কলকাতার সব থেকে প্রাচীন কালী মন্দিরটির ইতিহাস খুবই আশ্চর্যের

0
kalighat
কালীঘাট

ওয়েবডেস্ক : অনেকেই মনে করেন কলকাতার ইতিহাসের সঙ্গে সব থেকে পুরানো যোগ কালী ঠাকুরের। সেই যোগ না কি দুর্গা ঠাকুরের থেকেও বেশি। কেউ কেউ আবার কলকাতার নামের সঙ্গে কালী নামের সংযোগ খুঁজে পান।

কলকাতার সব থেকে প্রাচীন কালীমন্দির হল কালীঘাটের কালীমন্দির। কালীঘাটের কালীঠাকুরের মাহাত্ম্য সর্বজনবিদিত। এই কালীমন্দির হল সতীপীঠ। অর্থাৎ একান্নপীঠের এক পীঠ। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এখানে সতীর ৫১ দেহখণ্ডের মধ্যে ডান পায়ের কনিষ্ঠা আঙুলটি পড়েছিল।

এই তীর্থের পীঠদেবী হলেন দক্ষিণাকালী এবং ভৈরব বা পীঠরক্ষক দেবতা নকুলেশ্বর।

জনশ্রুতি আছে, ব্রহ্মানন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামে দুই সন্ন্যাসী কষ্টিপাথরের একটি শিলাখণ্ডে দেবীর রূপদান করেন। ১৮০৯ সালে বরিশার সাবর্ণ জমিদার শিবদাস চৌধুরী, তাঁর পুত্র রামলাল ও ভ্রাতুষ্পুত্র লক্ষ্মীকান্তের উদ্যোগে আদিগঙ্গার তীরে বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল।  

কলকাতার সব থেকে প্রাচীন কালীমন্দির হল কালীঘাটের কালীমন্দির। শোনা যায়, এই মন্দিরে কেবল রাজা-জমিদার বা পুণ্যাত্মাই নযন, পুজো দিয়েছেন ইংরেজ সাহেবরাও। একটি মামলা জেতার জন্য একবার মানত করে গিয়েছিলেন একজন সাহেব। তার পর সেই মামলা জেতার পর এই মন্দিরে এসে তখনকার সময়ে তিন হাজার টাকার পুজো দিয়েছিলেন তিনি। পঞ্জাব ও বার্মা দখলের পরও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষ থেকে এই মন্দিরে ষোড়শ উপাচারে পুজো দেওয়া হয়েছিল।

আবার শুধু ইংরেজরাই নয়। ওয়ার্ড লিখেছেন, প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ’শ জন মুসলমান এখানে পুজো দিয়ে যেতেন।

এই মন্দিরের মাহাত্ম্য গুণে বহু মানুষ এই মন্দিরে অনেক দানধ্যানও করেছেন। রাজা নবকৃষ্ণ ১৭৬৫ সালে সোনার মুণ্ডমালা দান করেছিলেন। সঙ্গে লক্ষাধিক টাকাও দান করেছিলেন তিনি।

খিদিরপুরের গোকুলচন্দ্র ঘোষাল কালী মায়ের চার হাত রুপোর তৈরি করে দিয়েছিলেন। সেই হাত পরে সোনার করে দিয়েছিলেন কালীচরণ মল্লিক। দেবী মায়ের সোনার জিভ গড়িয়ে দিয়েছিলেন পাইকপাড়ার রাজা ইন্দ্রচন্দ্র সিংহ। পাতিয়ালার মহারাজও সোনার মুণ্ডমালা দান করেন। দেবীর মাথার ছাতা দান করেছিলেন নেপালের সেনাপতি জঙ্গ বাহাদুর।

শুধু দেবীকে সাজিয়ে দেওয়া নয়। গোটা মন্দির ও মন্দির চত্ত্বরটি গড়ে উঠেছে মানুষের দানে, শ্রদ্ধা ভক্তিতে। হুজুরিমাল ছিলেন পঞ্জাবি সৈনিক। তাঁর শেষ ইচ্ছা রাখতে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি মন্দির সংলগ্ন আদিগঙ্গার ঘাটটি বাঁধিয়ে দিয়েছিল।

মন্দিরটির সংস্কার সাধন হয় বড়িশার জমিদার সন্তোষ রায়চৌধুরীর উদ্যোগে।

আন্দুলের জমিদার রাজা কাশীনাথ রায় কালীঘাট মন্দিরের নাটমন্দিরটি তৈরি করে দিয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here