Connect with us

দুর্গা পার্বণ

মহালয়ার ভোরে মহিষাসুরমর্দিনী ও বাণীকুমার

১৯৩২-এ বাণীকুমারের প্রযোজনায় শারদ-আগমনী গীতিআলেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ প্রথম সম্প্রচারিত হল।

Published

on

মহালয়ার ভোরে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা। কৃতজ্ঞতা স্বীকার: শাব্দিক পত্রিকা।
papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

পরনে কোঁচানো ধুতি ও পাঞ্জাবি, গায়ের রং ফরসা, ঝকঝকে কালো পাম্পশু, মুখে পান, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। মাথার সামনের দিকের অংশ কিছুটা ফাঁকা হলেও পেছনে ও কানের দু’পাশের চুলটি বড়ো সুন্দর। চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। গায়ে মিষ্টি আতরের গন্ধ। গাম্ভীর্যপূর্ণ চেহারা। সব কিছুর মধ্যেই এক শিল্পীসুলভ ভাব। মুখে তাঁর জর্দা মেশানো পান। আতরও মাখতেন তিনি। জুঁই ফুলের আতর ছিল তাঁর খুব প্রিয়। এ হেন মানুষটি যে এত কঠিন হতে পারেন কে বলবে?

বলতে পারে অতীত।

১৯৩২-এ বাণীকুমারের প্রযোজনায় শারদ-আগমনী গীতিআলেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ প্রথম সম্প্রচারিত হল। তখন এটি ঘিরে তীব্র আপত্তি ওঠে। ধর্মকে যারা চির দিন বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখতে চায়, সেই রক্ষণশীলদের পক্ষ থেকে। প্রতিবাদের মূল কারণ ছিল – এক অব্রাহ্মণ ব্যক্তির কন্ঠে কেন চণ্ডীপাঠ শোনা যাবে? রুখে দাঁড়ালেন বাণীকুমার। গ্রন্থনা ও চণ্ডীপাঠ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রই করবেন এই সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন তিনি। আর মায়ের এই আরাধনায় মুসলমান শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করবেন৷ সে-ও আটকাবে না কিছুতেই৷ মা শুধু হিন্দুর মা নন। এই লড়াকু মনোভাব লেখা ছিল যেন মজ্জায়৷ অন্য একটি আপত্তিও ছিল, মহালয়ার সকালে পিতৃতর্পণের আগেই কেন চণ্ডীপাঠ হবে? এ কারণে কয়েক বছর অনুষ্ঠানটি ষষ্ঠীর ভোরে সম্প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু শেষে বাণীকুমারের সিদ্ধান্ত মেনেই মহালয়ার ভোরেই প্রচারিত হয়ে আসছে ‘মহিষাসুরমর্দিনী।

একই রকম জেদি মনোভাব দেখিয়েছিলেন পঞ্চাশের দশকেও। যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন বোম্বাই, রিহার্সাল করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। বাণীকুমার বেঁকে বসলেন, সুতো ছেঁড়া যাবে না। হোক তারকা, তবু বাদ হেমন্ত। দুর্ভাগ্য শচীন গুপ্তের, সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও গাওয়া হল না হেমন্তের ‘জাগো দুর্গা’। বর পেলেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, আর সেই থেকেই অমর হয়ে রইলেন দ্বিজেন।

কে এই বাণীকুমার?

বাণীকুমারের আসল নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। জন্ম ১৯০৭-এর ২৩ নভেম্বর। পিতা সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত ও ইতিহাসবিদ বিধুভূষণ ভট্টাচার্য ও মা অপর্ণা ভট্টাচার্য। তাঁদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। আদি নিবাস ছিল হুগলির আঁটপুর। জ্যেষ্ঠ পুত্র বৈদ্যনাথের জন্ম হয় হাওড়ার কানপুর গ্রামের মাতুলালয়ে। বৈদ্যনাথ হাওড়া জেলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ওই স্কুলের শিক্ষক-কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের উৎসাহে কাব্যরচনায় মন দেন বৈদ্যনাথ। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পিতা, পিতামহ, সকলেরই সংস্কৃতে ব্যুৎপত্তি ছিল এবং সম্ভবত সেই কারণেই বৈদ্যনাথও সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করে ‘কাব্যসরস্বতী’ উপাধি পান। এটা পরে তাঁর কর্মজীবনে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছিল। সংস্কৃত পঠন উপলক্ষ্যেই বৈদ্যনাথ বাগবাজারে পণ্ডিত অশোকনাথ শাস্ত্রীর সংস্পর্শে আসেন। ইচ্ছে থাকলেও সংসারের চাপে পড়াশোনা আর বেশি দূর এগোয়নি। টাঁকশালে চাকরি নিলেন বৈদ্যনাথ। গৌরী ভাট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

সৃষ্টিশীল মন নিয়ে টাঁকশালের কলম পেশায় তাঁর মন ছিল না। সময় ১৯২৭। ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে স্থাপিত হয় কলকাতা বেতারকেন্দ্র। সেই সময় একটি বেতারনাটকের জন্য কলকাতা বেতারকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ হল বৈদ্যনাথের। ১৯২৮-এ একুশের যুবক টাঁকশালের চাকরি ছেড়ে যোগ দিলেন রেডিওতে। সরকারি চাকরি ছেড়ে যে অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়িয়েছিলেন ওই যুবক, তাঁকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই সময় বেতারকেন্দ্রের ভারতীয় অনুষ্ঠান বিভাগের অধিকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদারের আগ্রহে ওখানে যোগ দিয়েছিলেন রাইচাঁদ বড়াল, পঙ্কজকুমার মল্লিক, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র প্রমুখ শিল্পী। রাইটার স্টাফ আর্টিস্ট হয়ে কাজে যোগ দেন বৈদ্যনাথ – নাম নেন ‘বাণীকুমার’।

সাধারণ মানুষের কাছে যে ভাবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত পঙ্কজকুমার মল্লিক ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, সেই তুলনায় একটু হয়তো আড়ালেই থেকে গিয়েছেন বাণীকুমার। অথচ মূল অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও রচনা বাণীকুমারেরই। অনুষ্ঠানটি সফল ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বাণীকুমারের সঙ্গে পঙ্কজকুমার ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণের নাম অবশ্যই স্মরণীয়। বাণীকুমার, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ও পঙ্কজকুমার মল্লিক ছিলেন একই বৃন্তের তিনটি কুসুম।

বাণীকুমার।

বাণীকুমার নিজের লেখাতেই জানিয়েছেন, “এ কথা বলা বাহুল্য যে আমাদের কয়জনের আন্তরিক সাধন দ্বারা এই মহিমাময় চণ্ডী-গাথা সকল শ্রেণীর জনবর্গের প্রার্থনীয় হয়েছে।… ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ কলিকাতা বেতারের তথা বাংলার একটা কীর্তি স্থাপন করেছে।”

‘মহিষাসুরমর্দিনী’

পণ্ডিত অশোকনাথ শাস্ত্রীর ঠাকুরঘরে বসে লেখা শুরু করেন বাণীকুমার৷ কিছুটা লেখেন, আর পড়ে শোনান বন্ধু অশোকনাথকে৷ অশোকনাথ শোনেন, আলোচনা করেন, তথ্য সহায়তায় এগিয়ে আসেন। বাণীকুমার লিখে চলেন৷ আর লিখেই বসে যান আর এক অক্লান্ত পথিকের সঙ্গে৷ রাজার রোয়াব যাঁর সঙ্গীতে, তিনি পঙ্কজকুমার মল্লিক৷ অহরহ বৈঠক৷ আর ঘরময় সুরের পরশ৷ এক লাইন এক লাইন করে কোরাস নির্মাণ, পর্দার আড়ালে হাজার রাগ৷ পিলু, খম্বাজ, আহির ভৈরব, মালকোষ…পঙ্কজকুমার তখন সে আবহে এমনই আশক্ত, যে রাতের রাগ মালকোষকে ব্যবহার করলেন ভোরের সে মুহূর্তে৷ কর্নাটকী শৈলীর রাগ অনায়াসেই মিশ খেল অন্য ঘরানায়৷ আর বাণীকুমার, বন্ধু পঙ্কজের কাছে নতুন আত্মজকে সমর্পণ করে আবার ঢুকে গেলেন ঘোর-মধ্যে৷ যে ঘোরে প্রতিনিয়ত ডুব দিয়ে বাণীকুমার তুলে আনছেন মুক্তো-হিরে-চুনি-পান্না। ভোর চারটেয় তরঙ্গে ভাসা শুরু ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র৷ আরম্ভে তিন বার শঙ্খধ্বনি, আর তার পরই বীরেন ভদ্রের অমর হয়ে যাওয়া স্বর৷

বাণীকুমার এই শঙ্খ বাড়ি থেকে বেতারকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন। মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে ফুঁ দিতেন৷ শুরুর নির্দেশ৷ পরে গৌর গোস্বামী বাঁশি দিয়ে বা কখনও শৈলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ক্ল্যারিওনেটে তুলে দিতেন এই সুর। তখন তো লাইভ ব্রডকাস্টের যুগ৷ দীর্ঘ বিশ-বাইশ দিনের অবিরাম মহড়া চলত পঙ্কজ মল্লিকের নেতৃত্বে। সকলের উপস্থিতি চাই। এক দিকে সারেঙ্গি ধরতেন মুন্সি, চেলোয় ওঁরই ভাই আলি, হার্মোনিয়ামে খুশি মহম্মদ, বেহালায় তারকনাথ দে, ম্যান্ডোলিনে সুরেন পাল, গিটারে সুজিত নাথ, এসরাজে দক্ষিণামোহন ঠাকুর, পিয়ানোয় রাইচাঁদ বড়াল, নক্ষত্রের সমাহার৷ আর এ সবের অন্য পিঠে গায়কদের নিয়ে একা বাণীকুমার। প্রত্যেকের সংস্কৃত উচ্চারণ ঠিক চলছে কিনা। এমনকি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রেরও৷ তিনি শুরুর দিকে সংস্কৃত বেশ কিছু কথা অনেকটা বাংলার মতো উচ্চারণ করে বলতেন, যা অধ্যাবসায়ের জোরে শেষে এমন বসল ওঁর গলায়, যে একটা ভিন্ন ধারাই তৈরি হয়ে গেল। বাণীকুমারের কথা ছিল, আগে মানে বুঝতে হবে প্রতিটি শব্দের, সে তুমি কোরাসই গাও না কেন, উপলব্ধি করতে হবে ভাব, তার পর মিলবে ছাড়। সোজা পঙ্কজবাবুর সান্নিধ্যে এক বিস্তর মহাযজ্ঞ।

এ বারেও বোধনের আগে আর এক বোধনের কথা ছড়িয়ে পড়ছে আশ্বিনের শারদ হাওয়ায়। কচুরি জিলিপির দোকানে অর্ডার চলে গিয়েছে পঙ্কজকুমারের। এরই মধ্যে বেতারকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে পড়েছেন বাণীকুমার গঙ্গার দিকে যাবেন বলে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

জানেন কি মহালয়ার দিন কেন তর্পণ করা হয়?

দুর্গা পার্বণ

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

Published

on

বকশিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গাপুজোয় নানা রীতি, নানা আচার পালন করা হয় বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে। কোথাও দেবীর ভোগে অন্ন থাকে, আবার কোথাও দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। মৃন্ময়ী মূর্তির ক্ষেত্রেও বিশেষত্ব দেখা যায়। যেমন, কোথাও তিনি ব্যাঘ্রবাহিনী আবার কোথাও তিনি সিংহবাহিনী।

বঙ্গের পুজোয় কুলাচারের নিয়ম প্রতিটি বাড়িতেই বহু বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে এবং এটাই বঙ্গের সংস্কৃতি যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অগণিত ভক্ত। তেমনই পশ্চিম বর্ধমানের বকশিবাড়িতে দেবীর পদতলে বিরাজ করেন সিংহের পরিবর্তে বাঘরাজ। এই বাড়ির পুজো প্রায় ২৬২ বছরের পুরোনো।

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশি বংশের আদিপুরুষ কিশোরীমোহন দাস ছিলেন বৈষ্ণবভক্ত। বর্ধমানের মহারাজাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নানা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন কিশোরীবাবু। তাঁর সেই ক্ষমতা দেখে তাঁর সাধ্যমতো উপকার করার প্রতিশ্রুতিও দেন বর্ধমানের মহারাজা। এর পর কিশোরীমোহন দাস সস্ত্রীক বৃন্দাবনে যান এবং সেখানেই তাঁর স্ত্রী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পুত্রের নাম রাখা হয় গোবর্ধন। এই গোবর্ধন দাস ছিলেন বীর যোদ্ধা এবং প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। বর্ধমানের মহারাজা তাঁর অসীম ক্ষমতা দেখে তাঁকে প্রধান সেনাপতির পদে নিযুক্ত করেন এবং তাঁকে বকশি উপাধি প্রদান করেন। গোবর্ধন দাসের সূত্রেই সূচনা হল বকশি বংশের।

১৭৫৭ সালের পরবর্তী সময়ে দেশীর রাজাদের সঙ্গে ইংরেজদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সময় গোবর্ধন বকশি ছিলেন বর্ধমান মহারাজার প্রধান সেনাপতি। যুদ্ধ চলাকালীন গোবর্ধনবাবু একদিন মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। মা তাঁর মূর্তিপূজা শুরু করতে বলেন। মা বলেন, তাঁর মূর্তিপূজা করলে তিনি তাঁকে এবং তাঁর বংশকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। মা স্বপ্নাদেশেই জানিয়ে দেন, তাঁর যে মৃন্ময়ীরূপের পুজো হবে, সেই রূপ তিনি দাঁইহাটের এক শিল্পীকে স্বপ্নাদেশে বর্ণনা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিজয়নগরের গাছতলায় তাঁর যে শিলামূর্তি রয়েছে, তা এনে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করারও আদেশ দেন মা।   

মায়ের মুখ।

এর পর দেবীর আদেশানুসারে গোবর্ধন বকশি শিলামূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দাঁইহাটের শিল্পীর সাহায্যে মূর্তি তৈরি করে শুরু করেন বংশের দুর্গাপুজো, যা আজও বংশপরম্পরায় চলে আসছে।

এই বাড়ির পুজো শুরু হয় রথের দিন মায়ের কাঠামোয় মাটি দিয়ে। এই বাড়ির মূর্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল দেবীর ডান পাশে থাকেন শ্রীলক্ষ্মী ও কার্তিক এবং বাঁ পাশে থাকেন দেবী সরস্বতী ও গণেশ। দেবীর দুর্গার আটটি হাত ছোটো, কাঁধে বসানো এবং বাকি দুটি হাত স্বাভাবিক। ছোটো আটটি হাতের অস্ত্র মাটির এবং ত্রিশূলটি রুপোর তৈরি। এই বকশিবাড়িতে মায়ের বাহন হলেন বাঘ।

বকশি পরিবার বৈষ্ণব হলেও দেবীর আদেশে বলিদান প্রথা পালন করা হয় বলে জানালেন পরিবারের সদস্য শুভদীপ বকশি। দুর্গাপুজোর সপ্তমী ও মহাষ্টমীতে একটি করে ছাগ এবং মহানবমীতে তিনটি ছাগ, একটি মহিষ, চালকুমড়ো এবং আখ বলিদান হয়। এই বাড়ির দেবীকে কোনো শাড়ি পরানো হয় না। পুরো সাজটাই হয় রাজস্থানী ঘাঘরা দিয়ে। মায়ের মন্দিরের ভেতরে কোনো বেদি নেই। দেবীর আদেশে মন্দিরের ভেতরের মেঝেটি পুরোটাই মাটির।

বকশিবাড়ির পুজোয় ১২০ জনেরও বেশি ঢাকি আসেন। ঢাকের লড়াই চলে গ্রামের সরকারবাড়ির সঙ্গে বকশিবাড়ির। এ এক চিরন্তন প্রথা। বকশিবাড়িতে পুজোর সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় – নাচ, নাটক, গান ইত্যাদি। বকশিবাড়ির খ্যাপা মাকে দর্শন করতে মানুষ ছুটে আসেন দূরদূরান্ত থেকে, জড়ো হন এ বাড়ির ঠাকুরদালানে। পুজোর চার দিন ঠাকুরদালানে ভক্তদের ভিড় দেখার মতন।

বকশিবাড়ির কুলদেবতা হলেন গোপাল। পুজোর সময় মায়ের সামনে গোপালকে রেখে তাঁর পুজো করা হয়। এই ভাবে পুজোর নানা প্রথা আঁকড়ে রেখে এবং সাবেক ঐতিহ্য মেনে আজও পুজো হয় বকশিবাড়ির খ্যাপা মায়ের।

খবর অনলাইনে আরও পড়তে পারেন

উধাও হয়ে যাওয়া শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ ফিরে পেতেই শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

করোনা আবহে কী ভাবে দুর্গাপুজো? উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মণ্ডপ, অঞ্জলি থেকে সিঁদুর খেলা- মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ পরামর্শ।

Published

on

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

কলকাতা: করোনা আতঙ্ক এড়িয়ে কী ভাবে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা যাবে, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই জানিয়ে দিলেন করোনা আবহে কী ভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে দুর্গাপুজো করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ক্লাব ও পুজো কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সুরক্ষাবিধি মেনে কী ভাবে দুর্গাপুজোর ব্যবস্থা করা যাবে, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশদ আলোচনা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুজো হবেই। সমস্ত নিয়ম মেনেই হবে। শুধু করোনার জন্যে কিছু নিয়মকানুন আমাদের মেনে চলতে হবে। খোলামেলা মণ্ডপ তৈরির পরামর্শ দিয়েছে আমাদের গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কমিটি”।

মুখ্যমন্ত্রী যা বললেন

চারপাশটা খোলা রেখে মণ্ডপ তৈরি করতে হবে।

যারা চারপাশ খোলা রাখতে পারবে না, তারা মাথার উপরের দিকটা খোলা রাখবে।

মণ্ডপে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

সে ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দিতে হবে।

মণ্ডপের এক অথবা আধ কিমির মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। প্রত্যেক দর্শনার্থীর মুখে মাস্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তাদেরও মাস্ক রাখতে হবে।

মণ্ডপে আসা দর্শনার্থীদের সচেতন করতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ঘোষণা করতে হবে।

২ অক্টোবর থেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য পুজো কমিটিগুলিকে আবেদন জানাতে হবে।

সকলে এক সঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া এবং সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে পারবেন না। একটা দলের হয়ে গেলে আর একটা দল আসবে।

দর্শনার্থী পারলে নিজেরাই অঞ্জলির জন্য ফুল-বেলপাতা নিয়ে যাবেন।

এ বারে পারলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে, ইত্যাদি।

কত পুজো হচ্ছে রাজ্যে?

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, রাজ্য পুলিশের আওতায় ৩৪ হাজার ৮৩৭টি পুজো রয়েছে। অন্য দিকে কলকাতা পুলিশের অধীনে রয়েছে ২ হাজার ৫০৯টি দুর্গাপুজো। ১ হাজার ৭০৬টি পুজো হচ্ছে মহিলাদের উদ্যোগে।

বিশেষ ছাড়!

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতিটি পুজো কমিটি ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে। সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা- উভয়ই এই ছাড় দেবে। পাশাপাশি দমকম এবং পুরসভাগুলি পুজো কমিটিগুলির থেকে কোনো ফি নেবে না।

অন্য দিকে রাজ্য সরকারের তরফে পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: ‘দুর্গাপুজোর আনন্দ কোনো ভাবেই মাটি হবে না’, আশ্বস্ত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

উধাও হয়ে যাওয়া শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ ফিরে পেতেই শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা

দেবীর বাহন সিংহ ঘোটকাকৃতি। প্রতিমার দশটি হাতের মধ্যে দুটি হাত বড়, আটটি হাত ছোটো।

Published

on

বড়ো গোস্বামী বাড়ির দুর্গাপূজা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

শান্তিপুরের প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম এই অঞ্চলের দুর্গাপুজো, যা বহু বছর ধরে হয়ে আসছে বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে। বৈষ্ণব এবং শৈব ধারার পাশাপাশি এখানে শাক্তমতের আড়ম্বরও লক্ষ করা যায়, ধুমধাম করে পালিত হয় দুর্গাপুজো, কালীপুজো।

এই অঞ্চলের একটি প্রাচীন পরিবারে রাস উৎসবের পাশাপাশি সাড়ম্বর পালিত হয় দুর্গাপুজো। শান্তিপুরনাথ অদ্বৈতাচার্যের পুত্র বলরাম মিশ্রের পুত্র মথুরেশ গোস্বামীর প্রথম পুত্র রাঘবেন্দ্র গোস্বামী থেকেই বড়ো গোস্বামী বাড়ির সৃষ্টি। এই বাড়িতে আজও নিত্য পূজিত হন অদ্বৈতাচার্যের সেবিত শালগ্রামশিলা এবং আরও অনেক দেবদেবী।

বড়ো গোস্বামী বাড়ির পূর্বপুরুষ মথুরেশ গোস্বামী তাঁর পিতার কাছ থেকে শ্রীশ্রীরাধামদনমোহন, প্রভু সীতানাথ, সীতামাতা ও অচ্যুতানন্দের সেবাভার পেয়েছিলেন। মথুরেশ গোস্বামী বাংলাদেশের যশোহর থেকে এনেছিলেন শ্রীরাধারমণকে  এবং সেই বিগ্রহ সেবা পান শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে।

এই রাধারমণ একবার বাড়ির মন্দির থেকে রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যান। সেই বিগ্রহ ফিরে পেতেই বাড়ির মহিলারা ব্রত রাখলেন দেবী কাত্যায়নীর। কারণ বৃন্দাবনে গোপীরা যেমন কাত্যায়নীব্রত করে লীলাপুরুষোত্তমকে পেয়েছিলেন ঠিক তাঁদেরও তেমন বিশ্বাস ছিল যে তাঁরাও তাঁদের রাধারমণকে ফিরে পাবেন দেবীর ব্রতপূজা করলে। এবং পুজোর সময় স্বপ্নাদেশে জানতে পারা গেল, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছেন রাধারমণ। তখন বড়ো গোস্বামী বাড়ির সদস্যরা তাঁকে নিয়ে আসেন। এ ভাবেই প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নী তথা মা দুর্গার আরাধনা, যা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

বড়ো গোস্বামী বাড়িতে মা দুর্গার আরাধনা।

প্রত্যেক বনেদিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমায় যেমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, বড়ো গোস্বামী বাড়িও তার ব্যতিক্রম নয়। এই বাড়িতে দেবীর বাহন সিংহ ঘোটকাকৃতি। প্রতিমার দশটি হাতের মধ্যে দুটি হাত বড়, আটটি হাত ছোটো। কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী এবং সরস্বতী থাকে বিপরীত দিকে। দেবীর ডান দিকে থাকে কার্তিক ও লক্ষ্মী এবং বাঁ দিকে গণেশ ও সরস্বতী। এই পরিবারের পুজো হয় পূর্বপুরুষদের তৈরি করা বিশেষ পুথি দেখে এবং মহানবমীতে হয় বিশেষ প্রার্থনা।

এই বাড়িতে ভোগরান্না করেন বাড়ির দীক্ষিত মহিলারা। ভোগরান্নায় অন্য কারও অধিকার নেই। এই বাড়ির পুজোয় ৩৬ রকমের পদ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। ভোগে থাকে সাদা ভাত, খিচুড়ি, নানা রকমের ভাজা, শুক্তানি, তরকারি, পোলাও, ধোঁকার তরকারি, ছানার ডালনা ইত্যাদি।

দশমীর দিন শান্তির জল দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন এলাকার মানুষেরাও। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এখানে মায়ের সকালবেলায় বিসর্জন হয়ে যায়। কারণ মা যতক্ষণ না বিসর্জিত হন ততক্ষণ বড়ো গোস্বামী বাড়ির ইষ্টদেবতা শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউয়ের ভোগ রান্নার কাজ শুরু হয় না। মা চলে যাওয়ার পরেই তা শুরু হয়।

দশমীর দিন মায়ের বিসর্জনের আগেই রাসের খুঁটি পুঁতে রাস উৎসবের শুভ সূচনা হয়। এ ছাড়াও শ্রীশ্রীআগমেশ্বরী মায়ের পাটপুজো দেখে তার পর মা বিসর্জনে যান। বিসর্জনের পরে ঘাটে উপস্থিত প্রায় ৩০০-৪০০ জনকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

বড়িশার আটচালায় কলকাতার প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করলেন লক্ষ্মীকান্ত

Continue Reading
Advertisement
Coronavirus
দেশ6 mins ago

দুবাই, ব্রিটেন থেকে ভারতে আসা ব্যক্তিদের ফলেই এ দেশে বেড়েছে করোনার প্রকোপ, আইআইটির গবেষণায় দাবি

আইপিএল9 hours ago

আইপিএল-এর ইতিহাসে রান তাড়া করার রেকর্ড, পাঞ্জাবকে হারিয়ে জিতল রাজস্থান রয়্যালস

Balasaheb Thorat
দেশ12 hours ago

রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেও নয়া তিন কৃষি আইন কার্যকর করবে না মহারাষ্ট্র, হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

রাজ্য13 hours ago

রাজ্যে দৈনিক আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যায় সামান্য বৃদ্ধি, ঊর্ধ্বমুখী সুস্থতা

farm bills protest
দেশ13 hours ago

নাটকীয় ভাবে সংসদে পাশ হওয়া কৃষি বিলে স্বাক্ষর রাষ্ট্রপতির

দেশ14 hours ago

সেরো সার্ভের রিপোর্ট তুলে ধরে কোভিড নিয়ে সতর্ক করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশ15 hours ago

জল্পনার অবসান! নীতীশ কুমারের দলে যোগ দিলেন বিহারের প্রাক্তন ডিজি

রাজ্য17 hours ago

২ নভেম্বর থেকে কলেজের ক্লাস অনলাইনে, সাফ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 days ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা3 days ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা6 days ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা1 week ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা2 weeks ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা3 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা3 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

কেনাকাটা1 month ago

ঘর সাজানোর ও ব্যবহারের জন্য সেরামিকের ১৯টি দারুণ আইটেম, দাম সাধ্যের মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এ দোকান সে দোকান ঘুরে উপযুক্ত...

কেনাকাটা1 month ago

শোওয়ার ঘরকে আরও আরামদায়ক করবে এই ৮টি সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : সারা দিনের কাজের পরে ঘুমের জায়গাটা পরিপাটি হলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সুন্দর মনোরম পরিবেশে...

নজরে