যেখানে মায়ের দু’টি পায়ের ছাপ পূজিত হয় জঙ্গলি কালী হিসাবে

0

মুর্শিদাবাদ: ইনি জঙ্গলি কালী বা ডাকাত কালী হিসাবে পরিচিত। তবে এখানে মা কালীর কোনো মূর্তি নেই। বিগ্রহের বদলে রয়েছে মায়ের দু’টি পায়ের ছাপ। সেই পদচিহ্নই ভক্তিভরে পুজো করা হয়।

মুর্শিদাবাদের নশীপুর এলাকার এই জঙ্গলি কালী বা ডাকাত কালী আনুমানিক ৫০০ বছরের পুরোনো। স্থানীয় অধিবাসীরা অন্তত তাই বলেন।

স্বাভাবিক ভাবেই মা কালীর পায়ের ছাপকে ঘিরে রয়েছে এক লৌকিক কাহিনি। কোনো এক সময়ে নশীপুরের এই এলাকা ছিল জঙ্গলে পরিপূর্ণ। ডাকাতরা বসবাস করত এই এলাকায়, মায়ের পুজো করে তারা ডাকাতি করতে যেত।

সে রকমই এক দিন মায়ের পুজোর শেষে ডাকাতদল ডাকাতি করতে যায়, এবং খালি হাতে ফিরে আসে। কিছু না পাওয়ার রাগ গিয়ে পড়ে মা কালীর উপর। তারা আক্রমণ করে বসে মা কালীকে। ডাকাতদের হাত থেকে বাঁচার জন্য পাশের একটি কুয়োতে ঝাঁপ দেন মা কালী। মা কালী অন্তর্হিত হন, থেকে যায় শুধু তাঁর পদযুগলের ছাপ। ওই ছাপ রয়েছে মায়ের বেদি ও কুয়োর পাশে।

৫০০ বছর ধরে ওই পায়ের ছাপকেই পুজো করে আসছেন এখানকার মানুষজন। কালীপুজোর সময়ে জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসেন এই জঙ্গলি কালী বা ডাকাত কালীর পুজো দেখার জন্য।

একটি বহুপ্রাচীন নিম গাছ রয়েছে এখানে। সেই গাছ থেকে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। এলাকাবাসীরা মনে করেন, গাছটিতে কালীমায়ের সহচরীরা থাকেন, যে কারণে মন্দির সংস্কার হলেও গাছটি কাটা হয়নি।

সারা বছর ধরে পুজো হলেও কালীপুজোর দিনে মানুষের ভিড় থাকে চোখ পড়ার মতন। বিশ্বাস, আস্থা সমস্ত কিছু নিয়েই জঙ্গলি কালী আজও আকর্ষণের কেন্দ্রে।

আরও পড়তে পারেন

বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের আকুই গ্রামের এক ব্যতিক্রমী কালী-কাহিনি

দিঘলগ্রামের ভট্টাচার্য পরিবারে পূজিতা সিদ্ধেশ্বরী কালী আসেন দ্বারকেশ্বর তীরের আসপুর গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবার থেকে

সাধককে দেবীই স্বপ্নাদেশ দিয়ে ডেকে এনেছিলেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আলমবাজার ঘাটের এই দক্ষিণাকালী মন্দির

কালীপুজোয় কখন, কী বাজি পোড়ানো যাবে, বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদের

সর্দি-কাশি-অ্যালার্জির ধাত থাকলে বাজি ফাটানোর সময় কী সাবধানতা অবলম্বন করবেন

কালীপুজোয় বাজি ফাটানো বন্ধে মামলা কলকাতা হাইকোর্টে, শুনানি শুক্রবার

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন