‘সমর্পণ’, ‘শ্রীরামকৃষ্ণ উপাসনা’, হৈমন্তী-শ্রীকুমারের দু’টি সিডি প্রকাশ করল শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার

0

এর পর সিডি প্রকাশ। হৈমন্তী শুক্লার গাওয়া ‘সমর্পণ’ শীর্ষক সিডিটি প্রকাশ করলেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। এই সমর্পণ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে, মা সারদার কাছে এবং সার্বিক ভাবে ঈশ্বরের কাছে। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং হৈমন্তীর গাওয়া সেই সিডির গান সামান্য বাজিয়ে প্রকাশ হল ‘সমর্পণ’-এর। ঠিক একই ভাবে শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘শ্রীরামকৃষ্ণ উপাসনা’-র সূচনা করলেন শ্যামলকুমার সেন। শ্রীকুমার নিজেই ওই সিডির গান এক কলি শুনিয়ে দিলেন। এর পর ফ্রেমে বাঁধানো সারদামায়ের বাণী-সংবলিত ছবি বিশিষ্টজনেদের হাতে তুলে দিলেন স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ। কেমন লাগছে? সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের প্রশ্নে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বললেন হৈমন্তী। তাঁর আন্তরিক বক্তব্যে হৈমন্তী বুঝিয়ে দিলেন ‘গলায় কেমন সুর আসে না গুরু মহারাজের (স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ)’। গানের প্রকৃত স্বাদ কী ভাবে নিতে হয় তা বুঝিয়ে দিলেন শ্রীকুমারবাবু। এই পরিবেশে কেমন লাগছে, তা খোলা মনে ব্যক্ত করলেন হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শ্যামলকুমার সেন। বললেন, “এখানে এসে এক নির্ভেজাল অনাবিল শান্তি পেলাম। এই অনুষ্ঠান অন্যত্র হলে এত একাত্মতা হত না।” ‘দরশন দাও, তুমি মাগো আমার’ – হৈমন্তী শুক্লা এক কলি গাওয়ার পর সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় তাঁর অনুভুতির কথা বললেন। তাঁর বক্তৃতার প্রতিটি ছত্রে ঝরে পড়ল পাণ্ডিত্য আর রসবোধ। শ্রোতাকুলকে কী ভাবে ভাষণ দিয়ে মজিয়ে রাখা যায় তাঁর জ্বলন্ত প্রমাণ সঞ্জীববাবু। এর আগে প্রায় সব অতিথিই বলেছেন, এই অনুষ্ঠান আগের দিন হলে তাঁরা আসতে পারতেন না। কারণ অন্যত্র কাজ ছিল। তাঁদের সেই বক্তব্যের খেই ধরে সঞ্জীববাবু বললেন, “আসলে আজকের রাতটাই বিস্ময়ের। ঠাকুরের ইচ্ছে হল, তাই আজ রাতে আমরা সমবেত হয়েছি। এর পিছনে তাঁরই কৃপা, তাঁরই ইচ্ছা।” সঞ্জীববাবুও বললেন, এই অনুষ্ঠান যদি কোনো বড়ো সভাস্থলে হত, তা হলে তা বাণিজ্যিক হয়ে উঠত, তাতে প্রাণ থাকত না।  এ দিনের এই রাতের প্রসঙ্গে সঞ্জীববাবু ১৮৮৩-এর সেই রাতের কথা স্মরণ করলেন। কেশবচন্দ্র সেনের বাড়ি কমল কুটিরের সেই রাত, যেখানে অনেকের সঙ্গে উপস্থিত থেকে নরেন্দ্রনাথের অভিনয় দেখেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। শ্রীরামকৃষ্ণ যে সংগীতগুরুও ছিলেন তা ব্যাখ্যা করে বোঝালেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। এর পর শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীরামকৃষ্ণ-সারদা বন্দনা। গাইলেন, ‘আমার এমন ভাগ্য কবে হবে, সেই রামকৃষ্ণের দেখা পাব।’ অনুষ্ঠান শেষ করলেন সঞ্চালক সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, তাঁর নিজের কথা দিয়ে। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণার ঢঙে তিনি শোনালেন আশ্রমের সঙ্গে তাঁর হৃদয়ের সম্পর্কের কথা। তিনি জানালেন, স্বামী সম্বুদ্ধানন্দের সঙ্গে তাঁর পরিচয় একটু একটু করে ২৫ বছরে পড়ল। তিনি প্রায় তিলে তিলে গড়ে উঠতে দেখলেন এই আশ্রম। সতীনাথবাবুর সুদক্ষ সঞ্চালনায় এবং বিশিষ্টজন, সন্ন্যাসী ও ভক্ত-শ্রোতাদের আন্তরিক সাহচর্যে সিডি প্রকাশের অনুষ্ঠানটি মন ছুঁয়ে গেল।]]>

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন