স্বামীজির পরিবার ও পড়াশোনা নিয়ে কয়েকটি আশ্চর্য ঘটনা

0
স্বামীবিবেকানন্দ
ছবি - ইন্টারনেট

ওয়েবডেস্ক: মহান এই বাঙালি আসমুদ্রহিমাচলের জ্ঞান চক্ষু জাগ্রত করেছেন। বাঙালি জাতি ও হিন্দু ধর্মকে বিশ্বের মঞ্চে সর্বপ্রথম তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেন। শিকাগোর সেই ধর্মসভার কাহিনি কারোরই প্রায় অজানা নয়। এহেন বিবেকানন্দের পড়ার বই পড়ায় ছিল সাংঘাতিক অনীহা। আবার বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায় বই পড়ার প্রতি তাঁর অসামান্য ভালোবাসা আর মেধা শক্তির ক্ষেত্রে।

লাইব্রেরি নিয়ে  ঘটনা – মেরঠে থাকাকালীন স্বামীজি লাইব্রেরি থেকে বই আনাতেন। স্বামী অভেদানন্দ বইগুলি নিয়ে আসতেন। আবার পরের দিনই বইগুলি পড়ে তা ফেরত দিয়ে দিতেন স্বামীজি। এক দিন লাইব্রেরিয়ানের মনে সন্দেহ হয়। মনে হয়, এক দিনে কী ভাবে গোটা বই পড়া সম্ভব। তিনি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়ে, স্বামীজি লাইব্রেরিতে আসতেই, সেই বই থেকে জিজ্ঞাসা করলেন। স্বামীজি শুধু উত্তর দিলেন না, কোন পাতায় কী লেখা রয়েছে প্রায় সবই বলে দিলেন। যা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ওই লাইব্রেরিয়ান।

পুঁথিগত বিদ্যা – বই এত দ্রুত পড়ে ফেলতে পারতেন। কিন্তু তা সত্বেও পুঁঠিগত বিদ্যায় সায় ছিল না বিবেকানন্দের। সারা পৃথিবীতে জ্ঞানের বিতরণ করে বেড়ানো স্বামী বিবেকানন্দ পুঁথিগত শিক্ষায় তেমন মেধাবীও ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তিনি ৪৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। এফএ পরীক্ষায় ৪৬ শতাংশ নম্বর ও বিএ পাশ করেন ৫৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে।

পরিবারের প্রতি তাঁর মমতার কোনো অভাব ছিল না।

পরিবারের প্রতি কর্তব্য – বিবেকানন্দের পিতা বিশ্বনাথ দত্তের প্রয়াণের পরের একটি ঘটনা। সেই সময় পরিবারের অবস্থা বেশ খারাপ। খাবার জোটানো তখন দায় ছিল। এই মতো সময়ে স্বামীজি প্রায় প্রতিদিনই বাড়িতে বলতেন, আজ দুপুরে বাইরে নিমন্ত্রণ রয়েছে। এই বলে বেরিয়ে যেতেন। উদ্দেশ্য ছিল, যাতে বাড়ির খাবারের ভাগ বাকিরা বেশি পায়। এই ভাবে নিজে প্রায় বেশিরভাগ দিনই অভুক্ত থাকতেন। এই উপবাস নিয়ে তা নিয়ে গর্বও করতেন।

সাহসী চিত্তে সমস্যার মোকাবিলা – ১৮৮৭ সালে একবার বারাণসীর রাস্তায় স্বামী প্রেমানন্দকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, সেই সময়ে হঠাৎই কিছু বাঁদর তাঁদের তাড়া করে। স্বামীজি দৌড়তে শুরু করলেন। তখনই একজন চেঁচিয়ে তাঁদের দাঁড় করান। বিবেকানন্দ ঘুরে দাঁড়াতেই দেখেন, বাঁদরের দলও হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনা নিয়ে পরে স্বামীজি বলেছিলেন, সমস্যা হলে তার মুখোমুখি হতে হবে। তা থেকে পালিয়ে গেলে তার সমাধান হবে না।  

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.