প্রাণবন্ত সংগীত-সন্ধ্যা উপহার দিলেন অলক রায়চৌধুরী

0
সংগীত পরিবেশন করছেন অলক রায়চৌধুরী (ডান দিকে)।

পাপিয়া মিত্র

সম্প্রতি রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহ এমন বাংলা গানে পূর্ণ থাকবে ভাবা যায়নি। সত্তরোত্তীর্ণ শ্রোতার পাশাপাশি যুবক-যুবতীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সে দিন যিনি সংগীত পরিবেশন করেছিলেন তিনি যে সকলের প্রিয় ও অত্যন্ত কাছের মানুষ, তা প্রমাণ করল রবীন্দ্র সদনের মতো এক প্রেক্ষাগৃহ। তিনি সকলের প্রিয় অলক রায়চৌধুরী।

জীবনের ৬০ বছর ও সংগীতজীবনের চার দশক পার হওয়া হাসিমুখের বিশিষ্ট শিল্পীর অনুষ্ঠান থাকলে বহু মানুষ আজও বাংলা গান শোনার জন্য ভিড় জমান। কেমন অনুভূতি ছিল একক সংগীত পরিবেশন করে? তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি – এটা তাঁর প্রথম একক অনুষ্ঠান নয়। তবে ভালো লেগেছে এই ভেবে যে তাঁর ছাত্র সুমন পান্থীর উদ্যোগে অনন্য মিউজিক এই দায়িত্ব নেওয়ায়। আর বেশির ভাগ মানুষ যেখানে বাংলা গান শোনে না, সেখানে উপস্থিতির হার দেখে তিনি অভিভূত।

সম্মাননার প্রত্যুত্তরে অলক। পাশে ইন্দ্রাণী সেন।

অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল, ‘জীবনের ৬০, গানের ৪৪-এ অলক’। অনুষ্ঠান শুরু হয় শিল্পী সম্পর্কে দীর্ঘদিনের বন্ধু ইন্দ্রাণী সেনের প্রাককথন দিয়ে। শিল্পী ইন্দ্রাণী সেনকে স্মারক দিয়ে সম্মাননা জানানো হয় অনন্য মিউজিকের পক্ষ থেকে।

কথায়, গানে শুরু হয় শিল্পীর পরিবেশন। গানের প্রেক্ষাপট বলে শুরু করেন রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে – ‘সেই তো আমি চাই’। শেষ হয় ৭০-৮০ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে ‘পুরানো সেই দিনের কথা’য়। মাঝে কী হল? ১৬টি গান শুনিয়েছেন শিল্পী। কথা দিয়ে গান। ছিল অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রগীতি, ভজন, নিধুবাবুর গান, জগন্ময় মিত্রের ‘চিঠি’, হেমন্তর ‘নীল আকাশের নীচে পৃথিবী’, মৃণাল চক্রবর্তীর ‘খোলা জানালার ধারে’, পিন্টু ভট্টাচার্য-সহ বাংলা আধুনিক গানের মালা। ছাত্রদের সঙ্গে গাইলেন মাইকেলের লেখা ‘বিদ্যাসাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে’, সুরারোপ করেছেন শিল্পী নিজেই। শিল্পীর নিজের দল ‘রবিছন্দম’, ‘রম্যবীণা’, ‘সুরসপ্তক’, ‘মল্লার’ ও ‘রবিস্পন্দন’। ‘রবিস্পন্দন’ অনুষ্ঠানের সূচনা করে। আর ছিল বিশিষ্ট শিল্পী নমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মুক্তধারা শিল্পী গোষ্ঠী’। প্রতি দল দু’টি করে সংগীত পরিবেশন করে। ‘বাসন্তী  হে ভূবনমোহিনী’ সংগীত পরিবেশন করে শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানান সুমন পান্থী। গীতবিতান  প্রাক্তনীও দু’টি  গান পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে সম্মেলক সংগীত।

এ হেন শিল্পীর জীবনে সংগীত কী ভাবে এল, সেটা জানার আগ্রহ ছিল বিপুল। বয়স তখন চার কি পাঁচ। বাড়িতে মায়ের একটা হারমোনিয়াম ছিল। মায়ের কাছে সেই হারমোনিয়ামেই হাতেখড়ি। পরে প্রথাগত ভাবে বাড়িতে শিখিয়েছেন হরিপদ সাহা। তা প্রায় গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত। পরে ‘দক্ষিণী’তে। ইতিমধ্যে বয়স যখন ২৫-এর ঘরে, পার্টটাইম লেকচারারশিপ জুটে যায় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং তা চলে ২০০০ পর্যন্ত। দীর্ঘ ১৫ বছর চাকরির সঙ্গে সংগীতচর্চা, মন ঠিক সায় দিচ্ছিল না। সব ছেড়ে একেবারে ডুব সুরসাগরে।

আরও পড়ুন: ‘সংযোগ’-এর বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠান এক মনোজ্ঞ সন্ধ্যা উপহার দিল

তাই হয়তো সব ধরনের গানে শিল্পী এতটাই সাবলীল। শিল্পীর আরও এক পরিচিতি পুরাতনী গানে এবং প্যারোডিতে। আর একটি বিশেষত্ব। যখন যে শিল্পীরই গান শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে, মনে হয় যেন হেমন্ত, মান্না, শ্যামল বা মৃণাল গাইছেন। এ-ও তো এক অসাধারণ স্বকীয়তা।

যন্ত্রে শিল্পীকে সহযোগিতা করেন দেবাশিস সাহা, স্বপন অধিকারী, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, শম্ভু দাস ও তপন চাকী। মঞ্চ ও ধ্বনির দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে সুধীররঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও হাসি পাঞ্চাল। শ্রীপর্ণা আঢ্যর দক্ষ সংযোজনায় এ দিনের অনুষ্ঠান সর্বাঙ্গসুন্দর হয়ে ওঠে।

ছবি: সংগৃহীত

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.