সন্ধিপুজোয় এক মণ চালের নৈবেদ্য অর্পণ করা হয় জোলকুলের ভট্টাচার্যবাড়ির পুজোয়

0
মায়ের মুখ। ভট্টাচার্যবাড়ি, জোলকুল।

অভিজিৎ ভট্টাচার্য

হুগলি জেলার জোলকুলের ভট্টাচার্য পরিবারের দুর্গাপুজো প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন। এই বংশের পূর্বপুরুষ হরিদাস ভট্টাচার্য এই পুজো শুরু করেন।

ভট্টাচার্যবাড়ির পুজোর দু’টো বৈশিষ্ট্য – এক, চালচিত্রের সাবেকি দুর্গাপ্রতিমা এবং দুই, মহাষ্টমী তিথির শেষ লগ্নে সন্ধিপুজোয় মাকে এক মণ চালের নৈবেদ্য নিবেদন করা।

বর্তমানে এই পুজোর যিনি মূল উদ্যোক্তা এবং যাঁর কথাতেই এই ভট্টাচার্য পরিবারের পুজো সুসম্পন্ন হয়, তিনি এই পরিবারের সদস্য শ্রদ্ধেয় ডাক্তার অমিতাভ ভট্টাচার্য। কথা হচ্ছিল অমিতাভবাবুর সঙ্গে। তিনি বলেন, মূলত নিষ্ঠা আর ভক্তিই ভট্টাচার্যবাড়ির পুজোর মূল সম্বল। এই পরিবারের যে যেখানেই থাকুন না কেন, পুজোর সময় সবাই জোলকুলে জড়ো হন। পুজোয় সবাই যোগ দেন।

প্রতিমা তৈরি হয় ভট্টাচার্যবাড়ির চণ্ডীমণ্ডপে। ষষ্ঠীর দিন বোধনঘর থেকে ভট্টাচার্য পরিবারের পুরোহিতমশাই পূত অগ্নি নিয়ে গিয়ে চণ্ডীমণ্ডপে মায়ের পুজোর সূচনা করেন। সপ্তমীর সকালে হয় নবপত্রিকা স্নান এবং দেবীর চক্ষুদান।

এই পরিবারের পুজোয় কুমারীপুজোর চল আছে। নবমীর দিন কুমারীপুজো হয়। পুজোর ক’দিন এই ভট্টাচার্য পরিবারে কয়েকশো মানুষের পাত পড়ে। দশমীর দিন এই পরিবারেরই নিজস্ব দিঘিতে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।

durga idol
দুর্গাপ্রতিমা।

দুর্গাপুজোর পাশাপাশি এই পরিবারে রথযাত্রা এবং দোলযাত্রা উৎসবও পালিত হয়। বাড়িতে আছেন রঘুনাথ। এই পরিবারের বিষয়-জমির কিছু অংশ দেবত্র করা আছে বলে অমিতাভবাবু জানালেন। সেই টাকা এবং ট্রাস্টের টাকায় পুজো হয়। মায়ের পুজোর ব্যাপারে পরিবারের সকল সদস্যই একমত।

জোলকুল গ্রামের ভট্টাচার্যবাড়িতে ঢোকার ঠিক আগেই চোখে পড়বে অনন্ত বাসুদেবতলা। বাসুদেবের কোলে শ্রীকৃষ্ণ শায়িত। মন্দিরে শ্রীচৈতন্যদেবের খড়ম রাখা আছে। কথিত আছে, শ্রীচৈতন্যদেব পুরী যাওয়ার সময় এই মন্দিরে কিছুক্ষণ কাটিয়েছিলেন। প্রতিমার বুকের মধ্যে এক সহস্র নারায়ণশিলা আছে।

এ ছাড়া ভাস্তারায় রয়েছে বারো ভুঁইয়ার এক ভুঁইয়া নন্তু সিংহের রাজবাড়ি। ভগ্নদশা হলেও এই বাড়ির ঐতিহ্য ও ইতিহাস আজও মানুষকে টানে। চণ্ডীমণ্ডপে এদেরও দুর্গাপুজো হয়।             

আরও পড়ুন: হাওড়ার কাঁকরোলের বালিয়াল পরিবারের ১১৯ বছরের দুর্গাপুজো

কলকাতা থেকে হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে গুড়াপ স্টেশনে নেমে বাসে করে ভাস্তারার কমলা সাগরের পাড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে টোটো বা রিকশায় জোলকুলের ভট্টাচার্যবাড়ি। কলকাতা থেকে সময় লাগে মোটামুটি দেড় ঘণ্টা। গাড়িতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে গিয়ে যেখান থেকে গুড়াপের রাস্তা বেরিয়েছে সেখানেই ডান দিকে ঘুরতে হবে। কলকাতা থেকে দূরত্ব ৬৬ কিমি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.