ধোনি কবে অবসর নেবেন, সেটা তিনিই ঠিক করবেন, বললেন ঋদ্ধিমান

0
1047
wriddhiman hits fastest century in cricket

কলকাতা: গত এগারো মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুন সময় কাটিয়েছেন ঋদ্ধিমান সাহা। তাঁর উইকেটকিপিং দক্ষতা নিয়ে কখনোই কোনো প্রশ্ন ছিল না, টুকটাক প্রশ্ন উঠত তাঁর ব্যাটিং নিয়ে। ব্যাটেও রান এসেছে তাঁর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শতরান ছাড়াও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠ ইডেনে ম্যাচ জেতানো দু’টো অর্ধশতরান ছিল তাঁর।

তবে গত ক্রিকেট মরশুম নিয়ে বেশি ভাবতে রাজি নন ঋদ্ধি। ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “গত বছর নিয়ে কখনোই খুব একটা ভাবিনি আমি। তবে এটা ঠিক শেষ দু’টো সিরিজের পর ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়ার ব্যাপারে আমি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।” এক জন উইকেটকিপারের উইকেটকিপিং দক্ষতা দিয়েই টেস্ট দলে জায়গা হওয়া উচিত, ব্যাটিং দক্ষতাকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু সেই ধারণা এখন পালটেছে। অসাধারণ উইকেটকিপিং করেন, কিন্তু ব্যাটে রান না পাওয়ার জন্যও জায়গা হারাতে হয় উইকেটকিপারকে। ঋদ্ধিকে নিয়েও সেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি এই ব্যাপারটাকে নিয়ে খুব একটা বেশি চিন্তিত ছিলেন না। তাঁর কথায়, “আমার কখনও মনে হয়নি রান না পেলে টিম থেকে বাদ পড়ব। আমি সেই সব চিন্তা না করেই নিজের অনুশীলনেই মন দিয়েছিলাম।”

গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং এই বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শতরানের পর নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে বলে জানান শিলিগুড়ির পাপালি। এই মুহূর্তে টেস্ট দলে তাঁর জায়গা পাকা হলেও একদিনের ক্রিকেট এবং টি২০-তে তিনি ব্রাত্য। এই ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে ঋদ্ধি বলেন, “ক্রিকেটে একটা ফরম্যাটেই আমি যে সুযোগ পাচ্ছি, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ভবিষ্যতে কী হতে পারে, কোন ফরম্যাটে সুযোগ পাব, সে নিয়ে বেশি চিন্তা করতে চাই না।”

যে ভাবে গত অস্ট্রেলিয়া সিরিজ এবং আইপিএলে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে যে সব অসামান্য ক্যাচ ধরেছিলেন ঋদ্ধি, তাতে বোঝা যায়, এই মুহূর্তে ভারতীয় দলে অন্যতম ফিট ক্রিকেটার তিনি। এর পেছনে রহস্য কী?

ঋদ্ধি বলেন, “এখন টিমে থাকার অন্যতম শর্তই হচ্ছে তোমাকে ফিট থাকতে হবে। আমি কোনো দিনই মশলাদার খাবার পছন্দ করতাম না, সেটা এখনও বজায় রেখেছি। কোনো খেলা না থাকলেও, নিয়মিত অনুশীলন করে যেতে হয়।”

ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির প্রিয়পাত্র ঋদ্ধি। কিন্তু এক দিকে বিরাট যখন আগ্রাসী, ঋদ্ধির স্বভাব শান্ত। দু’জনের সম্পর্কের রসায়নের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, ঋদ্ধি বলেন, “বিরাট যা করতে বলে, আমি সব সময় তা করার চেষ্টা করি। সেই কারণেই সম্ভবত আমাকে এত পছন্দ করে বিরাট।” তবে বাংলার এবং ভারতীয় ড্রেসিং রুমের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মনে করেন ঋদ্ধি। তিনি আরও বলেন ভারতীয় টেস্ট দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বয়সের খুব বেশি পার্থক্য নেই। সেটা আরও সুবিধা করে দিয়েছে অধিনায়ক বিরাটকে।

এখন ডিআরএস চালু হওয়ার পর উইকেটকিপারের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে এলবিডব্লিউ-এর ক্ষেত্রে। আম্পায়ারের কোনো সিদ্ধান্ত ফিল্ডিং টিমের বিরুদ্ধে গেলে সেটা চ্যালেঞ্জ করা হবে কি হবে না, সেই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উইকেটকিপার। গত বছর ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ডিআরএস চালু হয়েছে ভারতে, তাই দায়িত্ব বেড়েছে ঋদ্ধিরও। তবে তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রেই বোলার এবং উইকেটকিপারের মধ্যে মতের অমিল হয়। সে ক্ষেত্রে রিভিউ নেওয়া হবে কি না, সেটা অধিনায়কই ঠিক করেন।

ঋদ্ধির মতে, প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সব সময় ইতিবাচক ভাবনাচিন্তা করেন। ভারতীয় দল হোক, কি চেন্নাই সুপারকিংস। কখনোই ধোনির থেকে কোনো নেতিবাচক কথা শোনেননি ঋদ্ধি। সেটাই ধোনির সব থেকে বড়ো গুণ বলে মনে করেন পাপালি। উইকেটকিপিং-এর ব্যাপারে ধোনি তাঁকে অনেক টিপস দিয়েছেন বলেও জানান ঋদ্ধি। ইদানীং ব্যাট হাতে খুব একটা রান আসছে না বলে বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর অবসরের দাবি উঠছে। তবে ঋদ্ধি মনে করেন, সব ক্রিকেটারেরই ভালো সময়ের পাশাপাশি খারাপ সময়ও আসে। ধোনি কবে অবসর নেবেন সেটা ধোনির ওপরেই ছেড়ে দিতে বলেন ঋদ্ধি।

কলকাতায় বৃষ্টির জন্য সামনের শ্রীলঙ্কার সিরিজের জন্য এখনও অনুশীলন শুরু করতে পারেননি ঋদ্ধি। তবে কিছু দিনের মধ্যেই শুরু করবেন। শ্রীলঙ্কা সফরের পর বছর শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। তার পরেই রয়েছে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফর। বিদেশের মাটিতে ভারত এখন টেস্ট সিরিজ জেতার ক্ষমতা রাখে বলে জানান ঋদ্ধি। তাঁর আশা, এ বার বিদেশের মাটিতেও সাফল্য ছোঁবে ভারতীয় দল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here