jesus
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক: গোটা বিশ্ব ২৫ ডিসেম্বর তারিখটি যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন বা বড়োদিন হিসাবে পালন করে, কিন্তু যিশুখ্রিস্টের জন্ম আদৌ কবে হয়েছিল সে কথা কেউই জানেন না। এমনকী সে ব্যাপারে বাইবেলের কোথাও কোনো লেখা নেই। কোনো উল্লেখ নেই। তা হলে ২৫ ডিসেম্বর দিনটি যিশুখ্রিস্টের জন্ম দিন হিসাবে পালন করা হয় কেন?

কী ভাবেই বা এল এই তারিখ?

৩৩৬ খ্রিস্টাব্দের ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন হিসাবে পালন করা শুরু হয় রোমে। এর পর ৩৫০ খ্রিস্টাব্দে পোপ জুলিয়াস এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন হিসাবে ঘোষণা করেন। তখন থেকেই এই দিনটিই খ্রিস্টমাস ডে হিসাবে পালিত হচ্ছে।

তবে এর পিছনেও ছিল প্রচুর ইতিহাস ও বিতর্ক।

প্রথম প্রশ্ন হল, খ্রিস্টের জন্ম সাল কী? সাধারণ ভাবে সকলেরই জানা খ্রিস্টের জন্মের পর থেকে খ্রিস্টাব্দ গণনা শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ ২০২০ বছর আগে খ্রিস্টাব্দের জন্ম। কিন্তু হিসাবটা তখন এত সোজা ছিল না।

যিশু খ্রিস্টের জন্মের পর তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত কেবল তাঁর মৃত্যু দিবসই পালন করা হতো। এনসাইক্লোপিডিয়া আমেরিকানা থেকে জানা গিয়েছে, সেই সময় চার্চের ফাদাররা যিশুর জন্মের প্রথম শতাব্দী থেকেই জন্মদিন পালন করতেন না। কারণ, স্মরণীয় ব্যক্তিদের মৃত্যুবার্ষিকীই পালন করার রেওয়াজ ছিল সেই সময়।

৫২৫ সালে প্রথম পোপ জন ডায়ানিসিয়াস ইগজিগাস চার্চগুলির জন্য একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিলেন। তাতে লেখা হয় রোমের প্রতিষ্ঠার প্রায় ৭৫৩ বছর পর জন্ম নিয়েছিলেন যিশুখ্রিস্ট। কিন্তু, এই তথ্য ভুল। কারণ যিশুর জন্ম সংক্রান্ত ‘গসপেল রেকর্ড’ থেকে জানা গিয়েছে, তাঁর জন্ম হয়েছিল হেরোদ দ্য গ্রেটের আমলে। ফলে, তা কখনোই রোমের উত্থান থেকে ৭৫০ বছর পর হতে পারে না। কারণ, হেরোদের মৃত্যুই হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৪ সালে ।

এ বার ২৫ ডিসেম্বর বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করা যাক। ইতিহাস এবং খোদ বাইবেলই ২৫ ডিসেম্বরের বিরুদ্ধে তথ্য দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা যিশুর জন্ম সম্পর্কে জানা থাকলে প্রাচীন মানুষ তাঁর জন্মদিনের কথা অবশ্যই বাইবেলে উল্লেখ করতেন। কিন্তু, তা হয়নি। খ্রিস্টান ইতিহাসের অন্তত প্রথম ২০০ বছরের মধ্যে জন্মদিনের কোনো রকম উল্লেখ নেই।

শুধু তাই নয় ৩৩৬ সালের আগে পর্যন্ত যিশুর জন্মদিন পালিত হত বলে জানা যায় না। জন্মদিন ও তা পালন করার ভাবনা এসে ছিল তৃতীয় এবং চতুর্থ শতাব্দীতে বলে। এমনকী এই বিষয় নিয়ে চার্চের ফাদার, পোপ, নেতাদের মধ্যে বিস্তর মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে গবেষণা থেকে।

অন্য দিকে ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়ার ১৯০৮ সংস্করণ থেকে জানা যাচ্ছে, ‘ধর্মগ্রন্থের কোথাও লেখা নেই তাঁর জন্মদিন পালন করতে হবে। শুধুমাত্র পাপীরাই তাদের জন্মদিন পালন করে মহোৎসব করে’।

অবশেষে এই সময়ে ছ’টি মাসের মোট আটটি তারিখ প্রস্তাবিত হয় যিশুর জন্মদিন হিসাবে। তার মধ্যে সব শেষে ছিল ২৫ ডিসেম্বর। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম শতাব্দীতে ২৫ ডিসেম্বর তারিখটি স্থির করে ওয়েস্টার্ন চার্চ । এই আটটি তারিখের মধ্যে ছিল ২৮ মার্চ, ২ এপ্রিল, ১৮ নভেম্বর ইত্যাদিও।

আবার এনসাইক্লোপিডিয়া আমেরিকানা অনুযায়ী, পুরনো রোমান ‘ফিস্ট’ অনুসারে ‘দ্য সান গড’ বা ‘সল'(sol)-এর জন্মদিন হিসাবে এ দিনটিকেই পালন করা হতো।

রোমান ক্যাথলিক লেখক মারিও রিঘেট্টির লেখা থেকে জানা গিয়েছে, পৌত্তলিকদের বিশ্বাস টেনে আনতে চার্চ অব রোম ২৫ ডিসেম্বরকেই পাকাপাকি ভাবে যিশুর জন্ম দিন হিসাবে ঠিক করে দেয় । কারণ, ওই দিনটি অন্ধকারের বিনাশক সূর্য ‘মিথরাস’কে উৎসর্গ করে বিশেষ ভাবে পালন করা হতো।

সূত্র – ইন্টারনেট

পড়ুন – বড়োদিনের রেসিপি : চকোলেট কেক উইথ ব্লু আইসিং

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন