রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ভারতকে জানতে বিবেকানন্দকে পড়ো: স্বামী সারদাত্মানন্দ

0
vivekananda
বিবেকানন্দ

স্মিতা দাস

১২ জানুয়ারি ১৮৬৩ সাল। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তাঁর এই জন্মের আগে একটি পটভূমিকা রয়েছে। সেই পটভূমিকা কী এই নিয়ে জানালেন আলমবাজার মঠের দায়িত্ব প্রাপ্ত স্বামী সারদাত্মানন্দ মহারাজ।

তিনি বলেন, স্বামীজির জন্মের নেপথ্যে রয়েছে এক জনের কঠোর তপস্যা। তিনি হলেন স্বামীজির গর্ভধারিণী মা ভুবনেশ্বরী দেবী। তিনি এক জন সুসন্তানের প্রার্থনা করেছিলেন। সেই প্রার্থনা করেছিলেন কাশীতে। কাশীধামের বীরেশ্বর শিবের কাছে। তাঁরই আশীর্বাদ ধন্যা হন তিনি। ভূমিষ্ঠ হন স্বামীজি। ছোটো থেকেই তাঁর মধ্যে দৈবী ভাব প্রকাশিত হত।

স্বামীজির এক নয় দুই মা। এক জন গর্ভধারিণী ভুবনেশ্বরী দেবী। অন্য জন হলেন মা সারদা। তিনি পরবর্তী জীবনে সারদা মায়ের অনুমতি ছাড়া কিছুই করতেন না। তখন তিনি ভারত পরিক্রমায়। সেই সময় আমেরিকার বিশ্বধর্ম সম্মেলনের ডাক এলো। বহু মানুষ এই সভায় যাওয়ার জন্য স্বামী বিবেকানন্দকে নির্বাচিত করেন। কিন্তু স্বামীজি জানান, তিনি নিজের ইচ্ছায় যেতে পারবেন না। তার জন্য তাঁর অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন। অর্থাৎ সারদা মায়ের অনুমতি পেলেই তিনি যেতে পারবেন। অনুমতি নেওয়ার জন্য চিঠি লেখেন সারদা মাকে। উত্তরে সারদা মা জানিয়েছিলেন, অবশ্যই যেতে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, এই ইচ্ছা তো ঠাকুরেরও। ঠাকুর বহু আগেই প্রত্যক্ষ করেছিলেন বিবেকানন্দ পাশ্চাত্যে যাচ্ছেন। তাঁর অনুমতি পাওয়ার পরই স্বামীজি পাড়ি দেন আমেরিকায়।

তিনি বলেন, খুব ছোটো থেকেই স্বামীজি মানুষের জন্য ব্যথিত ছিলেন। ছোট্টো বেলায় জানলা থেকেই গরিবদের জন্য জামা কাপড় দিতেন। তাঁদের সাহায্য করতেন। খুব সাহসী ছিলেন তিনি। ছোটো বেলায় সাধারণ বালকরা যা কিছু ভয় পেত, তিনি তা পরোখ করে দেখবার নেশায় মেতে উঠতেন। কোনো কিছুর ভয়ই কোনো দিন তাঁকে পেয়ে বসেনি। তাই গাছে চড়া আটকাতে ব্রহ্মদৈত্যের অবতারণা করা হলে বাকি বালকরা তাতে ভয় পেয়ে ছিল ঠিকই কিন্তু তিনি ভয় পেলেন না। তিনি কিন্তু ব্রহ্মদৈত্য কেমন দেখতে তা দেখতে এগিয়ে যান।

তা ছাড়া ধ্যান ধ্যান খেলায় মেতে সত্যিকারের ধ্যান মগ্ন হয়ে গিয়েছিলেন বিলে। সামনে জ্যান্ত সাপও তাঁকে ধ্যান থেকে ওঠাতে পারেনি।

মহারাজ বলেন, বিলে এক দিন বাবার কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তিনি বড়ো হয়ে কোচওয়ান হবেন। তিনি সত্যিকারের এক জন কোচওয়ান হয়েছেন। যুগ যুগ ধরে গোটা বিশ্বকে তিনি চালনা করছেন। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, রামকৃষ্ণ সংঘের মতো এই সংগঠনের বিশাল কর্মকাণ্ড তিনি তো শুরু করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর আদর্শেই তা এখনও চলছে। মহারাজ বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের প্রত্যেক কথার মধ্যে বিশ্বব্যাপী চেতনা রয়েছে।

তাঁর মধ্যে সব সময় অনুসন্ধানী মন কাজ করত। একটু বড়ো হওয়ার পর তাঁর মনে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জাগে। সেই প্রশ্নের নিরসণের জন্য তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে প্রাপ্ত উত্তরে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তখন তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজের এক জন অধ্যাপকের কাছে যান, সেই অধ্যাপকই বিবেকানন্দকে দক্ষিণেশ্বরে শ্রী রামকৃষ্ণদেবের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তার পরই তিনি রামকৃষ্ণদেবের কাছে ছুটে যান। তাঁকে রামকৃষ্ণ উত্তরে ভগবান দেখাতে পারেন বলে জানিয়েছিলেন। তার পরই মনের ভেতর নানান ওঠাপড়া মধ্যে দিয়ে বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণের কাছে মাথা নত করেছিলেন।    

রামকৃষ্ণদেব তাঁকে নানান আখ্যায় ভূষিত করেছিলেন। রামকৃষ্ণদেব  বলতেন, বিবেকানন্দ হলেন নররূপী নারায়ণ। বলতেন, সব মানুষের মধ্যেই শিবের বাস। কিন্তু নরেন হল জাগ্রত শিব। বলতেন, নরেন সপ্তর্ষি মণ্ডলের প্রবীণতম ঋষি। ঠাকুর বলতেন, কেশব সেনের মধ্যে একটি সূর্য। কিন্তু নরেনের মধ্যে ১৮টি সূর্য। বলতেন, নরেন হল বড়ো দিঘি, লাল চোখো রুই মাছ। এমনকী বিবেকানন্দকে তিনি নিজের শ্বশুর ঘরও বলতেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে বলেছিলেন, যদি ভারতবর্ষকে জানতে চাও, তা হলে বিবেকানন্দকে পড়ো।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.