সাড়ে তিনশো বছর ধরে রায়পরিবারে দুর্গা পূজিতা হচ্ছেন নারায়ণী রূপে

0

indrani-putaiইন্দ্রাণী সেন, বাঁকুড়া  

এখানে দেবী দুর্গা চতুর্ভুজা। প্রতিমায় মহিষাসুর অনুপস্থিত। পুজোয় হয় না কোনো বলিদান, এমনকি সপ্তমীতে হয় না কলাবৌ স্নানও। অন্নভোগের পরিবর্তে চাল নিবেদন করা হয় দেবী দুর্গাকে।

বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের আকুই গ্রাম। এখানকার রায় পরিবারেই বিগত সাড়ে তিনশো বছর ধরেই এমন ভাবে পূজিতা হন মা দুর্গা। দুর্গাপুজোর সূচনা করেন তৎকালীন বর্ধমান রাজার দেওয়ান কানুরাম রায়ের বড়ো ছেলে ব্রজনাথ। বর্ধমান রাজার সহায়তায় রাধাকান্ত মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন কানুরাম। মন্দিরে আরাধ্য রাধাকৃষ্ণ। কথিত আছে কানুরাম নিজে বৃন্দাবনে গিয়ে সেখান থেকে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারানির মূর্তি আর শালগ্রাম শীলা নিয়ে এসে এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। ততদিনে দুর্গাপুজো শুরু করে দিয়েছেন ব্রজনাথ। কানুরাম তাঁর বড়ো ছেলেকে বলেন, বৈষ্ণব ধর্মে শাক্তমতে পুজো করা যাবে না। বৃন্দাবনে কুলগুরুর অনুমতি নিয়ে নারায়ণী রূপে পুজো শুরু করেন রায়রা।

কুলগুরুর নির্দেশমতো এই পুজোয় দুর্গা চতুর্ভুজা হতে হবে। থাকবেন না মহিষাসুর। কলাবৌ স্নান বা কোনোরকম বলিদান হওয়া চলবে না। সন্ধিপুজোর সময় দেবীর হাতে ১০৮ তুলসীপাতার মালা ও কানে হরিধ্বনি দেওয়ার প্রথা মেনে আসছেন রায়রা।

বংশের বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সদস্য ডঃ স্বপন কুমার রায় জানান, “আমার বাবা অমূল্য রতন রায়ের কথায় নারায়ণী শক্তিই হচ্ছে দুর্গার আসল রূপ। শুধুমাত্র আসুরিক শক্তি বা মহিষাসুর বধের জন্য জীবকুলকে রক্ষা করতে দশভুজা রূপ নেন। স্বয়ং নারায়ণ, দেবীকে নারায়ণী শক্তিতে ফিরিয়ে আনতে সন্ধিপুজোয় ১০৮ তুলসীপাতার মালা ও কর্ণে হরিধ্বনির বিধান দেন। এই নিয়ম মেনে এখনও সন্ধিপুজোর সময় দেবীর হাতে ১০৮ তুলসীমালা, কানে হরিধ্বনি করা হয়। সন্ধিপুজোর শেষে আরতি ও কীর্তন করেন বৈষ্ণবরা ও বাড়ির সকলে। পুজো হয় বৈষ্ণবমতে। রায়বাড়ির পুজোতে দেবীকে অন্নভোগের পরিবর্তে চাল দেওয়ার নিয়ম। রায় বংশের মতে, শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ বা বৈষ্ণবরাই অন্নভোগ রান্না করার অধিকারী। সপ্তমীতে ২৫ সের চাল, অষ্টমীতে ২০ সের, সন্ধিপুজোর জন্য ১৫ সের আর নবমীতে ২৫ সের চাল দেওয়া নিয়ম। এ ছাড়া মিষ্টি, ফল, বিভিন্ন নাড়ু এই পুজোয় দেবীকে নিবেদন করা হয়।”

পুজোর শেষদিন অর্থাৎ দশমীতে গ্রামের সমস্ত গরিব, দুঃখী ও দুঃস্থদের অন্ন ও বস্ত্রদান করে থাকেন এই রায়পরিবার।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন