fair
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০১৯, করুণাময়ী
smita das
স্মিতা দাস

শুরু হয়ে গেল ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেগা ট্রেড ফেয়ার (আইআইএমটিএফ)। এ বার এই মেলা দ্বিতীয় বর্ষে পড়ল। মেলার উদ্বোধন করলেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। বিধাননগরের সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত এই মেগা ট্রেড ফেয়ার বা বাণিজ্যমেলার উদ্যোক্তা দ্য বেঙ্গল চেম্বার এবং জিএস মার্কেটিং। এই মেলা চলবে ২৩ জুন পর্যন্ত। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে ঘর সাজানো থেকে প্রাত্যহিক ব্যবহারের নানা সামগ্রী, খাদ্যসামগ্রী, শরীরস্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য নানান ফিটনেস সরঞ্জাম এবং পোশাক ও সাজের জিনিসও।

বিধাননগরের মেয়র ছাড়াও এ দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্য বেঙ্গল চেম্বারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জেনারেল স্মরজিৎ পুরকায়স্থ, আইআইএমটিএফ-এর সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান প্রকাশ শাহ এবং জিএস মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস-এর কো চেয়ারপারসন সুপর্ণ দত্তগুপ্ত।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে বিধাননগরের মেয়র বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য ভারতীয় পণ্যকে তুলে ধরতে এ ধরনের বাণিজ্য মেলাকে মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এ ব্যাপারে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। কেবল ক্রেতা হিসাবে আনন্দ নিলেই হবে না, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে বিক্রেতা হিসাবেও। তবে তা দেশীয় দ্রব্যের। চিনা সামগ্রীর রমরমা গোটা দেশে। ভারত চিনা দ্রব্যের খুব ভালো বাজার। তা হলে দেশের জিনিসের কদর করবে কে? তাই চাই প্রতিযোগিতার বাজারে ভালো উদ্যোগ ও উপযুক্ত সামগ্রী, যা গুণগত মানে অন্য দেশকে হার মানাতে পারে। নিজের জায়গা করে নিতে পারে।   

স্মরজিৎ পুরকায়স্থ বলেন, রাজ্যের চেষ্টা থাকে কী ভাবে বড়ো বড়ো লগ্নি রাজ্যে আনা যায়। তারই প্রচেষ্টার অংশ হল এই মেলা। এই মেলায় বিভিন্ন স্তরের মানুষ যেমন আসেন তেমনই দেশ বিদেশের নানা জায়গা থেকে বিক্রেতারাও আসেন। এই মেলার মাধ্যমে প্রচার পায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের। এই কর্মসূচিতে নানা চুক্তি হয়ে থাকে। ফলে লগ্নি আসার সুযোগ বাড়ে।

রকমারি ঘড়ি

তিনি বলেন, এই মেলায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ছাড়াও অংশ নিয়েছে, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান।

প্রকাশ শাহ বলেন, এই মেলা কলকাতার সব চেয়ে বড়ো খুচরো পণ্যের মেলা। এর জন্য সবাই অপেক্ষা করে থাকেন। গরমকালের কেনাকাটার জন্য সেরা। এই মেলায় আন্তর্জাতিক কোম্পানির স্টল যেমন আছে, তেমনই আছে সরকারি দফতরের স্টলও। আছে আসবাব ও ঘর সাজানোর সামগ্রী, প্রক্রিয়াকৃত খাদ্য, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সরঞ্জাম, এমনকি শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্টল। সঙ্গে আছে অটো শো। সব মিলিয়ে এ বারে প্রায় আড়াইশোটি স্টল রয়েছে। এই মেলার আয়োজন মূলত ১৮ বছর ধরে করা হচ্ছে। তবে বিধাননগরে এটি দ্বিতীয় বর্ষ।


মেলা ঘুরে দেখলেন মেয়র

মেলায় আসা বিভিন্ন দেশের স্টল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা গিয়েছে মেলা নিয়ে অনেক আশায় আছেন তাঁরা।

কাবুলের এক ড্রাই ফ্রুটস ব্যবসায়ী জানান, তিনি আগের বারও এসেছিলেন। বেশ ভালো ব্যবসা হয়েছিল। এই বারেও তেমনই আশা করে এসেছেন। আশা করছেন ভালোই হবে। স্টলে রয়েছে আখরোট থেকে আমন্ড, খেজুর থেকে নানান ধরনের শুকনো বাদাম, ফল ইত্যাদি।

বেলজিয়ামের কৃত্রিম ফুল

বাংলাদেশের শাড়ি বিক্রেতা মহম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানের মানুষজন শাড়ির ব্যাপারটি খুব ভালো বোঝেন। তাঁরাও অপেক্ষায় থাকেন এই মেলার জন্য। এই বারেও আগের বারের মতোই ভালো সাড়া পাবেন বলে আশা রাখছেন। তিনি বলেন, এখানে মোটামুটি ভাবে ৫০০ টাকা থেকে কাপড়ের দাম শুরু হচ্ছে।


বাংলাদেশের শাড়ি

আফগানিস্তানের অনেক্স পাথরের তৈরি সামগ্রী বিক্রেতা বলেন, মেলায় কম থেকে বেশি দামের অনেক রকমের সামগ্রীই রয়েছে। মোটামুটি ভাবে ১৫০ টাকা থেকে তিন লক্ষ টাকার দামের সামগ্রী পাওয়া যাবে এই স্টলে। প্রথম  দিনই টুকটাক বিক্রি শুরু হয়েছে। এমন ভাবে চললে মেলায় ভালোই বিক্রি হতে পারে।


অনেক্স পাথরের তৈরি সামগ্রী

গরমকালে এমন একটি মেলা পেয়ে বেশ খুশি দর্শকরাও। মেলায় ঘুরতে এসেছেন ৬৫ বছরের স্বপ্না দাস। নাতিনাতনিদের জন্য কিছু পোশাক ও সাজের জিনিস কেনার ইচ্ছা আছে তাঁর। তিনি বলেন, বেশ ভালো লাগে এই মেলাটা হয় বলে। আগের বারও তিনি এসেছিলেন। জিনিসপত্র কেনাকাটাও করেন। এ বারেও করবেন।

মেলার একটি স্টলে

অন্য এক জন মালা রায়। বলেন, ঘরের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সারা বছরই লাগে। কিন্তু মেলা কেবল শীতকালে হয়। কিন্তু দুই বছর ধরে গরমেও এই মেলাটি হওয়াতে অনেক সুবিধে হয়েছে।

আরও পড়ুন – সাবর্ণ সংগ্রহশালার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘মুর্চ্ছনা – রাগ সঙ্গীত বৈঠক’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here