‘স্থাপত্যের শেষ থেকে শুরু’ দেখতে হলে যোধপুর পার্কে

0
jodhpur-park
গত বছরের ঠাকুর ও মণ্ডপের কিছু অংশ
smita das
স্মিতা দাস

ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা শিব। আবার ধ্বংসের দেবতাও তিনি। তাই তিনি সর্বদা আরাধ্য। আর পৃথিবীর যে কোনো কিছুর শেষ ধরে নেওয়া যায় ছাই। আর সৃষ্টিকর্তার গায়েও ছাই লেপা। প্রাণের সমাপ্তি মানেই হিন্দুধর্ম মতে তা পরিণত হয় ছাইয়ে। আবার স্থাপত্যের ধ্বংস মানেই তার লয় ক্ষুদ্র ধূলিকণায়। তাই দিয়ে তৈরি হয় আবার নতুন সৃষ্টি। সেই ছাই দিয়ে আবার সৃষ্টির শুরু। সেই শুরুর কারণ আর যা-ই হোক আজকাল ছাই দিয়ে বানানো হচ্ছে ইট। অর্থাৎ ফ্ল্যাইঅ্যাশ। সেই ইট কাজে লাগছে বাড়িঘর বানানোয়। ঘর মানেই আবার সৃষ্টির আশ্বাস। সব কিছুই যেন কোথায় মিলেমিশে এক হয়ে যাবে যোধপুর পার্কের মণ্ডপে।

৬৭তম বর্ষের ‘স্থাপত্যের শেষ থেকে শুরু’ যোধপুর পার্কে। ছাইয়ের ইট দিয়ে তৈরি হচ্ছে গোটা মণ্ডপ। ছাইয়ের ইটের ওপর ভাস্কর্য করছেন শিল্পী বাপাই সেন।

এই বছরের থিমের নাম ‘স্থাপত্যের শেষ থেকে শুরু’। সমস্ত পরিকল্পনায় শিল্পী বাপাই সেন। তাঁর কথায়, কোনো যন্ত্রপাতির ব্যবহারে নয়, রীতিমতো হারিয়ে যাওয়া স্থাপত্যশিল্পকে হাতে করে ফুটিয়ে তোলা হবে এই মণ্ডপে। আর মানুষের ইতিহাসের সাক্ষী ছাই, তার লয়-বিলয়ের দেবতা মহাদেব। তাই সেই স্থাপত্যে থাকবে শিবের অসংখ্য মডেল। প্রত্যেকটিই শিল্পীর কল্পনাপ্রসূত। আর গোটা মণ্ডপও তৈরি হবে একটি কাল্পনিক মন্দিরের আদলে।

jodhpur-park
কাজ করছেন শিল্পী বাপাই সেন

প্রতিমাশিল্পী অমল পাল। সুমিত সচিন আবহসংগীতে। আলোকসজ্জায় রানা ইলেকট্রিক।

গত বারের থিমের নাম ছিল ‘নিরুদ্দেশের খোঁজে’। সে বারে হারিয়ে যাওয়া সম্পদ বাঙলার পাটশিল্পকে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছিল যোধপুর পার্ক। সেই হারিয়ে যাওয়া পাটশিল্পের সাহায্যে তুলে ধরা হয়েছিল রোজকার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক স্মৃতিই। সেখানে যেমন ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতি, তেমনই ছিল লাট্টু খেলা, রান্নাবাটি, বৌ বাসন্তী খেলা, টানা রিকশা, হাওড়ার ব্রিজ থেকে আরও অনেক কিছুই। থিমের ও দৃশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছিল আবহ। সেখানে শোনা গিয়েছিল, বেতার দূরদর্শনের হারিয়ে যাওয়া শব্দ ইত্যাদিও।

২৮ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে। এখনও পর্যন্ত যদিও সে ব্যাপারে কোনো উত্তর এসে পৌঁছোয়নি। তবে প্রতি বার যে হেতু মুখ্যমন্ত্রীই উদ্বোধন করেন তাই পুজো কমিটি আশাবাদী।

ঢাকুরিয়ার দিকে থেকে গেলে সেলিমপুর বাসস্টপে নেমে ডান দিকে গলির ভেতর পার্কের ওপর পুজো।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.