ছন্দে ছন্দে অনুষ্ঠিত হল মুনমুন মুখোপাধ্যায়ের ‘সৃষ্টিনগরে’র দ্বিতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠান

২০১৬ সালে সৃষ্টি হয় এই ‘সৃষ্টিনগর’

0
srishtinagar
smita das
স্মিতা দাস

অন্তর মম বিকশিত কর অন্তরতর হে।

কবিগুরুর এই লাইনটি দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন হয় বাচিকশিল্পী মুনমুন মুখোপাধ্যায়ের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সৃষ্টিনগরের দ্বিতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠানের। কলকাতার শিশিরমঞ্চে এ দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম আর সুকুমার রায়ের কবিতা নিয়ে তৈরি কোলাজ ‘অন্তরমম’ দিয়ে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ছিলেন কবি রেহান কৌশিক, কবি রুদ্র গোস্বামী, আবৃত্তিশিল্পী মধুমিতা বসু, জয়ন্ত ঘোষ, বিপ্লব চক্রবর্তী, মলয় পোদ্দার, বহ্নিশিখা গোস্বামী। এ দিন গোটা অনুষ্ঠানের আবহসংগীত সামলেছেন আশিস ঘোষ আর সুমন্ত মণ্ডল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শেখর দে, সৌম্য দে ও সব্যসাচী রুদ্রগুপ্ত।

srishtinagar
মঞ্চে মুনমুন মুখার্জি।

এই সৃষ্টিনগর সম্পর্কে দু’ চার কথা বলতে বলায় মুনমুন খবর অনলাইনকে জানান, ২০১৬ সালে সৃষ্টি হয় এই ‘সৃষ্টিনগর’। এই কয় দিনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২৫। তিনি বলেন, শিল্পী তৈরি করার ক্ষমতা নেই সৃষ্টিনগরের। তবে এটা অবশ্যই তাঁদের চেষ্টা থাকে বাচিক শিল্পকে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া। যাতে শিক্ষার্থীরা কবিতাকে ভালোবেসে অনুশীলন করতে পারে সেই মতো পরিস্থিতি তৈরি করা। এখনও পর্যন্ত দু’টি শাখা গড়ে উঠেছে সৃষ্টিনগরের। দমদম শাখা ছাড়াও রয়েছে দেশপ্রিয় পার্কে আরও একটি শাখা।

আরও পড়ুন – সাবর্ণ সংগ্রহশালার ১৪তম আন্তর্জাতিক ইতিহাস উৎসবে বাংলা সিনেমার একশো বছর

কবিতার অনুষ্ঠানে গোটা অবয়ব জুড়ে যে ছিল ‘ছড়ার ছন্দে আবোল তাবোল’, ‘বর্ণপরিচয়’, ‘গগনে গগনে নব নব বেশে রবি’-র মতো বেশ কিছু কবিতার কোলাজ সে কথা বলাই বাহুল্য। তা ছাড়াও ছিল একাধিক শ্রুতিনাটক – সুকুমার রায়ের ‘হিংসুটি’, স্বপন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মে আই হেল্প ইউ’ ইত্যাদি। এই আবৃত্তি আর শ্রুতিনাটক মঞ্চে উপস্থাপনা করেন সৃষ্টিনগরের শতাধিক শিক্ষার্থী।  তা ছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিল কবি রেহান কৌশিক, কবি রুদ্র গোস্বামীর সঙ্গে মুনমুনের একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব।

srishtinagar
মঞ্চে মুনমুনের সঙ্গে রেহান কৌশিক ও রুদ্র গোস্বামী

শিল্পী মধুমিতা বসু বলেন, এই শিল্পটি নিয়ে খুবই দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছেন মুনমুন। শিল্পী বহ্নিশিখা গোস্বামী বলেন, সৃষ্টিনগরের জয়যাত্রা মুনমুনের হাত ধরে অব্যাহত থাকুক। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক সৃষ্টিনগরের নাম। শিল্পী জয়ন্ত ঘোষ বলেন, মুনমুন আর সৃষ্টিনগর খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে। কবিতার উচ্চারণের শুদ্ধতা, ছন্দ ইত্যাদি নিয়ে সৃষ্টিনগর নজির গড়ার মতো কাজ করবে। মেধায় ব্যপ্তিতে এই প্রতিষ্ঠান অনেক বড়ো আকার ধারণ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here