Connect with us

গান-বাজনা

অভিনেতাই যেখানে বাদক, পশ্চিমী গানে তবলার প্রয়োগ নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতে চলেছেন সৌম্যরূপ সাহা

soumyp

স্মিতা দাস

তবলা বাদ্যযন্ত্রটি কি শুধুমাত্রই ক্লাসিক্যাল অর্থাৎ শাস্ত্রীয়সংগীতের সঙ্গে শাস্ত্রীয় বাজনা হিসাবেই সীমাবদ্ধ? নাকি তা পশ্চিমী বাজনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশ্চিমী গানেও সমান প্রযোজ্য? এমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর বহু দিন ধরে খুঁজেছিলেন তবলা শিল্পী সৌম্যরূপ সাহা। তার জন্য প্রচুর সাধনা আর পরীক্ষানিরীক্ষাও করেছেন বহু দিন। তার পরই মিলেছে তাঁর প্রশ্নের উত্তর। সেই উত্তরই তুলে ধরেছেন শিল্পী তাঁর একটি ভিডিও-র মাধ্যমে। আগামী ২২ এপ্রিল ওয়ার্ল্ড আর্থ ডে-তে সেই ভিডিও মুক্তি পেতে চলেছে ইউটিউব চ্যানেল ‘সৌম্যরূপস ইউটিউবে’।

এই ভিডিও-র মূল বিষয় হল পশ্চিমী গায়িকা ক্রিস্টিনা পেরির গাওয়া থাউসেন্ড ইয়ার্স গানটির সঙ্গে তবলার সংগত। এটি একটি লাভ স্টোরি। এই গানটিকে চিত্রায়ণ করা হয়েছে বাংলার দুই অভিনেতার সাহায্যে। গল্পের বিষয়টিতে দেখানো হয়েছে একটি মেয়ে একজন ভবঘুরে তবলিয়াকে ভালোবেসেছে। এই মেয়েটির চরিত্রে অভিনয় করেছে সীমন্তিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও তবলিয়া আর কেউ নন সৌম্যরূপ নিজে।

প্রয়াত পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষের কাছে তবলাশিক্ষা নিয়েছেন সৌম্যরূপ।

সৌম্যরূপ বলেন, এই গানটির চিত্রায়ণে বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতিকে। পৃথিবীর এখন কঠিন লড়াইয়ের সময়, তাকে সুস্থ হয়ে উঠতেই হবে। তাই আশার বাণী তুলে ধরতে এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নিয়েছেন সৌম্যরূপ। বলে রাখা ভালো, সৌম্যরূপ হলেন একাধরে তবলাবাদক, গায়ক, অভিনেতা। ছোটো পর্দার লৌকিক না অলৌকিক ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে সৌম্যরূপকে। বলে রাখা ভালো সৌম্যরূপ অভিনয় শিখেছেন অভিনেতা স্বাগতা মুখোপাধ্যায় ও ঋষি মুখোপাধ্যায়ের কাছে।

পরিচিত ধারাবাহিকে সৌম্যরূপ।

সৌম্যরূপ প্রয়াত পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষের কাছে তবলাশিক্ষা নিয়েছেন। শিখেছেন পণ্ডিত বিক্রম ঘোষের কাছেও। ছোটো থেকেই তবলাতে নিজের কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তিনি, একাধিক প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তা ছাড়াও গানের সঙ্গেও রয়েছে তাঁর হৃদয়ের যোগ।

সৌম্যরূপ বলেন, ছোটো থেকে আরও একটি বিষয়ে তাঁকে খুবই আকর্ষণ করেছে। তা হল আধ্যাত্মবাদ। তিনি শ্রীভগবানজির কাছে বেদান্তের পাঠ নিয়েছেন, বর্তমানে তিনি নিজেও বেদান্তের ক্লাস নেন।

শ্রীভগবানজির সঙ্গে সৌম্যরূপ।

যাই হোক, মিউজিক ভিডিওটি নির্দেশনায় সুচিত্রা শ্রীবাস্তব, সম্পাদনায় প্রিয়াঙ্কা মহাপাত্র। ভিডিওগ্রাফিতে পায়েল সাহা।

করোনা সংক্রমণের এই কঠিন পরিস্থিতিতে সৌম্যরূপ তাঁর দর্শকদের বার্তা দিয়েছেন, ঘরে বসে নিজেকে সময় দিতে হবে। নিজের ভেতরের অচেনা অজানা ক্ষমতাগুলিকে আবিষ্কার করার কথা বলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন – মোহিনী-মায়ায় ঋদ্ধ দুই সন্ধ্যা

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

অনুষ্ঠান

অনলাইনে ২৭ দিনব্যাপী শাস্ত্রীয় নৃত্যের অনুষ্ঠান, আয়োজনে অগ্নিবীণা ডান্স অ্যাকাডেমি

স্মিতা দাস

করোনাভাইরাসের অতিমারির কারণে বাতিল হয়েছে বহু অনুষ্ঠান থেকে পার্বণ। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও গিয়েছে বদলে। নিউনর্মালে নতুন করে সব কিছু ভাবতে বাধ্য হচ্ছে মানুষকে। বাধ্য হচ্ছে নতুন অনেক কিছুকেই মেনে নিতে। তা বলে শিল্প কখনও থেমে থাকে না। তাই এখন শিল্পীরাও অনলাইনকে সম্বল করেই যাবতীয় আয়োজন করছেন। তেমনই একটি প্রচেষ্টা আগ্নিবীণা ডান্স অ্যাকাডেমির। প্রায় এক মাস ধরে চলছে তাদের রথযাত্রা উৎসব। রথযাত্রা থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে চলছে নৃত্যানুষ্ঠান তাও অনলাইনে।

বীরভূমের রামপুর হাটের একটি প্রতিষ্ঠান অগ্নিবীণা ডান্স অ্যাকাডেমির। তার কর্ণধার প্রশান্ত (অঞ্চল) পাল। তিনি অনলাইনে এই এক মাস ব্যাপী নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছে ১৭ জুন থেকে চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত।

প্রশান্ত বলেন, ইতিমধ্যেই হাজার হাজার ভিউ হয়েছে এই অনুষ্ঠানের। প্রচুর শুভ কামনায় ভরে গিয়েছে পেজ।

প্রশান্ত বলেন, আসলে পরিকল্পনা ছিল ভারতের সমস্ত শাস্ত্রীয় নৃত্যকে এক মঞ্চে তুলে ধরার। তাও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীদের মাধ্যমে। কিন্তু তার পরই এই অতিমারির আবহ তৈরি হয়। আর সমস্ত পরিকল্পনাই আটকে যায়। শেষে অনলাইনে অনুষ্ঠানটি এই ভাবে নামানোর কথা মাথায় আসে। সঙ্গে সঙ্গে সেই মতোই আয়োজন শুরু হয়।

বলেন, ঠিক হয় রথযাত্রায় পরম প্রভু শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের শ্রীচরণকে স্মরণ করেই এই অনুষ্ঠান হবে। তার জন্য অনলাইনে প্রচার করা হয়। শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, তাঁদের নাচের ভিডিও চেয়ে পাঠানো এবং তার এডিটিং শুরু হয়। অনুষ্ঠানটির নাম দেওয়া হয়, ‘নৃত্যমালিকা’।

দিল্লি, কলকাতা, অসম, হলদিয়া, শান্তিনিকেতন, বহরমপুর, জামসেদপুর, রামপুরহাট, দুর্গাপুর, সিউড়ী ও বারাসাত থেকে প্রায় ৩৫ জন নৃত্যশিল্পী এই অনুষ্ঠানে মিলিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক সম্মানে সম্মানিত দূরদর্শনের শিল্পী ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিশিষ্ঠ শিল্পী এবং আন্তর্জাতিক সম্মানে সম্মানিত নৃত্যশিল্পীও।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, ড: সুমিত বসু, ড: অর্কদেব ভট্টাচার্য, কৃষ্ণেন্দু রায়, শৌভিক চক্রবর্তী, দীপ্তাংশু পাল, সুস্মিতা রায়, শুভ জেনা, শ্রীদীপ কর্মকার, অরিন্দম ব্যানার্জি, সন্দীপ বোস, বিল্টু সরকার, কুশল ভট্টাচার্য, দেবব্রত বড়ুয়া-সহ আরও অনেকেই।

পরিবেশিত হচ্ছে ভরতনাট্যম, কত্থক, মণিপুরী, কথাকলি, কুচিপুড়ি, মোহিনীআট্যম, গৌড়ীয় নৃত্য, ওড়িশি-সহ সকল ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য।

অনুষ্ঠানটি দেখা যাচ্ছে প্রতি দিন বিকেল ৫টা থেকে। আগ্নিবীণা ডান্স অ্যাকাডেমির ফেসবুক পেজে।

আরও পড়ুন – ঘরোয়া আমেজে অনলাইনে রবীন্দ্রসংগীতের পেড প্রোগ্রাম করলেন মনোজ ও মনীষা মুরলী নায়ার

Continue Reading

অনুষ্ঠান

ঘরোয়া আমেজে অনলাইনে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান করলেন মনোজ ও মনীষা মুরলী নায়ার

প্রথমে প্রচার, তার পর টিকিট বিক্রি আর তার পর অনুষ্ঠান।

স্মিতা দাস

করোনাভাইরাস বদলে দিল জীবন। মঞ্চ শিল্পীরাও এখন অনলাইন কনসার্ট করছেন। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীরাও পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মনোজ মুরলী নায়ার ও মনীষা  মুরলী নায়ার অনলাইন কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন। অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘শ্রাবণেরও দিন যায়’। প্রথমে প্রচার, তার পর টিকিট বিক্রি আর তার পর অনুষ্ঠান ও তাতে দর্শক শ্রোতাদের উপস্থিত হওয়া – এই সবটাই হয়েছে অনলাইনে। সাড়া কেমন পেলেন? তার উত্তর দিয়েছেন শিল্পী নিজে।

জনপ্রিয় শিল্পী মনোজ ও মনীষা। শিল্পী মনোজ মুরলী নায়ার বলেন, জীবনের এই মোড়ে এসে সবটাই কেমন বদলে গিয়েছে। এমনটা কেউ কখনওই ভাবেনি। অথচ সব বদলে গেল। এখন জীবন জীবিকার তাগিদে প্রায় চার মাস পরে এসে এ বার ভাবতেই হচ্ছে এমন কিছু নিয়েই। তাই অবশেষে এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন। এখন প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সকলেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁরাও করেছেন।

মনোজ বলেন, মঞ্চে হাজার হাজার মানুষের সামনে তাঁদের প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া দেখে অনুষ্ঠান করতে অভ্যাস তাঁদের। বিশেষ করে বিষয়টি যখন রবীন্দ্রসংগীত, সেখানে দর্শক শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া, ঘাড়নাড়া ইত্যাদিই গান গাইতে উৎসাহ যোগায়। সেখানে অনলাইনে তার কিছুই উপলব্ধি হয় না। তবে, হ্যাঁ নতুন অভিজ্ঞতাও মন্দ নয়।

এটি ছিল তাঁদের প্রথম অনলাইন পেড প্রোগ্রাম। সোশ্যাল মাধ্যমেই সব কিছু। লাইভ, ভিডিও ক্লিপিং দিয়ে প্রচার করেছেন। তিনি বলেন, বহু বয়স্ক মানুষ আছেন যাঁরা রবীন্দ্রসংগীতের অনুরাগী কিন্তু স্মার্টফোন বা সোশ্যালমাধ্যমগুলিতে অভ্যস্ত নন। তাঁদের খুবই অসুবিধা হয়। অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকতে হয়। তবুও তেমন ভাবেও বহু শ্রোতা এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। সেই নিরিখে শিল্পী হিসাবে তিনি খুবই খুশি।

টিকিটের দাম কী রকম ছিল

মনোজ মুরলী নায়ার জানান, ভারতীয়দের জন্য ১০০ টাকা। এ ছাড়া বিদেশে ১০ ডলার, বা পাউন্ড ইত্যাদি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩১৫টি মতো টিকিট বিক্রি হয়েছিল। কারণ এটাই ছিল প্রথম বার। তিনি বলেন, মঞ্চে কনসার্ট হলে একটা টিকিটে একজনই আসেন। কিন্তু অনলাইনে তা সম্ভব নয়। একটা টিকিটে সারা বাড়ির সকল সদস্যই দেখতে পারেন। ফলে এ ক্ষেত্রে একটা প্রতিকূলতা তো রয়েইছে। সুতরাং খুব একটা যে লাভবান বিষয় তা কিন্তু নয়।

সমস্যা কিছু হয়নি?

মনোজ মুরলী নায়ার বলেন, মিউজিশিয়ান নিয়ে এই রকম অনুষ্ঠান করলে সেখানে খরচ অনেক বেশি হয়। এটা যে হেতু রবীন্দ্রনাথের গান, আর মানুষ যে কোনো পরিস্থিতিতে, এমনকি এই সময় এই যুগেও তা শুনতে ভালোবাসেন তাই সম্ভব হয়েছিল ঘরোয়া আমেজে শোনানো। কিন্তু অন্য ধরনের গান হলে তা সম্ভব নয়।

কতগুলি গান ছিল

প্রায় ২০টি গান ছিল। একক আর দ্বৈত মিলিয়ে। তার মধ্যে ছিল ‘ধরণীর গগনের’, ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে’, ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে’, ‘মধু গন্ধে ভরা’ ইত্যাদি।

ভবিষ্যতে কি এমন অনুষ্ঠান আবার করবেন

শিল্পী দৃঢ় প্রত্যয়ে জানালেন, নিশ্চয়ই করবেন। তাঁর কথায়, আবার তাঁরা এই ভাবেই অনুষ্ঠান করবেন। এটা ছিল শুরু।  

দেখুন – ৮০-র পরেও নতুন অভিজ্ঞতার ‘শ্যামা’য় তিনি অভিভূত, বললেন সত্তরোর্ধ্ব নৃত্যশিল্পী পলি গুহ

Continue Reading

অনুষ্ঠান

৮০-র পরেও নতুন অভিজ্ঞতার ‘শ্যামা’য় তিনি অভিভূত, বললেন সত্তরোর্ধ্ব নৃত্যশিল্পী পলি গুহ

স্মিতা দাস

মঞ্চের উত্তম-সুচিত্রার উত্তম আজ আর নেই, কিন্তু সুচিত্রা ৭৩ বছর বয়সে এসেও আজও দর্শকের মন জয় করে চলেছেন। এমনকি নিউ নর্মালের সমস্ত গণ্ডীর মধ্যে থেকেও নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে শিল্পকে একচুলও বঞ্চিত করেননি বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী পলি গুহ।

শুধু তিনি নন সম্প্রতি গুরুপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে অনলাইনে মুক্তি পাওয়া ‘পরিশোধ’ অবলম্বনে ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যটিতে রয়েছেন প্রদীপ্ত নিয়োগী, কোহিনূর সেন বরাট। এই নৃত্যানাট্যের প্রযোজনা করেছেন পলি গুহের কন্যা সেঁজুতি গুহ রায়।

এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের এই নৃত্যনাট্যটি ছোটো পরিসরের মুঠো ফোনের দর্শকদের ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখেই সম্পাদনা করে নামানো হয়েছে প্রায় ২৫ মিনিটে। সেই ২৫ মিনিটের পরিসরে শারীরিক দূরত্ব মেনে নিজের নিজের বাড়ি থেকে শুটিং করে কাজ করার এক নতুন অভিজ্ঞতার কথা জানালেন পলি গুহ।

তিনি বলেন, মঞ্চ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন একটা সময়, এমন করেও যে একই কাজ করা যায় তা কখনও ভাবেননি। সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। স্টেজ, ব্যাকগ্রাউন্ড, নাচের পরিসর, বিভিন্ন সুযোগসুবিধে, আলো ইত্যাদির সঙ্গে এর কোনো তুলনাই চলে না। প্রথমে কাজটি করতে একটু অসুবিধে মনে হলেও পরে কাজটি করতে গিয়ে বেশ মজা লাগে তাঁর। বেশ উপভোগও করেছেন। তিনি জানান, সেঁজুতি প্রতি পদক্ষেপে তাঁর সঙ্গে যেমন পরামর্শ করেছেন, তেমনই এই কাজে তাঁকে প্রতি মুহূর্তে সাহায্যও করেছে্ন।

প্রসঙ্গত, পলি গুহ ৮০ বারেরও বেশি ‘শ্যামা’ চরিত্রে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য অগুনতি পরিবেশনা। জীবনের বিভিন্ন সময়ে বহু পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০০৫ সালে শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী পুরস্কার, ২০০৭ সালে পথের পাঁচালির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ পুরস্কার, ২০১১-য় ইন্দো অক্সিডেন্টাল সিমবায়োসিস (আইওএস) থেকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, ২০২০ সালে টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে রবীন্দ্রনৃত্য খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী হিসাবে পুরস্কার।

সেঁজুতি গুহ রায় বলেন, তাঁর জীবনে আদর্শ নৃত্যশিল্পী হলেন তাঁর বাবা-মা। তাই সে ক্ষেত্রে তাঁদের ধ্যানধারণা বা রুচির সম্পূর্ণটাই তাঁর কাছে বরণীয়। তাই সেটিকে অবলম্বন করে ঐতিহ্যকে তিনি বহন করে নিয়ে যেতে চান। সে ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনৃত্যের সম্পূর্ণ নিজস্বতাকে তিনি অস্বীকার করতে পারেন না। তবে নতুন ভাবধারার মানুষের সঙ্গে মূলগত কিছু পার্থক্য থেকেই গিয়েছে এই কাজে। তিনি পোশাকের ক্ষেত্রে নাচের আঙ্গিকের ক্ষেত্রে রাবীন্দ্রিক ভাবধারাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের কোনো রকম প্রভাব থেকে তিনি নৃত্যনাট্যটিকে মুক্ত রেখেছেন। সব সময় মায়ের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

তিনি বলেন, গল্পের স্বার্থে সম্পাদনার পরিসর একটু বেশি মনে হলেও এখানে বেশ একটা নতুনত্ব রয়েছে। তা মূল ‘শ্যামা’য় নেই। তা হল যৌবন ও বৃদ্ধ বয়সের শ্যামা ও বজ্রসেন চরিত্র। অর্থাৎ গল্পের শেষে ফ্ল্যাশ ব্যাক। তিনি কবিগুরুর ‘পরিশোধ’ নাটক অবলম্বনে ‘শ্যামা’য় গল্প নির্বাচন ও সম্পাদনা করেছেন। সেই অনুসারেই এই দু’টি বয়সকে ধরা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাবনা।  

উত্তীয়র ভূমিকায় কাজ করেছেন কোহিনূর সেন বরাট। তিনি বলেন, অনলাইনে কাজ অনেক করলেও এই ভাবে শারীরিক দূরত্ব মেনে কাজ করার অভিজ্ঞতা একদম আলাদা। বেশ উপভোগ করেছেন। পলি গুহর সঙ্গে অনেক বার কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু এই কাজের অভিজ্ঞতা আলাদা। সব থেকে বড়ো ব্যাপার হল, নতুন প্রজন্ম যে এই পুরোনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আগ্রহী এবং তারা তা বহন করে নিয়ে চলছে, এই ব্যাপারটি খুবই আনন্দের। তিনি আরও বলেন, ডিজিট্যালে কাজ মঞ্চে কাজ করার থেকে আলাদা। মঞ্চের ক্ষেত্রে দর্শকরা সদা জাগ্রত, তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া হাততালির মাধ্যমে জানিয়ে দেন, এই সমস্তই বেশ উৎসাহ জোগায় । ডিজিট্যালে সেটা না হলেও শিল্প যে কখনও থেমে থাকে না, তার উদাহরণ হল এই ডিজিট্যাল মাধ্যম। তাই এটির গুরুত্ব আর কাজের উৎসাহকেও অস্বীকার করা যায় না।   

অভিনেতাই যেখানে বাদক, পশ্চিমী গানে তবলার প্রয়োগ নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতে চলেছেন সৌম্যরূপ সাহা

Continue Reading
Advertisement

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 days ago

হ্যান্ডওয়াশ কিনবেন? নামী ব্র্যান্ডগুলিতে ৩৮% ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর সঙ্গে লড়াই এখনও জারি আছে। তাই অবশ্যই চাই মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ।...

কেনাকাটা5 days ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা7 days ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা1 week ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

নজরে