১০ নয়, একটি মতে মহাবিদ্যার সংখ্যা ২৭!

0
kali
কালী

ওয়েবডেস্ক : শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রী ৷ দেবী দুর্গার এই নয়টি রূপের কথা অনেকেই জানে। তেমনই দেবী কালী অর্থাৎ শ্যামা মায়েরও ১০টি রূপ আছে। সেই ১০ রূপকে এক সঙ্গে ‘দশ মহাবিদ্যা’ বলা হয়।

এই দশ রূপ হল – কালী, তারা, ষোড়শী, ভৈরবী, ভুবনেশ্বরী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী ও কমলাকামিনী। তবে এই দশ রূপ হল মুণ্ডমাল তন্ত্র অনুসারে। তন্ত্রের বিভিন্ন মতানুসারে এই রূপ নিয়ে বিস্তর মতাভেদ আছে।

শুধু তাই নয়, কোনো একটি মত বলে এই সংখ্যা ২৭। অনেক মতানুযায়ী দুর্গা, অন্নপূর্ণা ও কামাখ্যাও মহাবিদ্যা।

মালিনী বিজয় গ্রন্থের মতে, মহাবিদ্যা হলেন কালী, নীলা, মহাদুর্গা, ত্বরিতা, ছিন্নমস্তিকা, বাগ্বাদিনী, অন্নপূর্ণা, প্রত্যঙ্গিরা, কামাখ্যাবাসিনী, বালা, মাতঙ্গী ও শৈলবাসিনী।

শাক্ত ধর্মের ইতিহাসে মহাবিদ্যা ধারণার বিকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই ধারণা শাক্তধর্মে ভক্তিবাদের সূচনা ঘটায়। অষ্টাদশ শতাব্দীতে তা লাভ করে চূড়ান্ত সমৃদ্ধি। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী নাগাদ হিন্দু দেবমণ্ডলীতে পুরুষদেবতার প্রাধান্যের প্রতিক্রিয়ারূপে এক নতুন ধর্মান্দোলনের সূচনা ঘটেছিল। এই নতুন ধর্ম মতে পরম সত্ত্বাকে নারীরূপে কল্পনা করা হয়। এই মতকে ভিত্তি করে একাধিক ধর্মগ্রন্থ রচিত হয়।

উল্লেখ্য মহাবিদ্যা কথাটি মূলত সংস্কৃত শব্দ। সংস্কৃতে ‘মহা’ অর্থাৎ ‘মহৎ’ ও ‘বিদ্যা’ অর্থাৎ ‘প্রকাশ, রূপ, জ্ঞান বা বুদ্ধি’। এই সংস্কৃত শব্দ দু’টি থেকে মহাবিদ্যা কথাটির উৎপত্তি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.