Connect with us

গান-বাজনা

শ্রোতা-দর্শকদের হৃদকমলেই থাকল দেবের ‘সহজিয়া’ আর সৌমিত্রর ‘ভূমি’

নিজস্ব প্রতিনিধি: সে দিন ছিল ‘হৃদকমল’-এর পঞ্চম বর্ষ পূর্তি উৎসব। সেই উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত ‘হৃদকমলে রাখবো’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো হল বাংলা ব্যান্ড ‘ভূমি’র প্রধান সৌমিত্র রায়কে। এ ছাড়াও সম্মানিত করা হল বিশিষ্ট রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও গবেষক অরুণাভ লাহিড়ী, নাট্য পরিচালক আইনজীবী হীরক কুমার ঘোষকে। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কবি অরুণ চক্রবর্তী, নাট্য পরিচালক চিকিৎসক তপনজ্যোতি দাস এবং অভিনেত্রী সাওন সেন।

স্বাগত ভাষণে ‘হৃদকমল’-এর সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চৌধুরী সকলকে ধন্যবাদ জানালেন। সংস্থার সভাপতি প্রতিমা রায় স্মরণ করলেন প্রয়াত সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেনকে। তিনি জানালেন, ‘হৃদকমল’-এর প্রথম তিন বছরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবনীতা দেবসেন।          

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল দেব চৌধুরী ও তাঁর ‘সহজিয়া’ এবং সৌমিত্র রায় ও তাঁর ‘ভূমি’র পরিবেশনা। ‘সহজিয়া’র পরিবেশনায় কী ছিল না! বাউল, ফকির, দরবেশি, গোয়ালপাড়ি, ঝুমুর, কাওয়ালি, বিহু – লোকসংগীতের ঐতিহ্যশালী ভাণ্ডার একেবারে উজাড় করে দিল শ্রোতা-দর্শকদের কাছে। আর ‘ভূমি’ মঞ্চে হাজির হয়েছিল তাদের জনপ্রিয় সব গানের ডালি নিয়ে।

‘শ্যাম অঙ্গে অঙ্গ দিয়া আছো গো রাই ঘুমাইয়া’ – উদাত্ত গলায় ধরলেন দেব, সভাগৃহ ‘ভোরাই’-এর সুরে তখন মাতোয়ারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ভূমি’কে স্মরণ করে দেব বললেন, “আজ বারান্দায় রোদ্দুরের সঙ্গে এক মঞ্চে গাওয়া। সেই ছোটোবেলা থেকেই ‘ভূমি’র গান শুনছি।” দেবের দ্বিতীয় গান ও-পার বাংলার – ‘দিল না দিল না নিল মন দিল না, এত যে নিঠুর বঁধু জানা ছিল না’। একের পর এক গান পরিবেশনের ফাঁকে দেব জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আজ একটু অন্য ধরনের গান পরিবেশন করব।”

ও-পার বাংলার লালনের পরেই দেবের গলায় এ-পার বাংলার হাউরে গোঁসাইয়ের ‘খ্যাপা তোর কোন বিন্দুতে মদন অচেতন’ অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করল। তার পরেই দেব চলে গেলেন প্রতিমা বড়ুয়ার গাওয়া সেই জনপ্রিয় গোয়ালপাড়ি গানে – ‘তোমরা গেইলি কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে’।

রবীন্দ্র সদনে ‘হৃদকমলে রাখবো’ অনুষ্ঠানে।

বৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল এ দিন সহজিয়া তথা দেবের পরিবেশনা। গোয়ালপাড়ির পরে দেবের উপস্থাপনা বাংলা কাওয়ালি। গান শুরু করার আগে দেব নিজেই জানালেন, “এখন যে গান গাইছি সচরাচর গাই না।” তার পরেই ধরলেন ‘ধন্য ধন্য মেরা সেলসেলা এল, দিল্লিতে নিজামুদ্দিন আউলিয়া এল’। গোটা প্রেক্ষাগৃহ কাওয়ালির তালে যেন নেচে উঠল।

এর দেব পরিবেশন করলেন ১৬০০ পদের সৃষ্টিকর্তা শাহ আবদুল করিমের গান – ‘আমার মাটির পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে’। এর মাঝে সহজিয়ার তরুণ চৌধুরী পরিবেশন করলেন সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’র সেই বহুল প্রচারিত গান – ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ – আজকের দিনে এর চেয়ে বড়ো সত্যি আর কিছু নেই। এর পরের পরিবেশনা শ’ দেড়েক বছর আগে রাধারমণ দত্ত পুরকায়েতের লেখা ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া’।

এ বার সেই বিপুল জনপ্রিয় গান ‘লাল পাহাড়ির দেশে যা’র রচয়িতা কবি অরুণ চক্রবর্তীর লেখা আরেকটি কবিতা অবলম্বনে গান ‘মন দে যৈবন দে’। কবি স্বয়ং মঞ্চে হাজির হয়ে ‘সহজিয়া’র সঙ্গে গলা মেলালেন, উদ্বেল হয়ে উঠল সভাগৃহ।

লোকসংগীতের নানা ধারা ছুঁয়ে দেব এলেন দরবেশি গানে। গান পরিবেশন করার আগে দেব শোনালেন সেই কাহিনি, কী ভাবে আলাপ হয়েছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত লোকগীতির দরবেশি ধারার কিংবদন্তি শিল্পী কালাচাঁদ দরবেশের সঙ্গে আর সেই আলাপ তাঁর সংগীতজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। দেব উপস্থাপন করলেন কালাচাঁদের গান – ‘তুমি জানো না সে বন্ধুর বাড়ি আছে কোন জাগায়’।

‘সহজিয়া’র শেষ পরিবেশনা অসমের সেই বিখ্যাত গান ‘ফাগুনের পসুয়ায়’। এরই সুরে ‘ভূমি’র গান ‘ফাগুনের মোহনায়’। ‘সহজিয়া’ ও ‘ভূমি’র যৌথ পরিবেশনা প্রেক্ষাগৃহে এক দারুণ পরিবেশ সৃষ্টি করল, মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিল শ্রোতা-দর্শকদের। এ দিন দেব ছাড়া ‘সহজিয়া’র পক্ষে মঞ্চে ছিলেন তরুণ (বাঁশি), দীপ (কিবোর্ড), তিলক মহারাজ (খোল), ইন্দ্র (ড্রামস), অর্ণব (পারকাশন), রাজদীপ (বেস গিটার) এবং শংকর (ঢোল)।

আরও পড়ুন: বোলপুরের মঞ্চ মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিল বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন ও আন্তরিক

‘সহজিয়া’র পরে মঞ্চে এল ‘ভূমি’, ‘ভূমি’ শুধু একটা ব্যান্ডের নাম নয়, ‘ভূমি’ বাংলা সংগীত জগতে একটা আন্দোলন। এই আন্দোলনের পথিকৃৎ সৌমিত্র রায় ৪০ বছর বয়সে সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে গানকেই পাথেয় করে নিয়েছিলেন। ‘ভূমি’র চলার পথে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, ভাঙা-গড়া এসেছে, কিন্তু তারা থেমে যায়নি, বরং এগিয়ে চলেছে আরও উঁচু শিখর ছোঁয়ার জন্য। তাদের মুকুটে অনেক পালক – ‘ভূমি’ এশিয়ার একমাত্র ব্যান্ড যারা নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেয়েছে। ১৯৯৯-এ তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘যাত্রা শুরু’ দিয়ে পথ চলা শুরু। আজ প্রকাশিত হয়েছে ১৪টা অ্যালবাম, রাজ্য-দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ‘ভূমি’ করেছে ১৭৭৮টা লাইভ প্রোগ্রাম।

এ দিন মঞ্চে ‘ভূমি’ এল তাদের অত্যন্ত পরিচিত গানের সম্ভার নিয়ে। ‘বারান্দায় রোদ্দুর’, ‘পচা কাকা’, ‘কান্দে শুধু মন’, ‘লালে লালেশ্বরী’র উন্মাদনায় মেতে উঠলেন উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকরা।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি কথায় ও আবৃত্তিতে সুচারু ভাবে বেঁধে রেখেছিলেন বাচিক শিল্পী শোভনসুন্দর বসু।        

গান-বাজনা

কোভিড-এ আক্রান্ত প্রখ্যাত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

ঋদি হোক

প্রাণের গানের শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা কোভিড ১৯-এ (Covid 19) আক্রান্ত।

রবীন্দ্রসংগীত (Rabindrasangeet) শিল্পী হিসাবে দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয়। কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিষ্যদের মধ্যে তাঁকেই সব চেয়ে জনপ্রিয় গণ্য করা হয়। তিনি তাঁর গুণানুরাগীদের কাছে শুধুই ‘বন্যা’ নামে পরিচিত। সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে তাঁকে সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বাধীনতা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। বঙ্গভূষণ পদকেও ভূষিত রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (Rezwana Choudhury Bannya)। তা ছাড়াও আরও কত পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে।

তাঁর করোনাভাইরাসে (coronavirus) আক্রান্ত হওয়ার খবর শিল্পী নিজেই রবিবার রাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ১২ দিন আগে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন শিল্পী। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের বাসাতেই আইসোলেশনে রয়েছেন।

বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ভালো জানিয়ে সকলের কাছে তাঁর জন্য প্রার্থনা কামনা করেছেন। মঙ্গলবার দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষা। এ বারের পরীক্ষায় নেগেটিভ আসবে বলে আশা করছেন শিল্পী।

আরও পড়ুন: করোনায় আক্রান্ত মাশরাফি মোর্তাজা

উল্লেখ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন ৬৩ বছর বয়সি সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বঙ্গভূষণ, ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক-সহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কিংবদন্তিতুল্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

‘বন্যা’ বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে আবির্ভূত এক জন প্রথিতযশা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। তিনি তাঁর ঘরানার সংগীতের একজন বহুমুখী প্রতিভা হিসাবে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ভাবে সমাদৃত।

Continue Reading

গান-বাজনা

বাংলা লোকসংগীতের বিশ্বায়নের সূচনা, রিলিজ হল ‘ফোক কানেক্ট’

শম্ভু সেন:

বিশ্বব্যাপী এই বিধ্বংসী কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় সারা পৃথিবীর প্রায় সব শিল্পীই নিজেদের বাড়িতে বসে ভার্চুয়াল ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে কিছু না কিছু কাজ করছেন, তা তিনি গায়ক, বাদ্যযন্ত্রশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, বাচিকশিল্পী, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা বা অন্য যে কোনো শিল্প মাধ্যমের সঙ্গেই যুক্ত থাকুন না কেন মূলত তিনটি কারণ তাদের এই কাজে প্রণোদিত করেছে। প্রথমত, লকডাউন চলাকালীন ঘর-গেরস্থালির নানা রকম দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও অনেকটা উদ্বৃত্ত সময় থাকছে; দ্বিতীয়ত, এত দিন বাড়ির মধ্যে কোয়ারান্টাইন থেকে একঘেয়ে জীবনে কিছু বৈচিত্র্য আনা এবং তৃতীয়ত, ক্রিয়েটিভ এক্সারসাইজ। সারা বিশ্বেই এই সময় বেশ কিছু ভালো মানের কোয়ারান্টাইন প্রজেক্ট হয়েছে। বাংলাও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই, কলকাতার চার জন ভিন্ন ধারার মিউজিশিয়ানও একটি দারুণ কোয়ারান্টাইন মিউজিক প্রজেক্ট করে ফেলেছে, নাম ‘ফোক কানেক্ট’। 

এর সূত্রপাত এই বছরই জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে। চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের উপল সেনগুপ্তের বিখ্যাত ‘রুফ কনসার্ট ২০২০’-এর জন্য কাজ করতে গিয়ে দেখা হয় সহজিয়ার মূল গায়ক দেব চৌধুরী ও মিউজিক ডিজাইনার-প্রোডিউসার রুদ্রনীল চৌধুরীর। তাঁরা পরস্পরকে দীর্ঘদিন ধরে চিনলেও এর আগে এক সঙ্গে কোনো কাজ করেননি। এর ঠিক পর পরই চুঁচুড়ায় আরেকটি রুফ কনসার্ট ‘চিলেকোঠা’র জন্য এক সঙ্গে পারফর্ম করা যায় কি না, এ রকম চিন্তা-ভাবনা থেকেই ‘ফোক কানেক্ট’-এর ভাবনা শুরু হয়।

দেব বলেন, “আমি রুদ্রনীলকে ওর কাজের মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই চিনতাম, আমি ওর কাজ অত্যন্ত পছন্দ করি, আর রুদ্রনীল শুধুই নানা রকম ইনস্ট্রুমেন্ট বাজায় না, ও যে মিউজিকটা প্রোডিউস করে তার অন্তর্নিহিত অর্থ ও দর্শন বোঝে।” রুদ্রনীল যোগ করেন, “আমি সব সময় লোকসংগীত নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি, তবে সব সময়েই এমন একজন মানুষকে খুঁজেছি যে শুধু লোকসংগীত গায়ক-বাদক না, বিষয়টি গভীর ভাবে জানে ও যাপন করে।”

রুদ্রনীল চৌধুরী মিউজিক প্রোডিউসার হিসাবে সংগীতের নানা রকম ধারা – ব্লুজ, জ্যাজ, রক ইত্যাদি নিয়ে কাজ করলেও লোকসংগীতের প্রতি তাঁর একটা বিশেষ ঝোঁক বরাবর ছিল। রুদ্রনীলের বাবা ভালো খোল বাজান, সঙ্গে আরও নানা রকম তালবাদ্য। চন্দননগরের পৈতৃক বাড়িতে সুরের আবহেই তাঁর বেড়ে ওঠা। অন্য দিকে দেবের সাংগীতিক পথ চলা শুরু হয় মহীনের ঘোড়াগুলির গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কান্ট্রি, ব্লুজ, রক এবং সিনেমার মিউজিক নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার পর গত পনেরো বছর ধরে তিনি বাংলার লোকসংগীত নিয়ে নিবিষ্ট এবং বিস্তৃত কাজ করছেন।

মূলত দেব ও রুদ্রনীল এই দু’জনের সাংগীতিক ভাবনার মেলবন্ধনের নামই ‘ফোক কানেক্ট’। এই জার্নির মধ্যে দিয়ে তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন ধারার ফোক মিউজিশিয়ানদের কানেক্ট করতে চান। চুঁচুড়ায় সেই রুফ কনসার্ট ‘চিলেকোঠা’র সময়েই এই প্রজেক্টে তাঁদের সঙ্গে মিলিত হন আরও দু’জন দারুণ মিউজিশিয়ান। গায়ক-গিটারিস্ট-প্রোগ্রামার-প্রোডিউসার ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রুদ্র সরকার এবং ‘পরশপাথর’-এর সেই বিখ্যাত পারকাশনিস্ট পিকলু তথা কিংশুক চক্রবর্তী।

পুরো প্রজেক্টটি কনসিভ করে সিনে লাইভ মিডিয়া এন্টারটেনমেন্ট। কিন্তু এই কাজটি বাস্তবায়িত হওয়ার মুখেই লকডাউন শুরু হল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সবাই নিজেদের বাড়ির সেটআপে অডিও রেকর্ডিং এবং স্মার্টফোনে বা ডিজিটাল ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ডিং করেন। তাঁদের সহায়তা করেন তনুশ্রী, মেঘা, প্রিয়তা আর কৃষ্ণেন্দু। পরে সামগ্রিক সাউণ্ড মিক্সিং-মাস্টারিং, ভিডিও এডিটিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশন করেছেন রুদ্র সরকার।

এই ‘ফোক কানেক্ট’-এর প্রথম নিবেদন লালন সাঁইজির সেই বিখ্যাত গান ‘প্রেম রসিকা হব কেমনে’। এই গানটিকেই প্রথম গান বেছে নেওয়ার কারণ হিসাবে দেব বলেন, “গানটি খুবই রিদমিক, গ্রুভি এবং এর মিউজিক ডিজাইনের ক্ষেত্রে আমেরিকার লোকসংগীতের একটি জনপ্রিয় ধারা ব্লু-গ্রাস স্টাইল ব্যবহার করার ফলে গানটির মিউজিকাল অ্যাপ্রোচ বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো ভাষার মানুষকে কানেক্ট করবে।” রুদ্রনীল বলেন, “আমাদের এই প্রথম ট্র্যাকটির মধ্যে আমরা কোনো সিন্থেটিক সাউন্ড ব্যবহার করিনি, প্রায় সবটাই অ্যাকুয়াস্টিক এবং অথেনটিক।”

সাউন্ড-স্টুডিও-লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন-কাট-এর প্রচলিত ধারার বাইরে এসে এখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী একেবারে অন্য রকম ভাবে পরিণতি পেল এই কোয়ারান্টাইন প্রজেক্ট, যা উপল সেনগুপ্তের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘Gaan Taan’ থেকে সম্প্রতি রিলিজ হয়েছে। আমরা খবর অনলাইনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের সাফল্য কামনা করি – বাংলা লোকসংগীতের বিশ্বায়ন হোক।

Continue Reading

গান-বাজনা

অভিনেতাই যেখানে বাদক, পশ্চিমী গানে তবলার প্রয়োগ নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতে চলেছেন সৌম্যরূপ সাহা

soumyp

স্মিতা দাস

তবলা বাদ্যযন্ত্রটি কি শুধুমাত্রই ক্লাসিক্যাল অর্থাৎ শাস্ত্রীয়সংগীতের সঙ্গে শাস্ত্রীয় বাজনা হিসাবেই সীমাবদ্ধ? নাকি তা পশ্চিমী বাজনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশ্চিমী গানেও সমান প্রযোজ্য? এমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর বহু দিন ধরে খুঁজেছিলেন তবলা শিল্পী সৌম্যরূপ সাহা। তার জন্য প্রচুর সাধনা আর পরীক্ষানিরীক্ষাও করেছেন বহু দিন। তার পরই মিলেছে তাঁর প্রশ্নের উত্তর। সেই উত্তরই তুলে ধরেছেন শিল্পী তাঁর একটি ভিডিও-র মাধ্যমে। আগামী ২২ এপ্রিল ওয়ার্ল্ড আর্থ ডে-তে সেই ভিডিও মুক্তি পেতে চলেছে ইউটিউব চ্যানেল ‘সৌম্যরূপস ইউটিউবে’।

এই ভিডিও-র মূল বিষয় হল পশ্চিমী গায়িকা ক্রিস্টিনা পেরির গাওয়া থাউসেন্ড ইয়ার্স গানটির সঙ্গে তবলার সংগত। এটি একটি লাভ স্টোরি। এই গানটিকে চিত্রায়ণ করা হয়েছে বাংলার দুই অভিনেতার সাহায্যে। গল্পের বিষয়টিতে দেখানো হয়েছে একটি মেয়ে একজন ভবঘুরে তবলিয়াকে ভালোবেসেছে। এই মেয়েটির চরিত্রে অভিনয় করেছে সীমন্তিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও তবলিয়া আর কেউ নন সৌম্যরূপ নিজে।

প্রয়াত পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষের কাছে তবলাশিক্ষা নিয়েছেন সৌম্যরূপ।

সৌম্যরূপ বলেন, এই গানটির চিত্রায়ণে বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতিকে। পৃথিবীর এখন কঠিন লড়াইয়ের সময়, তাকে সুস্থ হয়ে উঠতেই হবে। তাই আশার বাণী তুলে ধরতে এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নিয়েছেন সৌম্যরূপ। বলে রাখা ভালো, সৌম্যরূপ হলেন একাধরে তবলাবাদক, গায়ক, অভিনেতা। ছোটো পর্দার লৌকিক না অলৌকিক ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে সৌম্যরূপকে। বলে রাখা ভালো সৌম্যরূপ অভিনয় শিখেছেন অভিনেতা স্বাগতা মুখোপাধ্যায় ও ঋষি মুখোপাধ্যায়ের কাছে।

পরিচিত ধারাবাহিকে সৌম্যরূপ।

সৌম্যরূপ প্রয়াত পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষের কাছে তবলাশিক্ষা নিয়েছেন। শিখেছেন পণ্ডিত বিক্রম ঘোষের কাছেও। ছোটো থেকেই তবলাতে নিজের কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তিনি, একাধিক প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তা ছাড়াও গানের সঙ্গেও রয়েছে তাঁর হৃদয়ের যোগ।

সৌম্যরূপ বলেন, ছোটো থেকে আরও একটি বিষয়ে তাঁকে খুবই আকর্ষণ করেছে। তা হল আধ্যাত্মবাদ। তিনি শ্রীভগবানজির কাছে বেদান্তের পাঠ নিয়েছেন, বর্তমানে তিনি নিজেও বেদান্তের ক্লাস নেন।

শ্রীভগবানজির সঙ্গে সৌম্যরূপ।

যাই হোক, মিউজিক ভিডিওটি নির্দেশনায় সুচিত্রা শ্রীবাস্তব, সম্পাদনায় প্রিয়াঙ্কা মহাপাত্র। ভিডিওগ্রাফিতে পায়েল সাহা।

করোনা সংক্রমণের এই কঠিন পরিস্থিতিতে সৌম্যরূপ তাঁর দর্শকদের বার্তা দিয়েছেন, ঘরে বসে নিজেকে সময় দিতে হবে। নিজের ভেতরের অচেনা অজানা ক্ষমতাগুলিকে আবিষ্কার করার কথা বলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন – মোহিনী-মায়ায় ঋদ্ধ দুই সন্ধ্যা

Continue Reading
Advertisement
দেশ3 days ago

কোভিড ১৯ আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ১৮,৫২২, সুস্থ ১৩,০৯৯

ক্রিকেট1 day ago

আইসিসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন শশাঙ্ক মনোহর, এ বার কি সৌরভ?

ক্রিকেট2 days ago

বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে আসন্ন টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে থাকছে ‘ব্ল্যাক লাইভ্‌স ম্যাটার’

kiran rao, aamir khan and azaad khan
বিনোদন2 days ago

আমির খানের বেশ কয়েকজন সহযোগী করোনা পজিটিভ

ক্রিকেট2 days ago

২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনাল: গড়াপেটার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ

DIY
ঘরদোর2 days ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

বিজ্ঞান1 day ago

কোভাক্সিন কী? জেনে নিন বিস্তারিত

বিদেশ2 days ago

ভারত ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করতেই চিনের জোরালো প্রতিক্রিয়া

নজরে