গুরু নানকের জীবন ও দর্শন নিয়ে জাতীয় গ্রন্থাগারে সেমিনার

0
JIS
সেমিনার মঞ্চ

কলকাতা: সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের জন্য ভারত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশ হিসাবে গণ্য হয়। এখানে বহু ধর্মের মানুষের বাস। তার মধ্যে অন্যতম হল শিখ ধর্ম। আগামী নভেম্বর মাসে গুরু নানকদেবের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হবে। সেই উপলক্ষ্যে শুধু পঞ্জাব সরকারই নয়, এই ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংস্থাও এই শুভ দিনটি উদযাপনের জন্য দেশ জুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।

ঠিক এরই অঙ্গ হিসাবে সম্প্রতি শিরোমণি গুরদ্বার প্রবন্ধক কমিটির (এসজিপিসি) সহযোগিতায় জিআইএস বিশ্ববিদ্যালয় গুরু নানকদেবের জীবন ও দর্শনের উপর একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করে। আলিপুরের বেলভেডিয়ারে জাতীয় গ্রন্থাগারের ভাষা ভবনে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন হল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে

সেমিনারে হিন্দু, মুসলিম ও শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসজিপিসির শ্রী অমৃতসর সাহিবের চিফ সেক্রেটারি ডঃ রূপ সিং, পাটিয়ালার পিবিআই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলার ডঃ যশ পাল সিং এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক জাতীয় কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস তারলোচন সিং।

জেআইএস ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর সর্দার তরণজিত সিং বলেন, শিখ সম্প্রদায়ের অন্তরে কলকাতার একটা বিশেষ স্থান রয়েছে। এই শহরের সঙ্গে শিখ সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। শহরবাসীর একটা বড়ো অংশ শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত। এবং তারা সতত বর্ধমান। এই কলকাতা থেকেই গুরু গ্রন্থ সাহিবের বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ১৫ জুন তারিখটির একটা বিশেষ তাৎপর্য আছে শিখ সম্প্রদায়ের কাছে। ১৬০৬ সালের এই দিনে শ্রী অকাল তখতের শিলান্যাস করেছিলেন গুরু হর গোবিন্দ সাহেব।

আরও পড়ুন – করুণাময়ীর মাঠে শুরু হয়ে গেল ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেগা ট্রেড ফেয়ার

কলকাতার শিখ মিশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাম্মানিক ইনচার্জ সম্মানিত সর্দার জগমোহন সিং গিল বলেন, পূর্ব ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে পঞ্জাবিদের অবদান সম্পর্কে কাজ করতে গিয়ে জানতে পেরেছি বিখ্যাত বাঙালি সংস্কারবাদী পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে পঞ্জাবের একটা যোগসূত্র ছিল। ১৭৯৭ সালে পশ্চিম পঞ্জাবের এক সারস্বত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেন যোগধ্যান মিসের। এই পণ্ডিতের কাছে বিদ্যাসাগরমশাই জ্যোতির্বিদ্যা শিখেছিলেন। ১৮২৬ সালে মিসের কলকাতার সংস্কৃত কলেজে জ্যোতির্বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে হিসাবে যোগ দেন। তিনি ২৩ বছর ওই পদে কর্মরত ছিলেন।

ডঃ জসপল সিং বলেন, বহু মানুষের ব্যক্তিত্ব নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিলেন গুরু নানক। গুরু গ্রন্থ সাহিবে বাবা ফরিদ ও বাংলার কবি জয়দেবের প্রভাব রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিখ বিশ্বাসের অনুরাগী ছিলেন। এই ধর্মে সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের যে কথা বলা হয়েছে, তাকে বিশ্বকবি সম্মান জানাতেন। এই ধর্মের গোড়ার কথাই হল ঈশ্বরের অনন্যতায় বিশ্বাস। ঈশ্বর যদি এক হয় তবে তা মানুষকে বিভক্ত করতে পারে না। মানুষের বহুত্ব ও বৈচিত্র্য উদযাপন করতে হবে। এগুলো বিবাদের কারণ হতে পারে না। শিখ ধর্ম ভিন্নতার পরিবর্তে মানুষের মধ্যে সাদৃশ্যের কথা বলে। এদের প্রথম নীতি হল, অন্যের পরিচয় মেনে নেওয়া, দ্বিতীয় নীতি সেই পরিচয়কে সম্মান করা এবং তৃতীয় হল সেই পরিচয় রক্ষা করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here