‘মহালয়া’ আসা মানেই পুজো শুরু হয়ে যাওয়া। কিন্তু এর সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপুজোর কি সত্যিই কোনো সম্পর্ক আছে? আসলে পিতৃপক্ষের শেষ দিনে আসে ‘মহালয়া’। আর পরের দিনই শুরু হয়ে যায় দেবীপক্ষ – মা দুর্গার বাপের বাড়ি আসার সময়কাল। তাই ‘মহালয়া’ যেন মা দুর্গারই আগমনের সূচনা করে।

‘মহালয়া’র বেশ কিছু মাহাত্ম্যও আছে। যেগুলি অনেকেই হয়তো জানেন না।

‘মহালয়া’ শব্দটি এল কী ভাবে    

‘মহালয়া’ শব্দটি কী ভাবে এল তা নিয়ে নানা মত। কেউ কেউ বলেন ‘মহালয়া’ শব্দটি এসেছে ‘মহান লয়’ এই শব্দগুচ্ছ থেকে। আবার অনেকে বলেন, ‘মহালয়া’ শব্দটি এসেছে ‘মহান আলয়’ শব্দগুচ্ছ থেকে।

সনাতন ধর্ম মতে এই সময়ে অর্থাৎ এই কৃষ্ণপক্ষকালে যমলোক বা পিতৃলোক থেকে এসে পূর্বপুরুষদের প্রেত মর্ত্যলোকে বসবাস করে নিজের পরিজনদের সঙ্গে। এর পর তাঁরা আবার পিতৃলোকে ফিরে যান। এই সময়ে প্রয়াত পরিজনদের আত্মার যে সমাবেশ ঘটে তাকে বলা হয় মহান লয়। সেই শব্দ থেকেই এসেছে ‘মহালয়’ শব্দটি।

আরেকটি ব্যাখ্যা দেখে নেওয়া যাক। দেবীশক্তি আদিশক্তি। তিনি মঙ্গলদায়িনী করুণাময়ী। সাধক সাধনা করে সেই দেবীর বর লাভের জন্য। তিনি দেবীর মহান আলয়ে প্রবেশ করার সুযোগ করে নেন। তাই এই কারণেও দিনটিকে বলা হয় ‘মহালয়া’।

পিতৃপক্ষের শেষ দিন ‘মহালয়া’। তার পর প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় দেবীপক্ষ – দেবীবন্দনার সময়কাল। কোনো কোনো বনেদি বাড়িতে দেবীর আরাধনা প্রতিপদ থেকেই শুরু হয়। আবার কোথাও কোথাও শুরু হয় ষষ্ঠী থেকে।

এ ছাড়াও হিন্দুধর্ম মতে, ‘মহালয়া’র পক্ষটি পিত্রুপক্ষ, ষোলা শ্রাদ্ধ, কানাগাত, জিতিয়া, মহালয়াপক্ষ ও অপরপক্ষ নামেও পরিচিত।

মহালয়ায় পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ শুরু হল কী ভাবে

রামায়ণ অনুসারে ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্র লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধার করার জন্য অসময়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। শাস্ত্রমতে দুর্গাপুজো বসন্তকালে হওয়াই নিয়ম। শ্রীরামচন্দ্র অকালে দুর্গাপুজো করেছিলেন বলে একে অকালবোধন বলা হয়। সনাতন ধর্মে কোনো শুভ কাজের আগে প্রয়াত পূর্বপুরুষের উদ্দেশে অঞ্জলি প্রদান করতে হয়। শ্রীরামচন্দ্র দুর্গার আরাধনা করার আগে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করেন। সেই থেকে মহালয়ায় তর্পণ অনুষ্ঠানের প্রথা প্রচলিত।

মহাভারত অনুসারে, কর্ণ ওই দিন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জলঅন্ন দান করেছিলেন। এবং সেই কাজ করার জন্য তিনি মৃত্যুর পর স্বর্গ থেকে মর্ত্যে ফিরে আসেন।

তর্পণ কী

‘তর্পণ’ শব্দটি ‘তৃপ’ থেকে। এর অর্থ তৃপ্তিসাধন। ভগবান, ঋষি ও পূর্বপুরুষের উদ্দেশে জল নিবেদন করে তাঁদের সন্তুষ্ট করাকে বলা হয় তর্পণ। ভগবান ও পূর্বপুরুষদের নাম উচ্চারণ করে তাঁদের কাছে সুখ-শান্তি প্রার্থনা করা হয়। পিতৃ ও মাতৃতর্পণের সময় জল, তিল, চন্দন, তুলসীপাতা ও ত্রিপত্রী আর অন্যান্য তর্পণের সময় তিলের পরিবর্তে ধান বা যব ব্যবহার করা হয়।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন