৭০-এ ‘জাগরণে’ মগ্ন ৯৫ পল্লী

0
95-polly
গত বছরের ঠাকুর
smita das
স্মিতা দাস

৭০তম বর্ষে ‘জাগরণ’। গত ২০ বছরে দুর্গাপুজো আলাদা মাত্রা পেয়েছে। সেখানে এই পুজো আর একটি মাত্র জাতির ধর্মবিশ্বাস হিসাবেই আবদ্ধ নয়। এখন দুর্গাপুজো হল শিল্পের উৎসব। তাই বিভিন্ন ধর্ম, ভাষার মানুষ এই বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তা সাংস্কৃতিক চেতনার জন্ম দিয়েছে। সে বিষয়টিকেই  সাংস্কৃতিক জাগরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন ৯৫ পল্লীর এই বারের থিম শিল্পী প্রসূন ঘোষ।

প্রসূনের কথায় উনিশ শতকের প্রথম দিকে এক প্রকার সামাজিক জাগরণ হয়েছিল। যাকে নব জাগরণ বলা হয়। এখন মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। জীবনের মূল চাহিদা অর্থাৎ অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের চাহিদা অনেকটাই আজ পূর্ণ হয়েছে। তার পর আসে সংস্কৃতির চাহিদা। এখন মানুষের মধ্যে সেই সাংস্কৃতিক চাহিদা। নবজাগরণ সেই সময় হয়েছিল বলেই এখন মানুষের মনের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই বছরের ৯৫ পল্লীর থিমে সেই নব জাগরণের সঙ্গে বর্তমান চাহিদাকে এক সূত্রে দেখানো হয়েছে। দেখানো হবে তখনকার সামাজিক জাগরণ আর এখনকার সাংস্কৃতিক জাগরণ।

শিল্পী বলেন, এই বারের ৯৫ পল্লীর মণ্ডপে একটি বিশেষত্ব হল গোটা মণ্ডপটাই উন্মুক্ত অবস্থায়। তার সঙ্গে গোটা মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে স্যান্ট কাস্টিং-এ। বালির ছাঁচে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। সঙ্গে রয়েছে প্রাকৃতিক উপকরণ ভাঙা ইট, কাঠ, কাপড়, শুকনো গোবর, পোড়া মাটির টালি ইত্যাদি।  

তৈরি হচ্ছে এই বছরের মণ্ডপ

প্রতিমার বিশেষত্ব বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরের মধ্যে কেবল দুর্গা নয়, একই প্রতিমাকে দেখলে একই সঙ্গে দুর্গার মধ্যে কালী এবং কৃষ্ণকেও উপলব্ধি করতে পারবেন দর্শকরা। তবে কোনো আলাদা ভাবে সেটি কিন্তু ফুটিয়ে তোলা হবে না। প্রচ্ছন্ন ভাবে এই দুই দেবতাকেও অনুভব করা যাবে।

প্রতিমা নির্মাণ করেছেন সুরজিত পাল। আলোকসজ্জায় দীনেশ পোদ্দার। থিম মিউজিকে রয়েছেন দীপময় দাস।

ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটরি বিজয় দত্ত বলেন, দর্শক দেখে আনন্দ পাবে। এমন কাজ কলকাতায় এর আগে হয়নি।

গত বারে ‘মায়ার বাঁধন’-এ গোটা মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল ৯৫-এ। মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল ১০০০০ বাঁশ আর দড়ি ইত্যাদি দিয়ে।

মহালয়ার দিন সাধারণত উদ্বোধন হয়ে যায়। তবে এই বার এখনও কোনো কিছু নির্দিষ্ট হয়নি।

ঢাকুরিয়া বাসস্টপে নেমে খানিকটা ডান দিকে যোধপুর পার্কের রাস্তায় কিছুটা ভেতরে মণ্ডপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here