ভ্যালেন্সিয়াকে চূর্ণ করে এএফসি কাপের মূলপর্বে মোহনবাগান

0
126

মোহনবাগান-৪ (জেজে-২, সনি, হুসেন-আ) ভ্যালেন্সিয়া-১ (গোডফ্রে)

(দুই লেগে মিলিয়ে মোহনবাগান ৫-২ ব্যবধানে জয়ী)

সানি চক্রবর্তী:

একা জেজে’য় রক্ষে নেই, আবার দোসর সনি। মোহনবাগানের এই দুই তারকা ফুটবলারের দাপটেই কার্যত উড়ে গেল ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া। রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে মালদ্বীপের দলটিকে ৪-১ ব্যবধানে চূর্ণ করে এএফসি কাপের মূল পর্বে চলে গেল সঞ্জয় সেন ব্রিগেড। জোড়া গোল করলেন জেজে লালপেখলুয়া। তবে হুসেনের আত্মঘাতী দ্বিতীয় গোলটিকে ঘিরে ধন্দ রয়েছে। জেজেও বুঝতে পারেননি, বিপক্ষ খেলোয়াড়ের পায়ে লাগার পরে বল জালে জড়িয়েছিল কি না। সদস্য-সমর্থক সকলেই ম্যাচশেষে মেতেছিলেন পাহাড়ি ফুটবলারটির হ্যাটট্রিক নিয়ে। তবে ম্যাচ রেফারি রিপোর্ট তাঁদের আনন্দে কিছুটা ভাগ বসতে পারে। এইটুকু বিতর্ক বাদ দিলে, দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের ছটায় সুরভিত বাগান। প্রাথমিক যোগ্যতাঅর্জনে কলম্বো এফসি ও প্লেঅফ পর্বে ক্লাব ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়ে এএফসি কাপের মূল পর্বে স্থান করে নিল মোহনবাগান। গ্রুপ পর্বে বাগানের প্রতিপক্ষ বেঙ্গালুরু এফসি, মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাব ও ঢাকার দল আবাহনী লিমিটেড।

মালেতে প্রথম লেগের অ্যাওয়ে ম্যাচে বাগানের যে দলটি খেলতে গিয়েছিল, তাতে প্রথম একাদশের একাধিক তারকাকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন সঞ্জয়। সেই দলে ছিলেন না জেজে, সনি, শৌভিক চক্রবর্তীরা। এ দিন তাঁদের প্রথম একাদশে রেখে ডাফি, কাটসুমিদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন বাগান কোচ। জেজে-সনিদের খেলা আগের পর্বে না দেখায় তাঁদের খেলার গভীরতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না মালদ্বীপের দলটির। আর সেটাকেই কাজে লাগিয়ে এল জয়। শুরু থেকেই বাগান খেলার রাশ ধরে নেয়। প্রথম মিনিটেই বাগানের কর্নার আটকাতে গিয়ে হ্যান্ডবল করে বসেন ভ্যালেন্সিয়ার ডিফেন্ডার। পেনাল্টি থেকে ২ মিনিটের মাথাতেই বাগানকে এগিয়ে দেন জেজে। গোল পাওয়ার পরে বল ধরে ছোটো ছোটো পাসে দৃষ্টিনন্দন খেলা চালাতে থাকে বাগান শিবির। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে প্রবীরের ক্রসে পা বাড়িয়ে দারুণ ফিনিশ করেন জেজে। তখন সেটি তাঁরই দ্বিতীয় গোল মনে করা হয়েছিল। পরে ম্যাচ রিপোর্টে দেখা যায় সেটি হাসানের করা আত্মঘাতী গোল।

দুই গোলের লিড পেয়ে যাওয়াতেই হয়তো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা আগলা দিয়ে বসেছিলেন এডু-আনাসরা। যার পুরো সুযোগ লাগিয়ে ৫২ মিনিটের মাথায় ব্যবধান কমিয়ে ফেলেছিলেন গডফ্রে। তখন ম্যাচের ভাগ্য রীতিমতো সুতোয় ঝুলছে, বাগান টাইয়ে এগিয়ে থাকলেও আর একটি গোল করলেই মূলপর্বে চলে যাবে ভ্যালেন্সিয়া। এ রকম সমীকরণ তৈরি হয়েছিল। কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়েই ৬৬ মিনিটে মাথায় সিনিয়র বিক্রমজিতকে তুলে নিয়ে কাটসুমিকে নামান সঞ্জয়। আর এই পরিবর্তনেই ম্যাজিকের মতো কাজ হয়। ফের নিজেদের দখল দৃঢ় করেন সবুজ-মেরুন জার্সিধারীরা। ম্যাচের ৮১ মিনিটের মাথায় সনির ক্রস থেকে দলের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন জেজে। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বাঁ প্রান্ত ধরে ভিতরে ঢুকে ট্রেডমার্ক স্টাইলে জাল কাঁপিয়ে দেন সনি। ৪ গোল করলেও আরও অনেক গোল করার সুযোগ এসেছিল এডু-বলবন্তদের সামনে। তাঁরা সুযোগ নষ্ঠ করায় ব্যবধান যদিও বাড়েনি। তবে মালদ্বীপের দলকে আরব সাগরে ডুবিয়ে দিতে তাতে যদিও বেগ পেতে হয়নি মোহনবাগানকে।

মোহনবাগান- দেবজিত, সার্থক, এডু, আনাস, শুভাশিস, বিক্রমজিত (কাটসুমি), শৌভিক চক্রবর্তী(সৌরভ দাস), সনি, প্রবীর, জেজে (আজহারউদ্দিন), বলবন্ত।

একঝলকে মোহনবাগানের এএফসি কাপের গ্রুপপর্বের সূচি-

১৪ মার্চ- বেঙ্গালুরু (অ্যাওয়ে-কান্তিরাভা স্টেডিয়াম) (সন্ধে ৭ টা)

৪ এপ্রিল- আবাহনী (হোম-রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম) (সময় নির্ধারণ হয়নি)

১৮ এপ্রিল- মাজিয়া (হোম-রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম) (সময় নির্ধারণ হয়নি)

৩ মে- মাজিয়া (অ্যাওয়ে-ন্যাশনাল স্টেডিয়াম) (বিকেল ৪ টে)

১৭ মে- বেঙ্গালুরু (হোম-রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম) (সময় নির্ধারণ হয়নি)

৩১ মে- আবাহনী (অ্যাওয়ে- বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্টেডিয়াম) (সন্ধে ৭ টা ১৫ মিনিট)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here