পুলিশি নজরে মোটামুটি বাজিহীন মহানগর কলকাতা আলোর ছটায় উদ্ভাসিত

0
Patuli, kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি: এখন রাত ১২টা। এইমাত্র শেষ হল পাটুলি ভাসমান বাজারের পুজো। যতক্ষণ পুজো চলছিল, ততক্ষণ মনে হচ্ছিল অন্য রাতের চেয়ে আজকের রাতটা একটু আলাদা। পুজো শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত গান চলেছে – ‘মায়ের পায়ে জবা হয়ে ওঠ না ফুটে মন’। তার পর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে, পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্রের মধ্যে দিয়ে মনে হয়েছে আজকের রাতটা একটু ভিন্ন। কিন্তু পুজো শেষ হতেই সব শুনশান। কে বলবে আজ দীপাবলির রাত?

এই ছবিটা যে শুধু দক্ষিণ শহরতলির পাটুলির তা নয়, মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ‘খবর অনলাইন’-এ যে খবর এসেছে, তা থেকে পরিষ্কার, শহরের প্রায় সর্বত্রই ছবিটা উনিশ-বিশ। রাতের দিকে কিছু কিছু অঞ্চলে বাজি ফাটিয়ে যে অনিয়ম কিছু করা হয়নি তা নয়, তবে তা নেহাতই বিক্ষিপ্ত ঘটনা। মোটের ওপর কালীপুজোর রাত কাটছে উৎপাতহীন অবস্থায়।

বাজির উৎপাতে কালীপুজোর রাতে দূষণের মাত্রা প্রচণ্ড বেড়ে যায়। সুস্থ মানুষেরই শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়, অসুস্থ-অশক্তদের দুরবস্থা তো কহতব্য নয়। আর শব্দবাজির তাণ্ডব যে মাঝেমাঝে কী মাত্রাছাড়া হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পুলিশি নজরদারি থাকে, তবে তাতে বিশেষ কাজ হয় না।

দূষণ নিয়ে বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও শহরবাসীকে কালীপুজোর রাতে আগে কখনও রোখা যায়নি। কিন্তু এ বার কোভিড পরিস্থিতি সব কিছু পালটে দিল। এই ইঙ্গিত অবশ্য কয়েক দিন আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। অন্যান্য বছর কালীপুজোর দিন কয়েক আগে থেকেই বাজির তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। এ বার তা দেখা যায়নি। এবং শনিবার কালীপুজোর রাতেও তার অন্যথা হয়নি।

শনিবার বাজির তাণ্ডব থেকে মোটামুটি মুক্তই রইল কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা। অন্যান্য বার পুজোর দিন সন্ধে থেকেই আকাশ ছেয়ে যায় আতশবাজিতে, শহরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। রাত যত বাড়ে দূষণের মাত্রা তত বাড়ে। আর শব্দবাজির উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে মানুষজন। কিন্তু এ বার অন্য কলকাতা দেখল শহরবাসী। এর জন্য অবশ্যই কলকাতা পুলিশের ধন্যবাদ প্রাপ্য। তাদের কড়া নজরদারি ছিল শহরের অলিগলিতে।

পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ মানা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য শহরের সর্বত্র নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে ফেসবুকে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া দেখে। পুলিশের ভূমিকায় খুশি প্রকাশ করে অসংখ্য পোস্ট হয়েছে ফেসবুকে। নেটিজেনরা জানিয়েছেন, যেখানেই পুলিশের কাছে অনিয়মের অভিযোগ গিয়েছে, সেখানেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। মোটের ওপর কালীপুজোয় এক নিরুপদ্রব রাত পার করছে কলকাতা।

মহানগরের নামকরা পূজামণ্ডপগুলিতেও এ দিন তেমন ভিড় ছিল না। শহরবাসী নিজেদের বেঁধে রেখেছিলেন নিজেদের পাড়ার চৌহদ্দিতেই। ঘর সাজিয়েছেন মোমবাতি-প্রদীপ-টুনিবালবে। বাজি না ফাটলেও, দীপাবলির রাতে আলোয় সেজেছে মহানগর।

কোভিড পরিস্থিতির দরুন এ বছর কালীপুজোয় বাজি পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট।  সেই নির্দেশ যাতে ঠিকঠাক কার্যকর করা যায়, তার জন্য আগে থাকতেই তৎপর হয়ে ওঠে কলকাতা পুলিশ। শুরু হয় মজুত করে রাখা বাজি উদ্ধার অভিযান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টাও চালিয়ে যায় তারা। তারই সুফল মিলল শনিবার কালীপুজোর রাতে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

মুখে থাকুক মাস্ক, হাতে নিয়ে স্যানিটাইজার, ডাকছে মৈনাকের কালীপুজোর থিম ‘শুদ্ধি’

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন