crowd at moutor kali temple
মৌতড়ে কালী মন্দিরে ভিড়। নিজস্ব চিত্র।

শুভদীপ চৌধুরী, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া জেলার প্রথম সারির তথা রাজ্যের অন্যতম কালীমন্দির মৌতড়ের বড়ো কালীমন্দির।  পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর ২ নং ব্লকের অন্তর্গত এই কালীমন্দিরের প্রাঙ্গণ প্রতি বছরের মতো এ বছরেও রেকর্ডসংখ্যক ভক্তসমাবেশে গমগম করছে।পুরুলিয়া জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সকাল থেকেই শুরু করেছেন ভিড় জমাতে। এখানকার পুজোর মূল বৈশিষ্ট্য হল ‘পশুবলি’। বংশ পরম্পরায় চলে আসছে এই বলিদান প্রথা। কালীপুজোর দিন রাত থেকেই শুরু হয়ে যায় বলি। হাজার দু’য়েক ছাগল, ভেড়া ও শতাধিক মোষ বলি হয় এখানে।

রাত থেকে শুরু হয়ে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত একই রকম ভাবে চলে বলিদান। কথিত আছে, বলির সময় কালীমূর্তিকে বেঁধে রাখা হয় লোহার শিকল দিয়ে। কারণ বলিদানের সময় কালীমূর্তিটি জাগ্রত হয়ে প্রচণ্ড ভাবে নড়ে।

ঠিক কত বছর আগে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল তার সঠিক কোনো হিসেব নেই উদ্যোক্তাদের কাছে। যদিও এলাকার বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী এবং মৌতড় গ্রামের পুজো নিয়ে লেখা কিছু বইয়ে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, আনুমানিক কয়েক শতক আগে এ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য। তাঁর জামাই সাধক শোভারাম ব্যানার্জি এই পুজোর সূচনা করেন।

আরও পড়ুন চারশো বছরের প্রাচীন বাঁকুড়ার হট্‌নগর কালী, জানেন কি এর নামকরণের ইতিহাস?

শতাব্দীপ্রাচীন এই জাগ্রত কালীমন্দির সাজিয়ে তোলা হয়েছে কালীঘাটের মন্দিরের আদলে। পুজোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই পুজোকে ঘিরে মৌতড় এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে সাজো সাজো রব। আর মঙ্গলবার পুজোর দিনে মূলত মায়ের উদ্দেশে বলিদান দেখতেই জেলা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে গমগমিয়ে উঠছে মন্দিরপ্রাঙ্গণ।

স্থানীয় প্রশাসন, মৌতড় ষোলো আনা উৎসব কমিটি ও গ্রামের তরুণ সংঘের মিলিত উদ্যেগে নতুন ভাবে কালীঘাট মন্দিরের আদলে এই মন্দির তৈরি হওয়ায় মৌতড় গ্রামের এই পুজো এ বার এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। অন্য দিকে মন্দিরের এই অস্বাভাবিক ভিড়ে যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য স্থানীয় রঘুনাথপুর থানার পুলিশ সজাগ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here