আরও এগিয়ে এল পুজো। কলকাতার রাস্তায় এর মধ্যেই নেমেছে ঢল। প্রথম দুটো পরিক্রমায় খবর অনলাইন উত্তর কলকাতায় ছিল। এবার আরও উত্তরে সরে গিয়ে চলে গিয়েছে শহরতলিতে, দক্ষিণেশ্বরের প্রান্তে। শুরু করা যাক আড়িয়াদহ থেকে। 

আড়িয়াদহ প্রগতি সংঘ

৭৭ বছরে এদের থিম ‘অতীতের ক্যানভাস’। ক্যানভাসে একটি প্রাচীন রাজবাড়ি ভেঙে পড়তে দেখা যাচ্ছে। দেওয়াল বেয়ে সবুজ বট। সেখানেই দেবীকে দেখা যাচ্ছে। সাবেক রাজবাড়ির প্রতিমার আদলে মূর্তি গড়েছেন শৈলেনচন্দ্র পাল।

দক্ষিণেশ্বরের মোড় থেকে ডান দিকে।

লেক ভিউ পার্ক সর্বজনীন

লেক ভিউ পার্ক সর্বজনীনের মণ্ডপ তৈরি হয়েছে উত্তর নাগাল্যান্ডের পচুরি উপজাতিদের গ্রাম ‘তাংসা’র অনুকরণে। রয়েছে সবুজ পাহাড়, পচুরিদের ঘর, মন্দির, হস্তশিল্প আরও কত কী। সঙ্গে থাকছে উপজাতি নৃত্যও। নাগা উপজাতিদের সাজের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি হয়েছে প্রতিমা। ভাবনায় অলোকরঞ্জন বাউন্যা।

বি টি রোডে বনহুগলি বাসস্টপে নেমে আনন্দম সিনেমার দিকে হেঁটে বা রিকশায়।

বরানগর নেতাজি কলোনি লোল্যান্ড

পুরীর মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে ১৭০ ফুট লম্বা আর ১১২ ফুট উচ্চতার মণ্ডপ। সিংহদুয়ার দিয়ে ঢুকেই ওড়িশি নৃত্যরতা শিল্পীদের দেখা যাচ্ছে। রয়েছে আলোআঁধারিতে জগন্নাথদেবের স্তব পাঠের ধ্বনি। সাজানো হয়েছে ওড়িশির নানা শিল্পকলা দিয়ে। মণ্ডপসজ্জায় সৌরভ দত্ত।

বি টি রোডে টবিন রোড বা পালপাড়া বাসস্টপে নেমে হেঁটে বা রিকশায়।

ফরোয়ার্ড কলোনি সর্বজনীন

৫১ বছরে থিম ‘সবুজের মেলায়, কীটপতঙ্গের খেলায়’। সবুজ হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে নানা কীট-পতঙ্গও। থিমে রয়েছে তাদের কথা, তাদের মডেল। রয়েছে সবুজের মাঝে শুঁয়োপোকা, কাঁকড়াবিছের বেঁচে থাকার কথাও। প্রতিমার সজ্জাতেও রয়েছে ফুল পাতা।

বি টি রোডে সিঁথি মোড়ের কাছে।

সিঁথি ইউথ অ্যাথলেটিক ক্লাব

‘পুরাণ গাঁথায় তিলোত্তমা’। পুরোনো কলকাতায় পৌঁছে দিচ্ছে ৭০-এর সিঁথি ইউথ অ্যাথলেটিক ক্লাব। ত্রিফলা আলো, ইকোপার্ক, বিদ্যাসাগর সেতু থেকে নবান্ন ঘুরে মেট্রোগেট থেকে বেরিয়ে সোজা পড়বে পুরোনো কলকাতায়। সেখানে সাবেক প্রতিমার পাশে গঙ্গার ঘাট, ভিন্টেজ গাড়ি, ট্রাম, ঘোড়ার গাড়ি, দোতলা বাস মনে করিয়ে দেবে সাবেক কলকাতাকে। প্রবেশপথে থাকছে বর্তমান কলকাতার ছবি।

সিঁথি মোড় বাসস্টপে নেমে অল্প হেঁটে মণ্ডপ।

বন্ধুদল স্পোর্টিং ক্লাব, সিঁথি

মণ্ডপ বানানো হয়েছে মহীশূর প্রাসাদের আদলে। রয়েছে নানা রকম কারুকাজ। তাতে ব্যবহার করা হয়েছে ফাইবার, কাঠ, প্লাই, কাচ। ৫৫টি মডেলের ইনস্টলেশন রয়েছে ভেতরে। প্রাসাদে রাজা-রানিরা যেভাবে বসেন সেই কায়দায় বসে রয়েছে মডেল। সঙ্গে থাকছে দু’জন জীবন্ত মডেলও। প্রতিমা তৈরি করেছেন রাম পাল। ক্লাবের সম্পাদক বাসবচন্দ্র ঘোষের আশা শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের সব জায়গা থেকে মানুষ আসবেন এই প্রাসাদ ও প্রতিমা দেখতে। কারণ এ ধরনের দুর্গাপ্রতিমা ও মণ্ডপ সারা ভারতে কোথাও কখনো হয়নি।

sinthi-bandhuসিঁথি মোড়ের পর ঘোষপাড়া বাসস্টপে নেমে রাস্তার ওপর সুবিশাল মাঠেই মণ্ডপ।

বরানগর কর্মী সংঘ

থিম ‘বনেদিয়ানা’। বরানগর কর্মী সংঘের মণ্ডপ হয়েছে বজবজের বাওয়ালি রাজবাড়ির অনুকরণে। হিজলি রাজার সেনাপতি রাজারাম মণ্ডলের বাড়ির আদলে তৈরি হয়েছে সিঁড়ি, উঠোন, বারান্দা। প্রতিমা শিল্পী পঞ্চানন রুদ্র পাল। দেবী মূর্তিতেও রয়েছে সাবেকিয়ানা।

সিঁথি মোড় বাসস্টপে নেমে বরানগরের দিকে রাস্তায় ঢুকে একটু হেঁটেই গলির ভেতর মণ্ডপ।

বরানগর ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন

সাবেক পুজোর প্রতিমা। মণ্ডপসজ্জায় অজন্তা-ইলোরার গুহাচিত্র। রয়েছে প্লাস্টার অফ প্যারিসের মডেল।

সিঁথি মোড় বাসস্টপে নেমে বরানগরের দিকে রাস্তায় ঢুকে একটু হেঁটেই সামনে মণ্ডপ।

সুভাষনগর উত্তরপাড়া সর্বজনীন 

থিমে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সহজ পাঠ’। গ্রামের পুজো প্রাঙ্গণের ঢঙে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। ভেতরে রয়েছে সহজপাঠের নানা ছবি। ডাকের সাজে সজ্জিতা দেবী।

দমদম ক্যান্টনমেন্টে এই পুজো।

বাগুইআটি উদয়ন

ফলমূল, শস্য দিয়ে তৈরি প্রতিমার চালচিত্র তৈরি করেছে বাগুইআটি উদয়ন।  প্রাক সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে এদের থিম ‘সৃষ্টির উর্বরা শক্তি’। শিল্পী শুভম দাস।

ভিআইপি রোডে বাগুইহাটি বাসস্টপে নামতে হবে।

কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন (পশ্চিম) আধিবাসীবৃন্দ

অল্প হলেও রাজস্থানের স্বাদ পেতে হলে যেতে হবে কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন (পশ্চিম) আধিবাসীবৃন্দের পুজোয়। থিমের নাম ‘ভাওয়াইয়ের দেশে, রঙের পরশে’। রয়েছে ভাওইয়া নাচের উপকরণ, রঙিন হাঁড়ি, রাজস্থানের লোকশিল্প। থিম-ভাবনায় শিল্পী অনিমেষ দাস। রাজস্থানের ছোঁয়া রয়েছে প্রতিমাতেও। শিল্পী নবকুমার পাল।

ভিআইপি রোডে কেষ্টপুর বাসস্টপে নামতে হবে।

দমদম পার্ক তরুণ দল

এই পুজো এবারে পদার্পণ করল ৩৯ বছরে। থিম পূজোর রেষারেষিতে দমদম পার্কের তরুণ দলের থিম ‘মা’। মণ্ডপের ভেতরে ঢুকতেই দু’দিকে চোখে পড়বে পাটকাঠি দিয়ে তৈরি নকশিকাঁথার কাজ। এরপর আস্ত একটি আঁশবটির ওপর দিয়ে আরেকটু ভেতরে ঢুকতে আপনাকে। না সেখানেও এত সহজে মা ধরা দেবেন না আপনার চোখে। দেখতে পাবেন প্রায় গগনচুম্বী একটি মাটির উনুন। ঘুঁটে ভরা উনুন পার করলেই চার ছেলে মেয়েকে নিয়ে উমাকে দেখা যাবে অসুর বধ করতে। লাল টিপ পরা যে হাসি মুখখানি দেখলে সব দু:খ ভুলে যাই সেই তো আমার আমার মা। বিশ্বজননী মহামায়ার মধ্যেও সেই একই মায়ের ছায়া। তরুণ দলের থিম সং-এর সুরকার জয় সরকার।

dumdum-park-tarunযশোর রোড শ্যামনগর বাসস্টপে নেমে অটো বা ভিআইপি রোডে কেষ্টপুরে নেমে অটো অথবা হেঁটে দমদম পার্ক তরুণ দল।

দমদম পার্ক সর্বজনীন

এই পুজো এ বছর ৬৫তম বর্ষে পড়ল। এদের থিম ‘দর্শন’। তাতে চোখ আর মনের দৃষ্টির দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হচ্ছে। চোখে আমরা যা দেখি, তাতে ভর করে মনে মনে আমরা কল্পনার ভিন্ন জগৎ-এ পৌঁছে যাই। এটাই গোটা মণ্ডপ জুড়ে দেখানো হয়েছে। থিম ভাবনায় সৌরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। মণ্ডপসজ্জায় তুবড়ির খোল, রঙতুলির টান, রকমারি আলোর খেলা ব্যবহার করা হয়েছে। আলোকসজ্জায় সুমন মাইতি। প্রতিমা করেছেন অরুণ পাল।

ভিআইপি রোড বা যশোর রোডে দমদম পার্কে নামতে হবে। সেখান থেকে ৫ মিনিটের হাঁটা পথ।

বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ প্রতিরোধবাহিনী

এদের থিম ‘১৬ আনা বাঙালিয়ানা’। গোলাকার কাল্পনিক নাটমন্দিরের আদলে পুজোমণ্ডপ বানানো হয়েছে। তার ওপরের দিকে গোলাপের পাপড়ির আদল তৈরি করা হয়েছে। মাতৃপ্রতিমা শ্বেতপাথরের। সনাতনী দুর্গাপুজোর আঙ্গিকেই বাঙালিয়ানা থিমকে তুলে ধরা হয়েছে।

ভিআইপি রোড বা যশোর রোড যে কোনো দিক দিয়ে বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ মেন রোডে গিয়ে সেখান থেকে এ-ব্লক পার্কে পুজোমণ্ডপ।

বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব 

থিম বাছাই করা হয়েছে, ‘সবুজায়ন’। মোবাইল টাওয়ারের বাড়বাড়ন্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগাছালি, পাখি। তাই সবুজের সন্ধানে এই উদ্যোগ। ভাবনায় মানব বাগচী। উপকরণে রয়েছে কাপড়, থার্মোকল, খড় ইত্যাদি। প্রতিমাকে পরানো হয়েছে কাপড় আর গামছার অলঙ্কার।

ভিআইপি রোড বা যশোর রোডে লেকটাউন স্টপ থেকে চলুন পুজোমণ্ডপে।    

নতুন পল্লী প্রদীপ সঙ্ঘ

নতুন পল্লী প্রদীপ সঙ্ঘের এ বছরের থিম ‘বীজমাতা’। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষের মধ্যে কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন জায়গায় বহু সভ্যতা গড়ে উঠেছে। আবার অনুকূল পরিবেশের অভাবে কষ্টে সৃষ্ট ফসল যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনই হয়েছে মন্বন্তর। বাংলা তথা ভারতও এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। থিমে সেই অসহায়তার কথা মাথায় রেখে মায়ের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে ‘বীজ দাও, বর্ষণ দাও, কর্ষণ করি মাগো’। শিল্পী পার্থপ্রতিম রায়।

নতুন পল্লী প্রদীপ সঙ্ঘের মাঠে পৌঁছতে বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশন থেকে অটো করে তেঁতুলতলা যেতে হবে। সেখান থেকে ১০ মিনিটের হাঁটা পথ।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন