ramnarayandas
রাম নারায়ণ দাস

শতাব্দী প্রাচীন দুর্গাপুজোর জৌলুস শুধু শহরেই নয়, আছে গ্রামের উৎসবেও। কিন্তু গ্রাম যে চিরটা কাল তলিয়ে রইল বনের অন্ধকারে। অজানা পাতার আড়ালে। তাকে টেনে এনে প্রচারের আলোয় কেউ দাঁড় করায় না। ক’জন যায় শহর থেকে গ্রামে? তবে এটা ঠিক সেখানেও উৎসব হয়। কাশের বনের নির্মল হাওয়ায়, বিশুদ্ধ পরিবেশে দূষণের জৌলুস থেকে অনেক দূরে সেখানকার পুজোর দিনগুলো কাটে সহজ সরল আনন্দ উৎসবে।

১১৯ বছরে পা দিল হাওড়া জয়পুর থানার অন্তর্গত কাঁকরোল গ্রামের বালিয়াল পরিবারের দুর্গাপুজো। এই পরিবারের একজন মহিলা সদস্যা ছিলেন স্বর্গীয়া এলোকেশী দেবী। তিনিই ১১৯ বছর আগে নিজের উদ্যোগে এই পুজো শুরু করেছিলেন।

প্রথা মেনে এখনও বালিয়াল পরিবার দুর্গাপুজো চালিয়ে যাচ্ছে। এলোকেশী দেবীর প্রপৌত্র বর্তমানে এই পুজো করছেন। পরিবারের একজন প্রবীণ সদস্য শিবরাম বালিয়াল জানান, যদিও সেই জৌলুস এখন অতটা নেই তবে যতটা সম্ভব আড়ম্বর বজায় রেখে আগামী দিনেও যাতে এই পুজো করে যেতে পারেন সেই চেষ্টা করে যান তাঁরা।

এই বালিয়াল-বাড়ির ঠিক সামনেই হচ্ছে কাঁকরোল কিশোর সংঘের পুজো। এই বাড়ির পুজো দেখে উৎসাহ পেয়ে পাড়ার কচিকাঁচারা শুরু করেছিল এই পুজো। ২৬ বছর আগে শুরু হয়েছিল পুজোটি। এই বারোয়ারি পুজো শুরু করেছিলেন ১২ জন বন্ধু মিলে। তখন সকলেই স্কুলে। এর পর দিনের বদলের সঙ্গে অবস্থানের বদল। কর্মস্থানে পাড়ি দিয়েছেন সকলেই। মোটামুটি সকলেই কাজের জন্য এলাকার বাইরে থাকেন। কিন্তু পুজোর ঠিক আগে আগেই সকলে ছেলেবেলার মতো নিজেদের হাতে সব কাজ করার জন্য হাজির হয়ে যান। এই ভাবেই  এক এক করে এতগুলি বছর পার করে দিয়েছেন তাঁরা। এখন পুজোর বাজেটে এসেছে অনেকটাই পরিবর্তন। সেই বারো জনের এক জন, পুজোর কোষাধ্যক্ষ মৃত্যুঞ্জয় মান্না জানান, ভবিষ্যতে পুজো আরও বড়ো হবে বলে আশা রাখেন তাঁরা।

এই বালিয়াল বাড়ির প্রতিমা ও কিশোর সংঘের প্রতিমা বিসর্জন একটি পুকুরেই হয়। তাই প্রথা মেনে বালিয়াল পরিবার দশমীর দিন দেবী বিসর্জন দেওয়ার পর, কিশোর সংঘের ঠাকুর একাদশীর দিন বিসর্জিত হয়।

ঠিক একই উঠোন লাগোয়া রয়েছেন দেবী চণ্ডী। প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো এই চণ্ডীতলা। জয়চণ্ডীতলা নামে বিখ্যাত। একটি নিম আর একটি বকুল গাছের নীচে এই জয়চণ্ডীতলা। বন্যাপ্রবণ এই এলাকায় বহুবার বন্যা হয়ে গেছে। কিন্তু তাতেও চণ্ডীমাতা ঠিক একই ভাবে নিজেকে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। এটাই তাঁর দেবীমাহাত্ম্য বলে মনে করেন এলাকাবাসীরা। পুজোর এই ক’দিন এই দেবীকে ঘিরেও হয় অনেক উৎসব, অনুষ্ঠান।

দুর্গাপুজোর আরও খবর পড়ুন

এই তিনে মিলে পুজোর ক’টা দিন দারুণ আনন্দে কেটে যায় এ তল্লাটের মানুষদের। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here