programme in Muralidhar Girls College
মুরলীধর কলেজে অনুষ্ঠান। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি: আমাদের দেশ এবং রাজ্য শিক্ষায় অনেকটা এগোলেও সার্বিক শিক্ষার লক্ষ্যে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে বাকি। এখনও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আসা পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা নিজেদের নাম লিখতে পারেন না। তবে আশার আলোও রয়েছে। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত পরিবারের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। সাফল্যের কাহিনিও রয়েছে অনেক। এ রকম বেশ কিছু ঘটনার সাক্ষী কলকাতার মুরলীধর গার্লস কলেজ, একটু একটু করে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শত বর্ষ পূর্ণ করল।

এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯১৯ সালে। প্রথমে নাম ছিল বালিগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যাপীঠ। ১৯৪০ সালে তা হয়ে ওঠে কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। ২৪ এপ্রিল মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করল তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষায়তন।   

মুরলীধরবাবু ছিলেন সংস্কৃত এবং বাংলা ভাষায় পণ্ডিত। তাঁকে ‘‌বিদ্যারত্ন’‌ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তা ব্যবহার করতেন না। দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা করতেন তিনি। মেয়েদের স্বাবলম্বী করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। বুঝেছিলেন মেয়েদের লেখাপড়া শেখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। 

আরও পড়ুন সংস্কার ভারতীর নতুন বাংলা দেওয়ালপঞ্জিতে ভারতের গুহাশিল্প

মুরলীধর গার্লস কলেজের লক্ষ্য, প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। সেই সঙ্গে মহিলাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কাজে সাহায্য করা। দীর্ঘদিন ধরে সে কাজ হয়ে আসছে। এর পাশাপাশি এই কলেজের অনেক পড়ুয়াই রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাহায্য পেয়েছেন।

২০১৬–১৭ সালে এই কলেজের ১২৫, ২০১৭–১৮ সালে ১৫৫ এবং এবং ২০১৮–১৯ সালে ২৪০ জন কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধে পেয়েছেন। কলেজের উপযুক্ত পরিবেশ, পরিকাঠামো, এবং রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের সাহায্যে লেখাপড়া শেখাটা তাঁদের কাছে এখন সহজতর হয়েছে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক দশক আগে যে স্বপ্নের বীজ পুঁতেছিলেন আজ ধীরে ধীরে সেটি তার ডালপালা মেলেছে।

মুরলীধর কলেজের অধ্যক্ষা কিঞ্জলকিনি বিশ্বাস বলেন, “‌আমার পড়ুয়াদের দেখে ভালো লাগে, গর্ব হয়। এঁদের অনেকেরই সন্দেহ ছিল আর কত দিন লেখাপড়া চালানো যাবে। এখন সেই আশঙ্কার মেঘ দূর হয়েছে। এখন এ কথা বলা যায় তাঁদের জন্য ঝকঝকে দিন অপেক্ষা করছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাহায্য, কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাহায্য তেমনটা সম্ভব করেছে। এখানে বিজ্ঞান পড়ানোর ব্যবস্থা ছিল না। বছর কয়েক আগে তা শুরু হয়েছে। আমি নিজে রসায়নের ছাত্রী। তাই জানি বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপড়া করে চাকরির অনেক সুযোগ রয়েছে, জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায়। সে কথা ভেবেই বিজ্ঞান বিভাগ চালুর উদ্যোগ। শিক্ষাবিদ মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায় যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা তা পুরণ করার কাজ করে যাচ্ছি। ২৪ এপ্রিল তাঁর জন্মদিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন।”‌ 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্টবেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জুরিডিক্যাল সায়েন্সেস-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. কবিতা সিং। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর অধিকার সম্পর্কিত আইন বিষয়ে বলেন। উপস্থিত ছিলেন মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দৌহিত্র স্বপন রায়চৌধুরী। কলেজের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here