ত্রিপুরার একটি পুজোমণ্ডপের ঠাকুর, তৈরি হচ্ছে হাবড়ার বানিপুর মহেশতলায়। রাজ্য পেরিয়ে ঠাকুর যাবে ভিন্‌ রাজ্যে, এ আর বড় কথা কী। তা তো হামেশাই হয়। কিন্তু এ প্রতিমা, যে-সে প্রতিমা নয়। রীতিমতো হিরে আর সোনায় মোড়া। প্রতিমা গড়ছেন হাবড়ার বানিপুরের মৃৎশিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার৷habra-1

গত বছর ত্রিপুরার এই পুজোকমিটি মুক্তোর ঠাকুর করে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। সেই প্রতিমাও তৈরি করেছিলেন হাবড়ার এই মৃৎশিল্পীই। এবার তাঁদের লক্ষ্য সোনার প্রতিমা করার। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হাবড়ার বানিপুরে মহেশতলা এলাকায় চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে তার তোড়জোড়। প্রথমে শুরু হয়েছে প্রায় ৮ ফুটের মাটির দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ৷ এর পর সেই দুর্গাপ্রতিমার উচ্চতায় মানানসই সোনার গয়না অর্ডার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। অন্য দিকে ক্রমশ মাটির দুর্গাপ্রতিমার উপর ফাইবারের প্রলেপ দেওয়ার কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে৷ তার পর আমেরিকান ডায়মন্ডের ছোটো ছোটো দানা দিয়ে তৈরি এক ধরনের চাদর দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে প্রতিমাটি৷ সবশেষে হচ্ছে গয়না পরানোর কাজ৷ মায়ের অলঙ্কার থেকে শাড়ির বিভিন্ন নকশা, পুরোটাই সোনার কাজে ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

শুধু কি মা একাই হিরে-সোনায় সজ্জিতা ? না। এক যাত্রায় পৃথক ফল নয়। লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, সকলেই একই ভাবে মুড়ে থাকছেন সোনায়।

সোনার প্রতিমার মণ্ডপ তৈরি হবে দক্ষিণ ভারতের এক বিখ্যাত স্বর্ণমন্দিরের আদলে৷ সেখানেও থাকবে অসাধারণ কারুকার্য৷ মণ্ডপসজ্জায় ধাতু ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই ধাতুর ওপর থাকবে সোনার জলের প্রলেপ।

হাবড়ার এই গোটা কর্মকাণ্ডটি এবং আনুষঙ্গিক সব কাজ চলছে ত্রিপুরার ওই পুজো কমিটির অর্থানুকুল্যে। সমস্ত কাজটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সাহায্য নেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের। চব্বিশ ঘণ্টাই পুলিশি প্রহরায় চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।

প্রতিমার যাবতীয় কাজে মোট কত কিলো সোনা ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোন অনুমান না থাকলেও, শিল্পী জানান, এই প্রতিমা তৈরি করতে কমপক্ষে ৪কোটি টাকা মূল্যের সোনা ব্যবহার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here