smita das
স্মিতা দাস

নেতাজির স্মৃতি বুকে নিয়ে ৯৯ বছরে পড়ল ‘টালা বারোয়ারি’। এ বারে তাদের নিবেদন ‘সোনায় মোড়া ৯৯’।

আয়োজক এবং থিম মেকারের কথায়, “কিন্তু কী এই সোনায় মোড়া ৯৯? এই প্রশ্ন নাকি এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শহরের অলিতে গলিতে।” অনেকেই অনেক রকম ভাবছেন টালা বারোয়ারির এই ট্যাগ লাইন থেকে। ভাবছেন তা হলে কি এ বার সোনার প্রতিমা? নাকি সোনার গয়নায় সাজবে প্রতিমা?  নাকি মণ্ডপ সাজছে সোনার পাতে?

এর উত্তর যদিও পুজোর সময় মণ্ডপে গেলেই সবাই চাক্ষুষ পেয়ে যাবেন।

তবুও আয়োজকরা বলেছেন, এর কোনোটাই নয়।

প্রশ্ন করা হয়েছিল, তা হলে কী?

উত্তরে তাঁরা যা জানিয়েছেন তা খানিকটা এই রকম, ৯৯তম বর্ষে টালা বারোয়ারি উপস্থাপন করবে একটি হারাতে বসা শিল্পকে। দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করাবে সেই শিল্পের ভিতরে লুকিয়ে থাকা এক যাপনচিত্রের।

এই বছরের মণ্ডপ সজ্জার কাজ চলছে

কমিটির অন্যতম সদস্য শুভ্রজিৎ পাল আমাদের বলেন, মণ্ডপে এ বারে থিম বলে কিছু নেই। তাই বলা হচ্ছে, ‘দ্য থিমলেস পূজা’। পুরোটাই হাতের কাজ, হস্তশিল্প। সেজে  উঠবে ঘাসে। এই ঘাসকে বলা হয় গোল্ডেন গ্রাস অর্থাৎ স্বর্ণালী ঘাস। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাওয়া যায় এই ঘাস। ভারতের মধ্যে ওড়িশা এবং বিহারে ও দেশের বাইরে কেবল আফ্রিকার আমাজনের জঙ্গলে এই ঘাস জন্মায়। যা ঘিরে স্বপ্ন দেখে হাজার হাজার পরিবার। তাঁদের বেঁচে থাকার রসদ এই ঘাসের তৈরি বিভিন্ন হস্তকলা। যা এখন প্লাস্টিকের চাপে আক্রান্ত – মৃতপ্রায়। সেই ধুঁকতে থাকা শিল্পের স্বর্ণালী আভাতেই সেজে উঠবে গোটা মণ্ডপ। তাই স্বর্ণালী ঘাসের শিল্পী এবং শিল্পকলাকে কুর্নিশ জানিয়ে এ বছরের নিবেদন – ‘সোনায় মোড়া ৯৯’।

এই ঘাস দিয়ে ওড়িশায় গয়না তৈরি করা হয়, বিহারে তৈরি হয় আসবাব। সেই ঘাসের নানান রকমের কাজ করার বরাত দেওয়া হয়েছে এই দুই রাজ্যের শিল্পীদের। সেখান থেকেই বানিয়ে আসছে এই সমস্ত সামগ্রী।

দিনে রাতে দুই রকমের রূপ ফুটে উঠবে মণ্ডপের। প্রতিমার রূপ প্রতি বারের মতো সাবেক ধরনের হবে। তবে প্রতিমার সাজগোজে থাকবে এই ঘাস। এই প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন সৌমেন পাল। আলোর দায়িত্বে থাকছেন দেবব্রত মাইতি।

গত বারের থিম ছিল, ‘মা’।

মণ্ডপ সজ্জার কাজ শেষ হয়ে গেলেই দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মণ্ডপ।

ডানলপের দিকে যেতে টালা পোস্ট অফিস বাসস্টপে নেমে ডান দিকে এই পুজো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here