kathi dancers
কাঠি নাচের শিল্পীরা। নিজস্ব চিত্র।

সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: দুর্গাপুজোয় কাঠি নাচ ও দাঁসাই নাচে মেতে থাকে জঙ্গলমহলের গ্রামগুলি। এ-ও গ্রাম্যসংস্কৃতির এক পরম্পরা। প্রতি বছর ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে চলে কাঠিনাচ। পাশাপাশি নবমীর দিন এলাকার বিভিন্ন জায়গায় আদিবাসীরা দাঁসাই নাচ নেচে নবমীতিথি পালন করে থাকে।

দুর্গাপুজোর সময়ই কেন এই উৎসব পালন করে আদিবাসীরা! সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞের মতে, এই সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত জনজাতিরা মনে করে, পার্বতী নামের কোনো আর্য কন্যা ছলে, বিশ্বাসঘাতকতায় তাদের রাজা রম্ভাসুরের পুত্র হুদুড়দুর্গাকে খুন করে এলাকার দখল নেয়। রাজার মৃত্যুতে জনজাতিরা পরাজয় বরণ করে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাঁচাতে কাঠি নাচ ও দাঁসাই নাচ নাচতে নাচতে তারা নিজেদের ভূমি ত্যাগ করে। আসলে সেই সময়ে আত্মরক্ষার কৌশল হিসাবে এই নাচ দু’টিই তারা ব্যবহার করেছিল। তাই  দুর্গাপুজোর চার দিন তাদের রাজার মৃত্যুকে স্মরণ করে কাঠি নাচ ও দাঁসাই নাচে মেতে থাকে তারা।

আরও পড়ুন টুসু বানানো হাতে ঝাড়গ্রামের দুর্গাপুজোয় ‘বর্ণপরিচয়’-এর দেড়শো বছর

কাঠিনাচে পুরুষরা মহিলা সেজে কাঠি সহযোগে নৃত্য পরিবেশন করে। দাঁসাই নাচে পুরুষেরা সৈনিকের মতোই তাদের নৃত্যকলা পরিবেশন করে। উভয় নাচের ক্ষেত্রেই  ‘হায়’ ও ‘হায়রে’ এই দু’টি বিয়োগান্ত শব্দ প্রয়োগ করে নাচের গান গাওয়া হয়।তীর-ধনুককে উলটো দিক দিয়ে ধরলেই দাঁসাইয়ে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রের মিল পাওয়া যায়।

পাশাপাশি গ্রাম্য জনজাতি সংস্কৃতিতে এই সময় ‘গেরুটিকা’ দেওয়ার নিয়ম পালন করা হয়। ষষ্ঠীর দিন বিকেলে গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির দুয়ারের চার পাশের দেওয়ালে লাল পাথর ঘষে, আর না হলে আলতার টিকা দেওয়া হয়। লোকবিশ্বাস মতে, ‘দুর্গা’র মতো কেউ প্রবেশ করে যাতে সন্তানসন্ততির ক্ষতি করতে না পারে তার জন্য এই ব্যবস্থা।

অবশ্য সাম্প্রতিক কালে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় সরাসরি হুদুড়দুর্গা বা মহিষাসুর স্মরণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ব্যপারে পুরুলিয়ার সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ কিরীটী কিরিটী মাহাত বলেন, গেরুটিকা দেওয়া এখনও সর্বত্রই পালিত হয়। এই নিয়ম পালনের সংস্কৃতি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হওয়ার প্রয়োজন। সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ বিমল মাহাত বলেন, পূর্বপুরুষেরা বলতেন, অশুভ শক্তি আটকাতেই এই প্রথার প্রচলন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন