'আগমনীর আগমনে' অ্যালবাম প্রকাশ - বাঁ দিক থেকে স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ, দীপাবলী দত্ত ও চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত।

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহালয়া আসতে তখনও দিনচারেক দেরি। সে দিনের সন্ধ্যায় যেন উমা মা নেমে এলেন এই ধরায়। আগমনী গানের আসর বসেছিল দমদমের শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার আশ্রমে। জমজমাট সেই আগমনী-আসর বুঝিয়ে দিল পুজো একেবারে দোরগোড়ায়।

উপলক্ষ্যটা ছিল আগমনী গানের অ্যালবাম ‘আগমনীর আগমনে’ প্রকাশ। শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারের আচার্য স্বামী সম্বুদ্ধানন্দের রচনা ও সুর করা আগমনী গানে কণ্ঠ দিয়েছেন চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত এবং তাঁর কন্যা দীপাবলী দত্ত।          

সংক্ষেপে দু’-চারটি কথা বলে সমগ্র অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ। এখন পরিবেশটা কেমন, বোঝাতে গিয়ে আচার্য বলেন, বিশ্বকর্মা পুজো গেলেই মনটা উসখুশ করে। প্রকৃতি-পরিবেশে সব কিছু নতুন মনে হয়। মহালয়া চলে গেলেই আসবে দেবীপক্ষ। মায়ের আগমন ঘটবে। যত দিন যাচ্ছে পুজো যেন গ্রাস করছে আমাদের। প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছে পুজো এসে গেল।

এর পরেই আগমনী গানের অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়। শিল্পীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ। দুই কণ্ঠশিল্পী ছাড়াও ওই সংগীতানুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীত পরিচালনায় ছিলেন সুব্রতবাবু মুখার্জি এবং তবলা-খোল-ঢাক পার্থ মুখার্জি।

শঙ্খ বাজিয়ে ও সংগীতের সুরের মাঝে আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। বরণ করে নেওয়া হল শিল্পীদের। সংগীতশিল্পী মা-কন্যাকে বরণ করেন আশ্রমের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বামী ধ্রুবাত্মানন্দ এবং দুই সহযোগী শিল্পীকে বরণ করলেন স্বামী ইষ্টস্মরণানন্দ।

এর পরই শুরু হয় দুই শিল্পীর কণ্ঠে আগমনী গান। মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্র ‘সিংহস্থা শশিশেখরা মরকতপ্রেক্ষা’ পাঠ করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন চন্দ্রাবলী। তার পরেই চলে আসেন মহিষাসুরমর্দিনীর সেই বিখ্যাত গানে, ‘বাজল তোমার আলোর বেণু, মাতল রে ভূবন’। মায়ের সঙ্গে কণ্ঠ দিলেন কন্যা দীপাবলীও।

এর পর দাশরথি রায় রচিত দু’টি বহুল প্রচারিত আগমনী গাইলেন চন্দ্রাবলী ও দীপাবলী – ‘যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী’ আর ‘গিরি গণেশ আমার শুভকারী’। এর পর দীপাবলীর পরিবেশনা – দ্বিজ রামপ্রসাদের লেখা ‘এ বার আমার উমা এলে আর উমায় পাঠাব না’।

সংগীত পরিবেশন করছেন চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত এবং দীপাবলী দত্ত। যন্ত্রানুষঙ্গে সুব্রতবাবু মুখার্জি ও পার্থ মুখার্জি।

দ্বিজ রামপ্রসাদের গানের পর দুই শিল্পী চলে এলেন কাজী নজরুলের মাতৃবন্দনায়। গাইলেন ‘ও মা দনুজ-দলনী মহাশক্তি নমো অনন্ত কল্যাণদাত্রী’।

দীপাবলীর বন্দিশ ‘জয় দুর্গে’ মন ভরিয়ে দিল শ্রোতাদের।

বন্দিশের পর চন্দ্রাবলী উপস্থিত ভক্ত-শ্রোতাদের নিয়ে গেলেন গত শতকের পঞ্চাশের দশকে। ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের সেই বিখ্যাত গান – ‘ত্রিনয়নী দুর্গা মা তোর রূপের সীমা পাই না খুঁজে’। ‘ঢুলি’ সিনেমার এই গান আগমনীর পরিবেশ আরও জোরদার করল।

এর পর পর পর দু’টি গান পরিবেশন করলেন দীপাবলী – ‘ভুবনমোহিনী মা’ ও ‘অয়ি গিরিনন্দিনী’।

আবার প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি। তারই মাঝে মা-মেয়ে গাইলেন ‘আজি শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও, জননী এসেছে দ্বারে’। এর পর চন্দ্রাবলী রুদ্রদত্তের কণ্ঠে শোনা গেল গিরিশ ঘোষের ‘আগমনী’ নাটকের গান ‘কেমন করে হরের ঘরে ছিলি উমা’।

এর পরেই চন্দ্রাবলী গাইলেন স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ রচিত ‘আগমনীর আগমনে’ অ্যালবামের গান – ‘আলতারাঙা পায়ে ধরণীতে তুমি এসেছ মাগো’।

মা-মেয়ের সংগীত পরিবেশনার মাঝে দৃপ্ত কণ্ঠে গাইলেন সুব্রতবাবু মুখার্জি – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত গান ‘তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ’। এই সময়ের  বড়ো প্রাসঙ্গিক গান।

‘আগমনীর আগমনে’ অ্যালবামের আর-একটি গান পরিবেশন করলেন দীপাবলী – ‘উজ্জ্বল এক সকাল বন্ধ দুয়ার ভেঙে’। এই গানের সুরমূর্ছনায় মোহিত শ্রোতাকুল।

‘আনন্দে মাতে গিরিরাজপুরী’ – দ্বৈত পরিবেশনার পর আগমনী গানের অনুষ্ঠান শেষ হল ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র সেই বিখ্যাত গান দিয়ে ‘জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী’। এই গানে মা-মেয়ের সঙ্গে গলা মেলালেন সুব্রতবাবুও।

গানের সঙ্গে পার্থ মুখার্জির ঢাকের বোল। গোটা প্রেক্ষাগৃহ আসন্ন পূজার উন্মাদনায় মেতে উঠল। প্রেমবিহারের আচার্যের প্রারম্ভিক বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল এ দিনের পরিবেশ – মনে হচ্ছিল আট দিন পরে নয়, পুজো এসেই গেল। এ দিনই যেন সূচিত হল বাঙালির ঘরে উমার আগমন।

আরও পড়তে পারেন

পুজো মিটলেই ফের দুয়ারে সরকার, দিনক্ষণ ঘোষণা করল রাজ্য

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন