durgapuja in gauri pandit's family
গৌরী পণ্ডিতের বাড়ির দুর্গাপুজো। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: ইন্দাস ব্লকের একটি ব্যতিক্রমী দুর্গাপুজো হল ইন্দাসের ভট্টাচার্যবাড়ির পুজো। তিনশো বছরের বেশি প্রাচীন এই পুজো বর্তমানে গৌরী পণ্ডিতের দুর্গাপুজো নামে পরিচিত। এই গৌরী পণ্ডিতই পণ্ডিতদের সভায় ঘোষণা করেছিলেন, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ অবতার। শোনা যায়, গৌরী পণ্ডিত এক মস্ত বড়ো মাতৃসাধক ছিলেন। নিজের স্ত্রীকে শ্রীশ্রী জগদম্বা জ্ঞানে পুজো করতেন। মাতৃপুজোর মধ্যে অন্যতম ছিল গৌরী পণ্ডিতের হোমের পদ্ধতি। তিনি নিজের বাঁ হাত শূন্যে ছড়িয়ে দিয়ে তার উপর এক মণ কাঠ সাজিয়ে হোমাগ্নি প্রজ্বলন করে ডান হাত দিয়ে ইষ্টদেবীর উদ্দেশে আহুতি দিতেন। হোম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাত শূন্যে রেখে কাঠের ভার ও হোমানল সহ্য করতেন। বর্তমানে গৌরী পণ্ডিতের বাম হাতের হোম প্রজ্বলনী মুদ্রাটি ইন্দাস ব্লক পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজে প্রতীকচিহ্ন রূপে ব্যবহার করা হয়।

gauri pandit's left hand
গৌরী পণ্ডিতের বাম হাতের হোম প্রজ্বলনী মুদ্রা। নিজস্ব চিত্র।

উল্লেখ্য, গৌরী পণ্ডিত শ্রীরামকৃষ্ণের লীলাসঙ্গী ছিলেন। ১৮২০ সালে তিনি ইন্দাসে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা রামকৃষ্ণ তর্কবাগীশ ও মাতা হেমবতী। নবদ্বীপ থেকে তিনি ‘গৌরকান্ত ন্যায়ভূষণ’ উপাধি পান। কাশীর সারস্বত সমাজ তাঁকে ‘তর্কভূষণ’ উপাধি দেন। তাঁর জন্মের আগে থেকেই ভট্টাচার্যবাড়িতে মাতৃ-আরাধনা শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, দক্ষিণেশ্বরে দু’ বছর (১২৭৭-৭৯ বঙ্গাব্দ) কাটানোর সময় ঠাকুরের উপস্থিতিতে গৌরী পণ্ডিত ভবতারিণীর মন্দিরে দু’ বার ওই অত্যাশ্চর্য হোম করেছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণের অবতারত্ব সম্পর্কে গৌরী পণ্ডিত যে উক্তি করেছিলেন –
“যে শক্তি সম্পন্ন হলে অবতার গনি।
আমি জানি আপনিই সে শক্তির খনি।।”
অর্থাৎ “যাহার অংশ হইতে যুগে যুগে অবতারেরা লোককল্যাণ সাধনে জগতে অবতীর্ণ হইয়া থাকেন, যাহার শক্তিতে তাঁহারা ঐ কার্য সাধন করেন, আপনি তিনিই।” ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব সম্পর্কে তাঁর এই উক্তটি সত্য বলে গনিত। এ ছাড়াও তাঁর বিভিন্ন লৌকিককাহিনি সর্বজনবিদিত।

আরও পড়ুন দ্বিভুজা গণেশজননীর পুজো হয় অশোকনগরের ধরবাড়িতে

ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্য ও এই দুর্গাপুজোর প্রধান পুরোহিত ধর্মপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেন, “ইন্দাসের মানুষের কাছে গৌরী পণ্ডিত এক আবেগের নাম। বংশপরম্পরা গত ভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম নীতি মেনেই আমরা এই পুজো করে আসছিল” তিনি আরও বলেন, ইন্দাস ব্লকের প্রাক্তন সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক পুস্পেন চ্যাটার্জি ইন্দাস ব্লকের প্রতীকচিহ্নস্বরূপ হোমাগ্নি মুদ্রাটিকে স্বীকৃতি দেন। বর্তমানে ইন্দাস ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্ষেত্রে ওই প্রতীকচিহ্নের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে পুস্পেনবাবু বলেন, “গৌরী পণ্ডিত এক জন মহান ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ এলাকার সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা। রামকৃষ্ণ বিষয়ক একটি গ্রন্থে গৌরী পণ্ডিত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।”

ঋণ স্বীকার: শিবপ্রসাদ চৌধুরী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন