smita das
স্মিতা দাস

জল বাঁচাও নিয়ে চার দিকে রব উঠেছে। পাশাপাশি বাড়ছে জলসংকট। সেই সমস্ত কিছুকে তুলে ধরতে ৭০-এ বাঘাযতীন তরুণ সংঘের বিষয় ভাবনায় রয়েছে ‘এসো মুক্ত করো’।

পুরাণ বলে, মহাদেবের জটা থেকে গঙ্গার উৎপত্তি। ভগীরথের আহ্বানে মর্ত্যে আগমন করেন গঙ্গা। সেই থেকে সব পাপ ধুইয়ে দিয়ে নিঃশব্দে, নীরবে বয়ে চলেছে গঙ্গা। তিনি পবিত্র। তাই কথায় কথায় তাঁরই নমুনা তুলে ধরা হয়।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে চলা এই স্রোতোস্বিনী কখনও দুই পাশের সভ্যতাকে সে নিজের গর্ভে টেনে নিয়েছে, কখনও আবার তৈরি করেছে নতুন জনপদ। এই ভাঙাগড়ার খেলায় এক সভ্যতা থেকে অন্য সভ্যতার জন্ম দিয়েছে গঙ্গা। নানান ধর্ম সভ্যতা সংস্কৃতিকে মিলিয়ে দিয়েছে এই প্রাচীন প্রবাহধারা। তার শব্দের সঙ্গে মিশে গিয়েছে আজান আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি।

দু’ পারে রয়েছে জীবনের চড়াইউতরাই। কোথাও হাহাকার, কোথাও সম্পদের প্রাচুর্য। আর সেই সবের ক্লেদ প্রতিক্ষণে মিশছে এই পুণ্য সলিলে। তাতেই চলছে দ্বিধাহীন অবগাহন, প্রাত্যহিক ক্রিয়াকর্ম পূজার্চনা।

কিন্তু ক্রমশ ভরাট হচ্ছে সেই গঙ্গাবক্ষ। রুদ্ধ হচ্ছে তার শীতল প্রবাহ। দিকে দিকে মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষে মানুষে অবিশ্বাস, হানাহানি। রুদ্ধ গঙ্গায় ডুব দিয়ে তাই আর পাপক্ষয় হচ্ছে না।

এই বছরের মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে

সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গঙ্গাকে এই পাপের শৃঙ্খলমোচন করে আবার কল্লোলিনী করে তুলতে সভ্যতা অপেক্ষা করছে আরও এক ভগীরথের – এমনই বিষয়ভাবনা নিয়ে মণ্ডপের কাজে মেতেছে তরুণ সংঘ।

গোটা ভাবনার সৃজনে রয়েছেন শিল্পীভ্রাতৃদ্বয় পার্থ ঘোষ ও সিদ্ধার্থ ঘোষ। প্রতিমায় রূপদান করছেন দীপ্তরেখ ভড়।

গত বারের থিম ছিল ‘ভুতের রাজা দিল বর’। তাতে মায়ের কাছে জীবনের স্বাভাবিক প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণের প্রার্থনা করা হয়েছিল। চাওয়া হয়েছিল অন্ন বস্ত্র বাসস্থান।

বাঘাযতীন বাসস্টপ বা বাঘাযতীন স্টেশন থেকে রাম ঠাকুরের আশ্রমের দিকে হাঁটলে আশ্রমের উলটো দিকে পুজোমণ্ডপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here