কলকাতার প্রাচীন ৫টি কালী মন্দিরের ইতিহাস

0
kali
কালীঠাকুর

ওয়েবডেস্ক : কলকাতার সঙ্গে কালীর যোগ শহর কলকাতা গড়ে ওঠার অনেক আগে থেকেই। তখন চারপাশে জঙ্গল, কলকাতা তখন কলকাতা নয়।

দক্ষিণেশ্বর –

দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দির আক্ষরিক অর্থেই রানি রাসমণির স্বপ্নের মন্দির। জানবাজারের রানির কথায়, কাশী যাওয়ার পথে স্বয়ং দেবী কালী তাঁকে স্বপ্নে এই মন্দির তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই মন্দির তৈরি করতে তখনকার দিনে খরচ হয়েছিল ৯ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। রানি ১৮৪৭-তে মন্দির নির্মাণ শুরু করেছিলেন। শেষ হয় ১৮৫৫ সালে। ১০০ ফুটেরও বেশি উঁচু এই নবরত্ন মন্দির। এর স্থাপত্য দেখার মতো। গর্ভগৃহে সহস্র পাপড়ির রৌপ্য-পদ্মের উপর শায়িত শিবের বুকে দেবী কালী দাঁড়িয়ে। এক খণ্ড কষ্ঠিপাথর খোদাই করে তৈরি হয়েছে এই দেবীমূর্তি।

আদ্যাপীঠ –

কলকাতার উত্তর প্রান্তে শক্তি আরাধনার অন্যতম পীঠস্থান হল আদ্যাপীঠের মন্দির। আসলে হাসপাতাল গড়ে তোলার ইচ্ছা ছিল অন্নদা ঠাকুরের। কিন্তু এক দিন স্বপ্নে রামকৃষ্ণদেব বলেন, ইডেন জলাশয় থেকে মাতৃমূর্তি তুলে এনে মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে। তার পরই স্বপ্নাদেশ মেনে ইডেন জলাশয়ে একটি মাত্র ডুব দিয়েই হাতে আসে কালীরত্নধন। সেই মূর্তি তুলে এনে প্রতিষ্ঠা হয় আদ্যাপীঠ মন্দির। মানুষকে প্রেম ও আদর্শে দীক্ষিত করতে ১৩৪০ বঙ্গাব্দে শুরু হয়ে ১৩৭৫ সনের মকর সংক্রান্তিতে শেষ হয় শ্রী অন্নদা ঠাকুরের স্বপ্নে দেখা মন্দিরের নির্মাণ। ৩ চুড়োওয়ালা ৩ ধাপের মন্দির – প্রথম ধাপে শ্রীরামকৃষ্ণ, মাঝের ধাপে আদ্যামা এবং সব চেয়ে উপরের ধাপে রাধাকৃষ্ণ। তবে মূল মন্দিরে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। নিয়ম অনুযায়ী দীপান্বিতা অমাবস্যা শুরু হলে তবেই পুজো হয়।

ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি –

উত্তর কলকাতার আরও একটি প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন মন্দির হল ঠনঠনিয়া কালীমন্দির। এ যেন এক খণ্ড ইতিহাস। শোনা যায়, ডাকাতরা এই কালীমুর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারপর আর এই দেবীকে নড়ানো যায়নি সেই স্থান থেকে। তারপর আর কী করা যায়? অবশেষে জঙ্গল ভরা অঞ্চলেই তৈরি হয় এই মন্দির। জনশ্রুতি থেকে জানা যায়, এই মন্দিরের ঘণ্টা বাজিয়েই একসময় ডাকাতরা তাদের হামলার সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দিত দূর দূরান্তে। ঘণ্টার ঠনঠন শব্দ থেকে মন্দিরের নাম ঠনঠনিয়া। শুধু ডাকাত নয়। প্রাচীন এই মন্দিরের ইতিহাসে নাম জড়িয়ে রয়েছে দুই মহাসাধকেরও। তাঁরা হলেন সাধক রামপ্রসাদ ও যুগাবতার রামকৃষ্ণদেব। ডাব আর চিনি দিয়ে এই মন্দিরের মায়ের পুজো দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণদেব। এক সময় মন্দির প্রাঙ্গণে ধ্বনিত হতো সাধক রামপ্রসাদের কণ্ঠের গান।

ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি –

বউবাজার মোড়ে রয়েছে ফিরিঙ্গি কালীমন্দির। লোককথা থেকে শুরু করে রূপোলি পর্দায় বার বার উঠে এসেছে এই মন্দিরের কথা। কথিত আছে, এই মন্দিরে বসেই গান গাইতেন অ্যান্টনি কবিয়াল। ভিনদেশি এই ভক্ত কবিয়ালের নামেই পরিচিতি পেয়েছে এই মন্দির। অনেকের মতে, ফিরিঙ্গি পাড়ার কাছাকাছি এই মন্দির। তাই এই মন্দিরের নাম হয়েছে ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি।

লেক কালীবাড়ি –  

লেককালীবাড়ি হল দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্রও সরোবরের ধারে অর্থাৎ ঢাকুরিয়া লেকের ধারে। এটি সাদার্ন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত একটি বিখ্যাত কালীমন্দির। ১৯৪৯ সালে হরিপদ চক্রবর্তী এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরটির পোশাকি নাম শ্রীশ্রী ১০৮ করুণাময়ী কালীমাতা মন্দির। মন্দিরের প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিটির নাম “করুণাময়ী কালী”। ২০০২ সালে মন্দিরটি সংস্কার শুরু হয়। মন্দিরটি একটি বিশাল মন্দিরে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here