Connect with us

দীপাবলি-কালীপুজো

মুর্শিদাবাদ ও বীরভুমে রাজা রামজীবন রায়ের উত্তরপুরুষদের এখন ১৯টি কালীপুজো

যে গাছের নীচে যে ঠাকুরের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেই গাছের নামানুসারে সেই কালীর নাম রাখা হয়েছে।

Published

on

ষষ্ঠী কালী।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

বীরভূম জেলার ঢেকার মহারাজ রামজীবন রায়ের রায় ও রায়চৌধুরী বাড়ির পূজোর বিশেষত্ব হল একই রাজপরিবারে ১৯টি কালীপুজো। সেই কালীপুজো অবশ্য ছড়িয়ে আছে দুটি জেলায়। আর সেই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠে প্রাক্তন রাজবংশ এবং পার্শ্ববর্তী সব গ্রাম।

Loading videos...

জানা যায়, এই কালীপুজোর সূচনা করেন রাজা রামজীবন রায় (১৬৪০-১৭০৮ খ্রিস্টাব্দ) আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে। এই মহারাজ রামজীবনই তারাপীঠের মা তারা ও কলেশ্বরের শিবমন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর রাজত্বকালে একটা রাজবাড়িতে একটিই কালীপুজো হত। সারা রাজবাড়ি আলোয় ঝলমল করত।

কুল কালী।

কালীপুজো উপলক্ষ্যে সমস্ত ধর্মের মানুষ নিমন্ত্রিত হত রাজবাড়িতে। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জায়গার প্রজারা গান শুনিয়ে, নাচ দেখিয়ে রাজাদের খুশি করে উপহার নিয়ে বাড়ি ফিরত। রাজা রামজীবনও ছিলেন প্রজাবৎসল। প্রজাদের মঙ্গল কামনায় তিনি ছাগ, মেষ ও মহিষ বলি দিতেন।

কিন্তু কালের নিয়মে ভাগ হয়েছে রাজবংশ, বেড়েছে কালীর সংখ্যা। প্রথমে এই রাজপরিবার ‘রায় রাজপরিবার’ নামে পরিচিত ছিল। পরে রাজা রামজীবন রায়ের বংশধরেরা প্রজাহিতৈষী কাজ করে ও জমিদারি বৃদ্ধি করে বাংলার তৎকালীন নবাব আলিবর্দি খাঁয়ের কাছ থেকে ‘চৌধুরী’ উপাধি লাভ করেন। সেই থেকেই এই রাজপরিবার ‘রায়চৌধুরী রাজপরিবার’ নামে পরিচিত হয়।

মহারাজ রামজীবনের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাজা ভগবতীচরণ রায়ের বংশ বর্তমানে মুর্শিদাবাদের এড়োয়ালি গ্রামে ১৩টি কালী, দ্বিতীয় পুত্র রাজা রামভদ্র রায়ের এক বংশ বীরভূমের ন’পাড়াতে ১টি কালী এবং আরও একটি বংশ মুর্শিদাবাদের মাজিয়ারাতে ১টি কালী এবং তৃতীয় ও কনিষ্ঠ পুত্র যথাক্রমে রাজা কেশব ও রাজা রামচন্দ্র রায়ের বংশ বীরভূমের হাতিয়া গ্রামে ৪টি কালীপুজোর সূচনা করেন। এগুলি রায়/রায়চৌধুরী রাজবাড়ির পুজো নামেই খ্যাত। তবে কালীপূজো ও দুর্গাপুজোর সময় রাজা ভগবতীচরণ রায়ের বংশের বাড়িতেই অর্থাৎ মুর্শিদাবাদের এড়োয়ালি গ্রামেই বেশি ধুমধাম হয়।

চাতর কালী।

রাজা রামজীবনের জ্যেষ্ঠ পুত্রের পুত্র রাজা জয়সিংহ ও রাজা রঘুনাথ রায়। রাজা জয়সিংহের দুই পুত্র রাজা দেবদত্ত রায়চৌধুরী, রাজা ইন্দ্রমণি রায়চৌধুরী এবং রাজা রঘুনাথের এক পুত্র রাজা শ্যামসুন্দর রায়চৌধুরী। এঁদের বংশ যথাক্রমে বড়োপাঁচানি, ছোটোপাঁচানি, ছয়ানি রাজপরিবার নামে পরিচিত।

বড়োপাঁচানিতে পাঁচটি কালী – ধর্ম/ষষ্ঠী, বেল, কুল, টুংগী এবং শ্যামরুপী। ছয়ানি রাজপরিবারের চারটি কালী – বড়মা, মঠ, নিম ও চাতরবুড়ি। ছোটোপাঁচানি রাজপরিবারে চারটি কালী – ধর্ম/ষষ্ঠী, মোল, আমড়া এবং বেল (এই বেল কালীটিতে শুধু ঘটপুজো করা হয়)। ধর্মকালী তথা ষষ্ঠীকালীকে বড়োপাঁচানি ও  ছোটোপাঁচানি রাজপরিবার পালা করে চালায়।

জানা যায্‌ দশানির ষষ্ঠী ও ছয়ানির চাতরকালী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল নায়েব ও গোমস্তাদের মঙ্গলকামনার জন্য। পুজোর খরচ দুই রাজবাড়ির রাজকোষ থেকেই দেওয়া হত। বেশির ভাগ কালীকেই ‘বুড়ি’ বলেই ডাকা হয়।

টুংগী কালী।

জানা যায়, যে গাছের নীচে যে ঠাকুরের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেই গাছের নামানুসারে সেই কালীর নাম রাখা হয়েছে। বড়োপাঁচানির বেল, ছোটোপাঁচানির মোল এবং ছয়ানির মঠকালীতে পঞ্চমুণ্ডীর আসন বিদ্যমান। বড়োপাঁচানির বেলকালীতে ব্যাঘ্রচর্মের আসনে বসে পুরোহিত পুজো করেন। এই বেলকালী এবং মঠকালীতে কারণ অর্থাৎ মদ দিয়ে ঘট ভরা হয়।

জানা যায়, বড়োপাঁচানির রাজা চন্দ্রকান্ত রায়চৌধুরী বেলকালীকে পুজো করার জন্য সাধক বামাখ্যাপাকে অনুরোধ করে আনতেন। এবং ছয়ানির রাজা কার্তিক রায়চৌধুরীও তাঁকে এনে একবার মঠকালীতে পুজো করিয়েছিলেন।

কালের নিয়মে রাজারা গিয়েছেন, গিয়েছে তাঁদের রাজ্যপাট। শুধু ফেলে গিয়েছেন তাঁদের শুরু করা পুজো ও তা চালানোর জন্য প্রাক্তন রাজবংশ। রাজা রামজীবন রায়ের প্রতিষ্ঠিত কালীপুজোর জৌলুস আজও একই ভাবে বজায় রেখেছেন ‘রায়/রায়চৌধুরী রাজপরিবারের’ সদস্যরা। এই পুজো দেখতে আজও ভিড় জমান বিভিন্ন জেলার মানুষ।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

গোপীনাথ মুখোপাধ্যায়ের পুথি দেখে মা কালীর পুজো হয় শান্তিপুরের চাঁদুনিবাড়িতে

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

দীপাবলি-কালীপুজো

জো বাইডেন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, দীপাবলির শুভেচ্ছা জানালেন সোশ্যাল মিডিয়ায়

টুইটারে শুভেচ্ছা জানালেন বাইডেন-ট্রাম্প!

Published

on

ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইট থেকে

খবর অনলাইন ডেস্ক: শনিবার রাতে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জো বাইডেন। আলোর উৎসবের পাশাপাশি নতুন বছরের অগ্রিম শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন বাইডেন।

হোয়াইট হাউসের দখলকে কেন্দ্র করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রায়শ সমালোচিত ট্রাম্প, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে খুব একটা টুইট করেন না।

Loading videos...

বাইডেন লিখেছেন, “লক্ষ লক্ষ হিন্দু, জৈন, শিখ এবং বৌদ্ধরা আলোর উৎসবে শামিল হয়েছেন। আমি তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই”। পাশাপাশি হিন্দিতে লিখেছেন, ‘সাল মুবারক’। নতুন বছরে সকলের প্রত্যাশা পূরণের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে রেখেছেন বাইডেন।

অন্যদিকে ২০১৭ সালের হোয়াইট হাইসে নিজের দীপাবলি উদযাপনের একটি ছবি দেওয়া কার্ড শেয়ার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। লিখেছেন, “হ্য়াপি দিওয়ালি”।

আরও পড়তে পারেন: পুলিশি নজরে মোটামুটি বাজিহীন মহানগর কলকাতা আলোর ছটায় উদ্ভাসিত

Continue Reading

দীপাবলি-কালীপুজো

আলোয় আলোয় সমাজের মলিনতা দূর করতে ডাক জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীর

মন্দিরে আগত ভক্তদের উদ্দেশে বার বার মাইকে সতর্কও করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সবাই যেন অবশ্যই মাস্ক পরেন এবং দৈহিক দূরত্ব রক্ষা করে চলেন।

Published

on

ঢাকেশ্বরী মন্দিরপ্রাঙ্গণে ভক্তদের ভিড়।

ঋদি হক: ঢাকা 

সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষই চান অন্ধকার দূর করতে। এর জন্য যে কেবল ধর্মকে অবলম্বন করতে হবে তা-ও কিন্তু নয়। আলোয় আলোয় সমাজের মলিনতা দূর করতে চাই বন্ধন, যে বন্ধনটা বাংলাদেশে খুবই সুদৃঢ়। ধর্ম এখানে মুখ্য নয়, উৎসবটা সবার – এমন ভাবনাই ভক্তদের মধ্যে কাজ করে থাকে।

Loading videos...

বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির (Bangladesh National Temple) প্রাঙ্গণে ভক্তের মহামিলন দেখে স্বাভাবিক ভাবেই মনে হয়েছে, উৎসব-প্রিয় বাঙালি। ’৭১-এর এই বাঙালিই স্বাধিকারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঁশের লাঠি নিয়ে, যেখানে কোনো ধর্ম কাজ করেনি। তারা বাঙালি, তাদের ভাষা বাংলা। তারা যে সংস্কৃতি-কৃষ্টিকে লালন করে, তা-ও কোনো ধর্মের বিচারে নয়। মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ শক্তি নিয়ে তাদের বসবাস। এটাই শিখিয়েছে দুর্গোৎসব, দীপাবলি, ঈদ, পয়লা বৈশাখ-সহ প্রতিটি উৎসব।

মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন সোহেলি ও তাঁর বান্ধবী।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে (Dhakeshwari Mandir) বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন সোহেলি। হাতে মোমবাতি। ঢাকেশ্বরী মায়ের মন্দিরে তা জ্বালিয়ে প্রার্থনা করবেন জাতির কল্যাণে। করোনা-দুনিয়ায় উৎসবে হয়তো শতভাগ মনের খোরাক মিটবে না, কিন্তু তার পরও ঢাকেশ্বরী মন্দিরপ্রাঙ্গণ কানায় কানায় ভর্তি।

চারিদিক দেখিয়ে সোহেলি আরও বলেন, “আমরা গেল বছর এর চেয়ে ঢের বেশি আনন্দ করেছি। পা রাখার জায়গা ছিল না মন্দিরপ্রাঙ্গণে।” তার পরেও এই মহামারিতে যতটুকু আয়োজন তা প্রত্যক্ষ করে এটাই বলতে হয় খ্যাপা বাঙালি! এই মহা আয়োজনেও খুশি নয় তারা। আলোয় আলোয় আলোকিত মায়ের মন্দির। তাদের প্রত্যাশা আরও বেশি। এই প্রত্যাশাই ঐক্যের ছাতার তলায় নিয়ে এসেছে তাদের।

সন্ধে ছ’টা। মন্দিরের বাইরে পুলিশ এস্কর্টের হুইসেল কানে এল। এর পর দেখা গেল মন্দিরের সদর গেট গলিয়ে কালো রঙের দু’টো প্যাজেরো এসে থামল। তা থেকে নেমে আসছেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সহস্র প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ভারতীয় হাই কমিশনার (Indian High Commissioner) বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী (Vikram Kumar Doraiswami)। সস্ত্রীক সোজা এসে মঞ্চে দাঁড়ালেন।

প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার।

দু’ মাসও হয়নি বাংলাদেশে দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। এরই মধ্যে কতটা সহজ সাবলীল ভাবে সব কিছু মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। একজন সফল কূটনীতিকের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। চলনে-বলনে আধুনিক ও সামাজিক। মানুষকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর ঐশ্বরিক। দেশ ও সমাজভাবনায় মগ্ন মানুষেরা এমনটিই হয়ে থাকেন। কোনো সফল কূটনীতিক একজন দার্শনিকও। তা না হলে কি সমাজ-রাষ্ট্র আর মানুষের সমন্বয় ঘটানো সম্ভব?

মন্দির সংশ্লিষ্টদের বক্তৃতার পালা শেষে উদ্বোধকের বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলায় সবাইকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানালেন। এর পর সামাজিক বন্ধন কতটা অটুট তা বাংলাদেশের উদারণ দিয়ে তুলে ধরলেন। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথাও বেশ গর্বের সঙ্গে বললেন।

বাংলাদেশের কল্যাণ কামনা এবং এই আয়োজনে সফলতার প্রত্যাশা নিয়ে বক্তব্য শেষে প্রদীপ প্রজ্বলনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রাখলেন বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। নিজে মোমবাতি নিয়ে মঞ্চের অন্যদের হাতে তুলে দিলেন। সামাজিকতার মোড়কে মানুষকে কতটা বাঁধা যায় তারই স্বাক্ষর রাখলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবীপ্রতিমা।

প্রদীপ প্রজ্বলন শেষে মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। এর পর দেবীদর্শনে মিশে যান আমজনতার সঙ্গে। বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তিনি। সবাইকে কাছে ডেকে এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে এবং সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে চেপে বসেন।

মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল এবং বাংলাদেশ জাতীয় পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি ও দফতর-সম্পাদক বিপ্লব দে জানালেন, দুর্গোৎসবের পর পরই দীপাবলি উৎসব। বর্তমান করোনা মহামারিতে তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভক্তদের অংশ নিতে বলেছেন।

মন্দিরে আগত ভক্তদের উদ্দেশে বার বার মাইকে সতর্কও করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সবাই যেন অবশ্যই মাস্ক পরেন এবং দৈহিক দূরত্ব রক্ষা করে চলেন। রাত ১২টায় পূজা শুরু হয়ে ভোররাত ৪টায় শেষ হবে। তার পর বলি সম্পন্ন করে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

পুলিশি নজরে মোটামুটি বাজিহীন মহানগর কলকাতা আলোর ছটায় উদ্ভাসিত

Continue Reading

কলকাতা

পুলিশি নজরে মোটামুটি বাজিহীন মহানগর কলকাতা আলোর ছটায় উদ্ভাসিত

যেখানেই পুলিশের কাছে অনিয়মের অভিযোগ গিয়েছে, সেখানেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। মোটের ওপর কালীপুজোয় এক নিরুপদ্রব রাত পার করছে কলকাতা।

Published

on

Patuli, kolkata
কালীপুজোর রাতে কলকাতা শহরতলির পাটুলি। ছবি: শ্রয়ণ সেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি: এখন রাত ১২টা। এইমাত্র শেষ হল পাটুলি ভাসমান বাজারের পুজো। যতক্ষণ পুজো চলছিল, ততক্ষণ মনে হচ্ছিল অন্য রাতের চেয়ে আজকের রাতটা একটু আলাদা। পুজো শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত গান চলেছে – ‘মায়ের পায়ে জবা হয়ে ওঠ না ফুটে মন’। তার পর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে, পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্রের মধ্যে দিয়ে মনে হয়েছে আজকের রাতটা একটু ভিন্ন। কিন্তু পুজো শেষ হতেই সব শুনশান। কে বলবে আজ দীপাবলির রাত?

এই ছবিটা যে শুধু দক্ষিণ শহরতলির পাটুলির তা নয়, মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ‘খবর অনলাইন’-এ যে খবর এসেছে, তা থেকে পরিষ্কার, শহরের প্রায় সর্বত্রই ছবিটা উনিশ-বিশ। রাতের দিকে কিছু কিছু অঞ্চলে বাজি ফাটিয়ে যে অনিয়ম কিছু করা হয়নি তা নয়, তবে তা নেহাতই বিক্ষিপ্ত ঘটনা। মোটের ওপর কালীপুজোর রাত কাটছে উৎপাতহীন অবস্থায়।

Loading videos...

বাজির উৎপাতে কালীপুজোর রাতে দূষণের মাত্রা প্রচণ্ড বেড়ে যায়। সুস্থ মানুষেরই শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়, অসুস্থ-অশক্তদের দুরবস্থা তো কহতব্য নয়। আর শব্দবাজির তাণ্ডব যে মাঝেমাঝে কী মাত্রাছাড়া হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পুলিশি নজরদারি থাকে, তবে তাতে বিশেষ কাজ হয় না।

দূষণ নিয়ে বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও শহরবাসীকে কালীপুজোর রাতে আগে কখনও রোখা যায়নি। কিন্তু এ বার কোভিড পরিস্থিতি সব কিছু পালটে দিল। এই ইঙ্গিত অবশ্য কয়েক দিন আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। অন্যান্য বছর কালীপুজোর দিন কয়েক আগে থেকেই বাজির তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। এ বার তা দেখা যায়নি। এবং শনিবার কালীপুজোর রাতেও তার অন্যথা হয়নি।

শনিবার বাজির তাণ্ডব থেকে মোটামুটি মুক্তই রইল কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা। অন্যান্য বার পুজোর দিন সন্ধে থেকেই আকাশ ছেয়ে যায় আতশবাজিতে, শহরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। রাত যত বাড়ে দূষণের মাত্রা তত বাড়ে। আর শব্দবাজির উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে মানুষজন। কিন্তু এ বার অন্য কলকাতা দেখল শহরবাসী। এর জন্য অবশ্যই কলকাতা পুলিশের ধন্যবাদ প্রাপ্য। তাদের কড়া নজরদারি ছিল শহরের অলিগলিতে।

পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ মানা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য শহরের সর্বত্র নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে ফেসবুকে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া দেখে। পুলিশের ভূমিকায় খুশি প্রকাশ করে অসংখ্য পোস্ট হয়েছে ফেসবুকে। নেটিজেনরা জানিয়েছেন, যেখানেই পুলিশের কাছে অনিয়মের অভিযোগ গিয়েছে, সেখানেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। মোটের ওপর কালীপুজোয় এক নিরুপদ্রব রাত পার করছে কলকাতা।

মহানগরের নামকরা পূজামণ্ডপগুলিতেও এ দিন তেমন ভিড় ছিল না। শহরবাসী নিজেদের বেঁধে রেখেছিলেন নিজেদের পাড়ার চৌহদ্দিতেই। ঘর সাজিয়েছেন মোমবাতি-প্রদীপ-টুনিবালবে। বাজি না ফাটলেও, দীপাবলির রাতে আলোয় সেজেছে মহানগর।

কোভিড পরিস্থিতির দরুন এ বছর কালীপুজোয় বাজি পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট।  সেই নির্দেশ যাতে ঠিকঠাক কার্যকর করা যায়, তার জন্য আগে থাকতেই তৎপর হয়ে ওঠে কলকাতা পুলিশ। শুরু হয় মজুত করে রাখা বাজি উদ্ধার অভিযান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টাও চালিয়ে যায় তারা। তারই সুফল মিলল শনিবার কালীপুজোর রাতে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

মুখে থাকুক মাস্ক, হাতে নিয়ে স্যানিটাইজার, ডাকছে মৈনাকের কালীপুজোর থিম ‘শুদ্ধি’

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বাংলাদেশ7 hours ago

Bangladesh Covid Vacination: টিকা ট্রায়ালে চিন অর্থ চাওয়ায় রাজি হয়নি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ7 hours ago

Bangladesh-China Relation: চিনের এমন আচরণ আশা করেনি বাংলাদেশ

দেশ10 hours ago

G-7 Summit: পর্তুগালের পর ইংল্যান্ড যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

বিজ্ঞান10 hours ago

জানেন কি, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর অ্যান্টিবডিগুলি কত দিন পর্যন্ত রক্তে থেকে যায়

রাজ্য11 hours ago

Bengal Corona Update: কুড়ি হাজারের গণ্ডি পেরোল দৈনিক সংক্রমণ, প্রচুর টেস্টর ফলে সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের নীচে

coronavirus test
দেশ12 hours ago

আক্রান্তদের ফের আরটি-পিসিআর নয়, কোভিড টেস্টে নয়া নির্দেশ কেন্দ্রের

বিনোদন12 hours ago

‘রাধে’র বক্স অফিস কালেশন হতো ‘জিরো’, হল মালিকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী সলমন খান

দেশ13 hours ago

Vaccination Drive: জোগান নেই, মহারাষ্ট্রে বন্ধ হয়ে গেল কমবয়সিদের টিকাকরণ

বিজ্ঞান3 days ago

কোভিডের ভাইরাস বায়ুবাহিত, ৬ ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে, দাবি শীর্ষ মার্কিন সংস্থার

রাজ্য2 days ago

Bengal Corona Update: নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একই, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতা

ক্রিকেট2 days ago

বিরাট-রোহিত ছাড়াই এক নতুন ভারতীয় দলকে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেখা যাবে!

দেশ23 hours ago

Covid Crisis: অক্সিজেনের অভাবে ১১ কোভিডরোগীর মৃত্যু অন্ধ্রপ্রদেশের হাসপাতালে

প্রবন্ধ3 days ago

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার15 hours ago

Madhyamik 2021: আপাতত সম্ভব নয় মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

দেশ22 hours ago

Covid Crisis: সংক্রমণের ধার কমাতে একটি বিশেষ ওষুধে ছাড়পত্র দিল গোয়া, খেতে হবে সবাইকে

দেশ3 days ago

ভ্যাকসিন এবং কোভিডের চিকিৎসা সরঞ্জামে ট্যাক্স কেন? মমতার চিঠির পর ১৬টা টুইট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে