স্মিতা দাস : মা নয় মেজোমাসী বলে ডাকতেন রামকৃষ্ণ। তার কারণ ছিল দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী মন্দিরে দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে এই মূর্তিকে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু রানিরাসমণির সেই মূর্তি পছন্দ হয়নি। তার পর তৈরি হয়েছে বর্তমানের যে মূর্তি দেখা যায় দক্ষিণেশ্বরে সেই মূর্তি।

কথা হচ্ছে ররানগরের দে প্রামাণিক বাড়ির ব্রহ্মময়ী কালীমায়ের ব্যাপারে।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সোমনাথ বড়াল। পাঁচ পুরুষ ধরে তাঁরা এই মন্দিরের দেবী মায়ের সেবা করে আসছেন। সোমনাথবাবু বলেন, ঈশ্বর কালীপদ বড়াল এই মন্দিরের মাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি বলেন, এই মন্দির হল দে প্রামাণিক পরিবারের মন্দির। মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছিল ১৮৫৩ সাল অর্থাৎ তখন ১২৫৯ বঙ্গাব্দ। মাঘি পূর্ণিমার দিন মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ঈশ্বর রামগোপাল দে ও ঈশ্বর দুর্গাপ্রসাদ দে এই দু’ জন মিলেই এই মন্দির স্থাপন করেছিলেন। এখনও প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশাল বড়ো করে মায়ের পুজো করা হয়।

এই প্রামাণিকরা থাকতেন বর্ধমান জেলায় কুলীনপুর গ্রামে। সেখানেই বড়ালরা এই পরিবারের কুলু পুরোহিত ছিলেন। এর পর এক সময় পরিবারের লোকজন বার্মায় পাড়ি দেন ব্যবসার উদ্দেশ্যে।  তারপর  বার্মায় যুদ্ধ শুরু হয়। তখন প্রামাণিকরা আবার বর্ধমানে ফিরে আসেন।

এর পর আবার কাজের খোঁজে কলকাতায় আসেন তাঁরা। সেই সময় ছিলেন কামদেব দে।  তার পরই পরিবারের লোকরা বংশ পরম্পরায় কলকাতায় থাকতে শুরু করেন।  

সোমনাথবাবু বলেন, এই মন্দিরের বিশেষত্ব হল এই মূর্তি দক্ষিণেশ্বরেই তৈরি হয়েছিল। দক্ষিণেশ্বরের মায়ের মূর্তি যিনি তৈরি করেছিলেন তাঁর হাতেই এই মূর্তিও তৈরি হয়েছিল। ভাস্করের নাম ছিল ঈশ্বর নবীনচন্দ্র পাল। এই মূর্তি ছিল দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের জন্য তৈরি দ্বিতীয় মূর্তি।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.