মুম্বই রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের দুর্গাপুজো: বিচিত্র উপলব্ধির দোরগড়ায়

0
Arunava-Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

১৯৫১ সাল, মা দুর্গা তাঁর আবির্ভাব ঘটালেন মুম্বইস্থিত খার-এর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে। বলা বাহুল্য, সেই বছরের চারাগাছ এখন মহীরুহ।

পুজোর প্রতিটি দিনই এখানে মানুষের ভিড় লক্ষণীয়। বিশেষ করে অষ্টমীতে কুমারীপুজোর দিন মানুষের উপস্থিতি হিসেব-নিকেশের বাইরে চলে যায়। ইঙ্গ-বঙ্গ সমাজের মানুষের মতামত আপাতত উহ্য থাক, বরং এক জন সাধারণ অটোচালকের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা যাক।

ওঁর নাম পবন, জানালেন, “জানেন সাব, এমন বড়িয়া পুজো আমি আর একটা দেখিনি। মায়ের প্রসাদ অমৃত, সকলকে নিয়ে আসি। কোথাও যাই না, শুধু এখানে আসবই।”

নির্ভেজাল শ্রদ্ধায় দুর্গার আরাধনা সব জায়গাতেই হয়, কিন্তু রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের একচালার মা দুর্গার প্রতিমা যেন মূর্তিময়ী ভরসা, আড়ম্বরবিহীন আটপৌরে ঘরোয়া পরিবেশে বড্ড আপনজন ভঙ্গিমায় খোসমেজাজে বিরাজিত।

বোম্বাই অধুনা মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের গভীর সম্পর্ক ছিল। কানহারি গুহার প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ লক্ষণীয় এবং স্বামীজি চেয়েছিলেন এখানে আধ্যাত্মিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে। শ্রীরামকৃষ্ণের প্রত্যক্ষ শিষ্য রামকৃষ্ণানন্দ ১৯০৫ সালে মুম্বই সফরে আসেন। তখন লোকমান্য তিলক ওঁকে মুম্বইয়ে রামকৃষ্ণ মিশনের শাখা খোলার আবেদন করেন। ১৯২০ সালে বিবেকানন্দ সোসাইটির পশ্চিম শাখা একই অনুরোধ জানায়।

অবশেষে ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ মঠ ও মিশন স্থাপিত হয় মুম্বইয়ে। স্বামী শিবানন্দ ২৬ জানুয়ারি, ১৯২৬-এ এর উদ্বোধন করেন। মঠ ও মিশনের আয়তন ছিল যথাক্রমে ১.৩৪ একর এবং ১.৬৯ একর। স্বামীজিদের ধারাবাহিক পদাপর্ণে মুম্বই বরাবর সমৃদ্ধ ছিল। এমনকি মঠ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকেই।

যেমন, স্বামী বিবেকানন্দ জুলাই, ১৮৯২, স্বামী ব্রহ্মানন্দ ১৮৯০, স্বামী সুবোধানন্দ ১৮৯০, স্বামী তুরীয়ানন্দ ১৮৯৩, স্বামী অভেদানন্দ ১৮৯৩, স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ ১৮৯৩, স্বামী নিরঞ্জনানন্দ ১৯০২, স্বামী সারদানন্দ ১৮৯২-৯৪ প্রমুখ।

ভাগ্য তুঙ্গে বলেই খানিকটা কাকতালীয় ভাবে মুম্বইয়ের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে মা দুর্গার আরাধনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ ঘটে গেল। সৌজন্যে, এ বারের পুজোয় দায়িত্বে থাকা পুরোহিতদের মধ্যে অন্যতম ‘উদ্বোধন’ পত্রিকার সম্পাদক শিবার্চনানন্দজি।

মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ সত্যসেবানন্দজির কাছ থেকে জানা গেল, অগণিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সুষ্ঠু ভাবে সামাল দেওয়ার জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা আসেন এবং সংখ্যায় শ’য়ের উপর তো হবেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here