স্মিতাদাস : ‘পুঁটিমাছ ভাসছে তার নিচে পাওয়া যাবে আমাকে’। এমনটাই স্বপ্নাদেশ ছিল লাল মন্দিরের পূজিতা কালী মায়ের। শোনা যায় ঠিক সেই মতোই একই স্থান থেকে মাকে পাওয়া গিয়েছিল। তাই এই মায়ের নাম পুঁটে মা।

এই কালী ঠাকুরকে যোগমায়া মা হিসাবে পুজো করা হয়। স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন ভক্ত অমর কৃষ্ণ ভট্টাচার্য। তিনিই এই মাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রথমে এই মন্দির কুঁড়ে ঘর ছিল। পরে শোভাবাজার রাজবাড়ির রাজাদের সহযোগিতায় এই মন্দির তৈরি হয়।

কথিত আছে শোভাবাজার রাজবাড়ির ততকালীন রাজা দেবী মাকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত করা যায়নি। এমনকি এও জনশ্রুতি আছে, এক সময় মন্দিরের তলদেশ দিয়ে একটি সুড়ঙ্গ নাকি শোভাবাজার রাজবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।।

নির্মল ভট্টাচার্য লাল মন্দিরের পুজারী। তিনি বলেন, একটা সময় এই কালী মূর্তিকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল রাস্তার মাঝখানের এই মন্দির রাস্তার ধারে কোথাও একটি প্রতিষ্ঠা করা। সেই কাজে বাধা দান করে স্বমহিমায় একই স্থানে বিরাজ করছেন পুঁটিয়া মা। জনশ্রুতি আছে এই কাজে যাঁরা উদ্যত হয়েছিলেন তাঁদের অনেকেরই প্রাণ গিয়েছে, তা ছাড়াও উপযুক্ত শাস্তি নাকি বাকিরা পেয়েছেন। তার পর আর এই মন্দির সরানোর কথা কেউ ভাবেনি। এমনকি পরে রাস্তা তৈরির সময় ইংরেজরাও এই মন্দিরকে এই স্থানে অক্ষত রেখেই রাস্তা তৈরি করে।

শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনের আগে লাল মন্দির বাস স্টপে নামলেই দেখা যায় লাল রঙের একটি মন্দির যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ ও চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের একদম মাঝ বরা বর দাঁড়িয়ে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.