tarun dal durga idol
তরুণ দলের প্রতিমা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : চার দিকে এত আলোর রোশনাই, ঢাকের বাদ্যি। যেন শুধু ডেকেই যাচ্ছে, আয় দেবীদর্শন করে যা। তাই ফের বেরিয়ে পড়া জলপাইগুড়ির রাস্তায়।

muhuripara sarbojaninমুহুরিপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা সমিতি

শহরের একেবারে মাঝখানে এই পুজোমণ্ডপ। ৬৭ বছরের প্রাচীন এই পুজো প্রতি বছর মানুষকে কিছু নতুন দিয়ে থাকে। সেখানে যেমন থাকে আনন্দ, তেমনি থাকে কিছু সামাজিক বার্তাও। এ বছর তাদের থিম ‘সবুজায়ন’। পুরো মণ্ডপটিই যেন একটি বৃক্ষ-রাজ্য। সবুজ আর সবুজ। তার মাঝে অধিষ্ঠিত মা দুর্গা। গাছ ধ্বংস করলে পরোক্ষে মা-কে আঘাত দেওয়া হয়, তুলে ধরা হয়েছে এই বার্তা। প্লাইউড, বাঁশ, চট, প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব মণ্ডপ। গাছ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, এই সার কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মণ্ডপসজ্জা ও দেবী দুর্গার প্রতিমার মধ্য দিয়ে। সব মিলিয়ে খরচ প্রায় ৭ লক্ষ।

tarun dal pandalতরুণ দল

জলপাইগুড়ির বোসপাড়ার তরুণ দল ক্লাবের পুজোর জন্য অপেক্ষা করেন থাকেন শহরবাসী। ৫৮তম বর্ষে পা দিয়ে এ বারে তাদের চমক পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে তৈরি মণ্ডপ। প্লাস্টিক বর্জনের ডাক দিয়ে, চট, নারকেল দড়ি, পাট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পুরো মণ্ডপ। স্থানীয় শিল্পী নিমাই সুর তৈরি করেছেন মণ্ডপটি। মণ্ডপের গায়ে বিভিন্ন মডেল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপের অন্দরসজ্জাও একই ভাবে করা হয়েছে। সাযুজ্য রেখে প্রতিমা তৈরি করেছেন মৃৎশিল্পী জীবন পাল। মণিপুরি টেরাকোটারধাঁচের প্রতিমায় রয়েছে সাবেকিয়ানা। আলোকসজ্জায় চন্দননগর। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।

আরও পড়ুন: দেখে নিন জলপাইগুড়ির চারটি বড়ো দুর্গাপুজো
dishari pandal
দিশারী

কিছুটা দুরেই রয়েছে দিশারী ক্লাব। ৫৪তম বর্ষে পা দিয়ে এ বারে তাদের চমক ‘পিপলি’। ভুবনেশ্বর-পুরী পথে ওড়িশার একটি গ্রাম পিপলি। সেখানকার সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপের অন্দরসজ্জায়। বাইরেটা যদিও কাল্পনিক। সূদুর পিপলি গ্রাম থেকে নিয়ে আসা হয়েছে সেখানকার ব্যবহৃত জিনিসপত্র। সেখানকার চিত্রশিল্প, তৈরি করা ফানুস-আলোক দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়েছেন শিল্পী কানাই পাল। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে দৃষ্টিনন্দন দেবীপ্রতিমা তৈরি করেছেন মৃৎশিল্পী গৌতম সাহা। আর রয়েছে চন্দননগরের আলোকসজ্জা। খরচ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।

bamanpara sarbojaninবামনপাড়া সর্বজনীন

পুজো দেবী দুর্গার হলেও এই পুজোর এ বারের আকর্ষণ গণেশমণ্ডপ। প্রায় ৫০ ফুটের গণেশ মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি এটিই রাজ্যের মধ্যে সব চেয়ে বড়ো গণেশমূর্তি। এই গণেশপ্রতিমার মধ্যেই রয়েছে মণ্ডপ। পায়ের ওপর পা তুলে বড়ো ছেলে গণেশ মা দুর্গার সাম্রাজ্য রক্ষা করছে, সেই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মহিষাসুরকে বধ করতে কোন দেবতা কী কী অস্ত্র মা দুর্গার হাতে তুলে দিয়েছিলেন তা তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপের অন্দরসজ্জায়। মায়ের প্রতিমারও আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে এখানে। মহিষাসুরের চেনা আদল থেকে ভিন্ন রূপ দেওয়া হয়েছে অসুরকে। ৬৬বছরের প্রাচীন এই পুজোয় খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here