শিশির মঞ্চে ‘নবসৃজনী’-র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অ্যালবাম প্রকাশও

nabasrijani
'নবসৃজনী'র অনুষ্ঠান। নিজস্ব চিত্র।
papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

সম্প্রতি শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল ‘নবসৃজনী’-র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা। আমন্ত্রিত আরও তিনটি দল ‘মুক্তধারা’, ‘রেওয়াজ’ ও ‘ক্রিয়েশন’ যোগ দিয়েছিল ‘নবসৃজনী’-র সঙ্গে। মঞ্চে ৫০ কণ্ঠের সংগীত পরিবেশন করা হয়েছিল। সমগ্র অনুষ্ঠানটি তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে ছিল গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী’ ও ‘তাই তোমার আনন্দ’ – ইংরাজি অনুবাদ-সহ দু’টি গান।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন শরৎ বসুর দৌহিত্র অভিজিৎ রায়। যে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁদের বাড়িতে আসতেন, সাহিত্য জগতের যে সব গুণীজনের পদার্পণ ঘটত, তাঁদের কথা উঠে আসে
তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে। অভিজিৎবাবুকে সম্মানিত করেন ‘নবসৃজনী’-র সম্পাদক শুক্লা ঘোষ। সঙ্গে ‘মুক্তধারা’, ‘নবসৃজনী’ ও ‘রেওয়াজ’-এর ধারক-বাহক নমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সম্মানিত করা হয়। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা ভালো, ‘নবসৃজনী’ সংস্থার চার পাঁচ জন ছাড়া সকলেই প্রবীণা।

সংস্থার বার্ষিক অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া রবীন্দ্রসংগীতের একটি অ্যালবাম প্রকাশ। ‘যে আছ অন্তরে’ শিল্পীর প্রথম অ্যালবাম। জানিয়ে রাখা ভালো, শিল্পী নমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রবীন্দ্রসংগীতের শিক্ষা সুচিত্রা মিত্রের কাছে এবং ‘রবিতীর্থ’ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার প্রমাণ তিনি আজও রেখে চলেছেন। শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিয়েছেন শিল্পী মল্লার ঘোষের কাছে। শুরুটা কেমন ছিল? ছোটো থেকে আরও পাঁচ জনের মতো গান শিখলেও ছ’ বছরে শুরু করেন প্রদ্যোৎনারায়ণের কাছে তালিম নেওয়া। সেখানে সব রকমের গান শিখেছেন। তাঁর মৃত্যুর পরে নমিতা চলে আসেন সুচিত্রা মিত্রের কাছে।

আরও পড়ুন: ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’র কবি-গীতিকারকে শতবর্ষে স্মরণ করে উদযাপিত হল বেহালা বইমেলা

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পীর পরিচালনায় ছ’টি রবীন্দ্রসংগীত ও ছ’টি নজরুলগীতির পরিবেশন ছিল। শ্রুতিমধুর পরিবেশন। নমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ‘স্বপন পারের ডাক শুনেছি’ ও নজরুলগীতি ‘মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর’ শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছে। তৃতীয় পর্বে ছিল নৃত্যানুষ্ঠান। উর্মিলা ভৌমিকের পরিচালনায় তাঁর ছাত্রীরা অসাধারণ আবৃত্তিযোগে নৃত্য পরিবেশন করে। ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতা দু’টিকে বেছে নিয়েছিলেন উর্মিলা ভৌমিক। ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় ইংরাজি ও বাংলা ভাষ্যপাঠে খুবই সাবলীল। উল্লেখযোগ্য প্রিয়াঙ্কা সরকারের নৃত্য পরিবেশন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তুলিকা রায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.