ঋদি হক: ঢাকা

অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতি একই সূত্রে গাঁথা। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman)। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উন্নয়নের ফানুস উড়িয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Shiekh Hasina)। তাই বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয় সর্বজনীন উৎসব হিসেবে।

Loading videos...

গোটা দুনিয়া যখন কাঁপছে করোনা নামক মহামারিতে, তখন বাংলাদেশে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। কেমন সেই উৎসবের চিত্রটা?  এক কথায় বাংলাদেশে শারদোৎসব হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল মডেল।  সকল ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক প্রীতিময়, সৌহার্দ্যের বন্ধনে বাধা। সমাজে মিলেমিশে বসবাস করাই শুধু নয়, এক সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার  মতো দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের চালিকাশক্তিরই অংশ।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিক্রম দোরাইস্বামী।

রবিবার মহানবমী তিথিতে ঐতিহাসিক রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম পরিদর্শনে এসে সস্ত্রীক পুজো দেন ভারতের হাই কমিশনার (Indian High Commissioner) বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী (Vikram Doraiswami)। বাংলাদেশ সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও (India-Bangledeah Relation) রয়েছে এক অনন্য উচ্চতায় – এই সময় মন্তব্য করেন দোরাইস্বামী।

১৯৭১ সালে বর্বর পাকবাহিনী ডিনামাইট ও ট্যাংক দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম। শুধু তা-ই নয়, এখানকার পুরোহিত ও মন্দিরের সাধু-সন্ন্যাসী সহ বসবাসরত প্রায় শতাধিক মানুষকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছিল সে দিন।বিশাল এলাকা নিয়ে ভারতের অর্থসাহায্যে নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে রমনা কালীমন্দিরে। রমনা কালীমন্দিরের  আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে যান দোরাইস্বামী।

রবিবার মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোল, উলুধ্বনি, কাঁসর-ঘণ্টার শব্দ আর সেই সঙ্গে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে নবমীবিহিত পূজার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হল এ দিনের আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গার বিদায়ের সুরে ভক্তদের হৃদয় ভারাক্রান্ত। সোমবার বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।  

রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের জয়েন্ট সেক্রেটারি চৈতী রানি বিশ্বাস।

ছাত্র লিগের সাবেক নেত্রী এবং রমনা কালীমন্দির (Ramna Kali Temple) ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের জয়েন্ট সেক্রেটারি চৈতী রানি বিশ্বাস বলেন, “বাংলাদেশের রীতি অনুযায়ী সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলনে অনুষ্ঠিত হয় শারদোৎসব। এটি আমাদের সর্বজনীন। যদিও করোনাকালীন উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়েছ, তবু উৎসাহ ও আয়োজনে এতটুকু কমতি রাখা হয়নি।”

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই বলে থাকেন, ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। শারদোৎসব পালনে প্রধানমন্ত্রী অনুদানও দিয়েছেন, যা হিন্দু কল্যাণ টাস্ট্রের মাধ্যমে মণ্ডপের মধ্যে বণ্টন হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে চৈতি ধরা গলায় বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বাঙালির ত্রাণকর্তা হিসেবে উন্নয়নের কাজে হাত লাগিয়েছিলেন।  কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় ঘাতকের নির্মম বুলেটে সপরিবার প্রাণ হারান বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতা। 

চৈতি বলেন, “আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখেছি, কী ভাবে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে এক সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে হয়। তিনি আমাদেরও উদারতার মন্ত্রে দীক্ষিত করেছেন। ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। এটাই বাংলাদেশের হাজার বছরের কৃষ্টি-কালচার। প্রত্যেক নাগরিকের সুযোগ-সুবিধা, সম্পদের সুরক্ষা তথা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

দুর্গোৎসব বাংলাদেশে: রাজধানীর সব চেয়ে বড়ো দুর্গাপূজার আয়োজন রমনা কালীমন্দিরে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.