ো নিবেদন আর কিছুই হয় না। প্রতিষ্ঠানের আরও দীর্ঘায়ু কামনা করে অনেক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জয়িতা বিশ্বাসকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

নৃত্যশিল্পী কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, বসন্ত পঞ্চমীর এই একটি দিন নয়, সারা বছর, জীবনের প্রত্যেকটা দিন এমন আনন্দে ভরে উঠুক। তিনি বলেন, এই সংস্থার সঙ্গে বহু বছর ধরে জড়িত। তিনিও এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।  

গোটা অনুষ্ঠানটি ছোটো বড়ো সকলের নৃত্য গীতে ভরে ওঠে। একক সংগীত, সমবেত সংগীত যেমন পরিবেশন করা হয়, তেমনই পরিবেশন করা হয় একক ও সমবেত নৃত্য। একক ও সমবেত সংগীত পরিচালনায় ছিলেন শ্রাবনী সেনের সুযোগ্য ছাত্র শুভময় সেন। এ দিনের অনুষ্ঠানে শুভময় নিজেও একাধিক আধুনিক গান পরিবেশন করে সকলের মন জয় করে নিয়েছেন।

দেখুন – মহানগরীতে বাগদেবীর আরাধনা

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.